কুটঘাট এর গল্প

কুটঘাট

 আমাদের শহরে গঙ্গা নদী যেমন রয়েছে তেমনি হুগলি নদী ও রয়েছে। তবে আমাদের কলকাতায় বিশেষ নদী তথা গঙ্গা নদী তথা হুগলি নদী বেশেষ ঘাট গুলি অন্যতম হলো কুদঘাট। তবে এই কুদঘাট রয়েছে, বরাহনগরে তবে এই যায়গার নাম কে রেখেছিল জানিনা এখন বলা হয় যে এখানে শুয়োরের নগর ছিল যা পরবর্তীতে বরাহনগর। এখন অবশ্য এটি বরাহনগরে উৎস। তবে এখন কুটিঘাট নাম দেওয়া হয়েছে, কারণ এই নাম টি দেওয়া হয়েছে এর কারণ বিভিন্ন কারণে দেওয়া হয় এর কারণ অবশ্যই সেই সময় মানুষের কুঠি ছিল। তবে এখানে রয়েছে বিভিন্ন জায়গায় মানে যেগুলো যাওয়ার জায়গা! তবে শোনা যায় এই এলাকা টি ছিল ডাচ দের, আগে কিন্তু ব্রিটিশদের রাজত্ব এখানে কায়েম হয়নি বিভিন্ন মানুষের ঢল এই যায়গা বিভিন্ন সময়ে এসেছে। ঘাটের পাশে ই একটি স্কুল বাড়ি রয়েছে তবে এখন আর স্কুলটি চলে না, স্কুলটির ১৮৮৬ সালে নির্মিত একটি স্কুল বারাণনগর ভিক্টোরিয়া স্কুল। কিছুদুর যেতেই আমরা একটা ডাচ কুঠি ছিল তবে এখন আর ওগুলো চলে না। স্কুল থেকে ঐ কুঠির দুরত্ব বেশি নেই সারা বিভিন্ন বাড়ি উঠে গেছে, এমনকি এই কথা শোনা গেছিল যে ঐ ডাচ কুঠি কে বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরি হবে। সেই সময় বিভিন্ন জায়গায় ডাচদের বাড়ি ঘর ছিল তাদের এ এলাকায় বিভিন্ন বাড়ি ছিল, জানা যায় ১৭ শতকে ডাচ দের কুঠি ছিল এই খানে আরো জানা যায় যে স্ট্রেংশাম মাস্টার একটি শূকর কারখানার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ শূকর জবাই করে রপ্তানির জন্য লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। পরবর্তীতে এটি পাট ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হয়। তবে উপরুক্ত কথা গুলো সবই শোনা কথা। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এই বাড়ি টা কোনো ক্ষতি হয় নি, তবে আরো এগলে আমরা জানতে পারি যে সামনে একটি কালী মন্দির রয়েছে। হ্যাঁ এই কালী মন্দির অনেক পুরনো, এই মূর্তি তৈরি করেন জয় চন্দ্র মিত্র এটি তৈরি হয়ে ছিল 1850 সালে। তবে জানা যায় যে এখানে একসময় ডাচদের কবরস্থান ছিল, তার উপরে কিন্তু এই মন্দির টি অবস্থান করছে। তবে এখানে আপনারা দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি থেকে অনুপ্রাণিত হয়নি, বরং এই মন্দির মাধ্যমে ছয় বছর পর রণীরাসমনি ঐ মন্দির টি তৈরি করেন।

 সেই বিষয়ে বিভিন্ন মতামত আছে, এই মন্দিরে শিব এর বারোটা মন্দির রয়েছে এখানে। মা কালী কে বলা হয় কৃপাময়ি এবং এখানে একমাত্র একটি পাথর দিয়ে সবকটি মুর্তি তৈরি হয়েছে। এখন যত এগিয়ে যাচ্ছি তত সব পুরোনো বাড়ি দেখা যাচ্ছে, তবে বাড়ি গুলি পুরনো ঠিকই কিন্তু বাড়িগুলো অবস্থা খুব খারাপ, এক সময় তো উত্তর কলকাতার পাড়া গুলির আড্ডা বসতো এখন অবশ্য বুড়ো লোকেরা বসে। এবার আমরা কাঁচের মন্দির দেখবো, যা পরবর্তীতে হয়ে গেছে Glass Temple হয়ে গেছে। এটি পরিচালনা করেন রামকৃষ্ণ মিশন আর এটি রয়েছে হুগলি নদীর তীরে, তাছাড়া ঐ মন্দির টি সামনে রয়েছে একটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা বাড়ি, কিন্তু বাড়ির মাঝখানে রয়েছে একটি শিশু কে কোলে নেওয়া দেবপরি আর রয়েছে একটি মার্বেল পাথরের তৈরি একটি চাতাল। এই খানে একটি মন্দির রয়েছে যার নাম পাঠবাড়ি এই খানে, নাকি শ্রি শ্রি চৈতন্য মহাপ্রভুর তার যাত্রা পথে মধ্যে একটি মন্দির রয়েছে, এইটা নাকি পাঁচশ বছরের পুরনো এখানে নাকি চৈতন্যদেব থেমে পাঠ শোনেন। এখানে নাকি চৈতন্যদেব হিন্দু ধর্মের পাঠ শোনেন, তার পর থেকে এখানে নাকি চৈতন্যদেব পাদুকা পুজিতো হয়। এখন এই সময় এখানে আরও কিছু রয়েছে সেটা হলো গ্রন্থাগার সেখানে নাকি চৈতন্যদেবের কিছু পুঁথি পাওয়া যায়। এখানে এখনোও কিছূ বাড়ি রয়েছে তবে তার সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট।ডাচ কুথি এখন আর নেই। যা অবশিষ্ট আছে তা হলো বাইরের দেয়াল আর চারিদিকের ঘন গাছপালা। কেবল ওই গাছটিই, যার শিকড় দেয়ালের গভীরে প্রোথিত, তার অতীতের গৌরবের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - https://share.google/0EY7BaUhKrpDp9I3C


Comments