পলাশির যুদ্ধের আসল হিরো রা

পলাশির যুদ্ধ 

 আমাদের কলকাতার তথা বাঙালির জায়গা হতো না যদি পলাশির যুদ্ধ না হতো। আসলে মানুষের জন্য যখন কিছু হয় তখন কেউ জানে না সেটা ভালো হচ্ছে নাকি বাজে হচ্ছে আর সেই জন্য হয়েছিল যুদ্ধ, যার ফলে বাঙালি জাতির একটা নাম সারা বিশ্বে ভারতের তথা বাঙালির নাম জড়িয়ে। হ্যাঁ আমরা জানি যে ক্লাইভ এর এই যুদ্ধ জিতেছিল এবং ভারতের ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শুরু হয়। এরপর থেকেই অনেকেই আমার সিরাজুদ্দৌলা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের ব্যবহার করেছে যার জন্য ঐতিহাসিকরা সিরাজকে খারাপ কিংবা ভাল তবে একই সঙ্গে সিরাজ কীরকম সেটা ভালো ভাবে জানা যায় না। কিন্তু এই যুদ্ধে অংশ ছিল দুই বীর একজন মীর মর্দন এবং আরও একজন হলো দেওয়ান মোহনলাল। এরা যতক্ষণ না শেষ হয়েছিল ততক্ষণে লড়াই চালিয়ে গেছিল এই বাংলার জন্য, তথাকথিত হিরোর উপাধি দেয়া হয় তাহলে তারা এরাই। যতদিন না পলাশির যুদ্ধ শুরু হয় ততক্ষন এই পরিবারের চর্চা করা ভালো, তৎকালীন নবাব আলীবর্দী খান এই বাংলায় রাজত্ব চালিয়ে ছিল, এটা মনে রাখতে হবে সিরাজুদ্দৌলা ছিল তার প্রিয় নাতি। তার মৃত্যুর পর সিরাজ হবে তার রাজত্বের উত্তরাধিকারি। এই বিষয়ে বাড়ির বা নবাব পরিবারের লোকজন রাগ করে ছিল, যার ফলে পলাশির যুদ্ধ হয়েছিল। মাত্র তেইশ বছর বয়সে সিরাজ নবাব হন, তিনি কিন্তু একদম শেষ স্বাধীন নবাব। 

শেষ নবাব 

তার নবাব হওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে অনেকেই স্বরযন্ত্র শুরু করে, মনে রাখতে হবে সবকিছু হচ্ছে তৎকালীন মুর্শিদাবাদ এ এই মুর্শিদাবাদ নবাবের রাজধানী। সবার আগে যিনি সিরাজের উপর রেগে ছিলেন তিনি হলেন তৎকালীন সিরাজের কাকা ওরফে মীর জাফর। কারণ তিনি জানতেন যে সিরাজের অনেক গুলো বৌ এবং পুরো মুর্শিদাবাদ ওর নিজের কিন্তু তা সত্বেও তিনি মীর জাফর জায়গায় তৎকালীন মীর মর্দন কে বসিয়ে ছিলেন। যার ফলে অর্থের ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যায় মীর কাসিম হাত থেকে। কিন্তু মীর মর্দন কী রকম কাজ করতেন, এই টা ছিল মীর মর্দন এর প্রমোশন এখানে তাকে নবাবের সেনাবাহিনীর বকশি বা বেতন-কর্তা পদে উন্নীত হন। 

সম্ভবত মীর মর্দন 

অন্যদিকে আগেই বলেছি মীর কাসিম এর অবস্থা, অন্যদিকে পুরনিয়ার এক কায়স্থ পরিবারের ছেলে মোহনলাল কে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ওখানে তখন দীয়ান বলা হত। একটু পুরনিয়া জায়গায় টা কোথায়, তৎকালীন সময়ে এটি বিহার এর একটি রাজ্য, কিন্তু তখন বাংলাই সব ঐ জন্য ওখানে থাকেতন তখন। আর তাছাড়া সিরাজ এর একটা উদ্দেশ্য ছিল জগৎ শেঠ কাজ থেকে সমস্ত সম্পত্তি নিজের কাছথেকে নিয়ে নেওয়া। 

মীর মর্দন এর কবর 

ব্রিটিশদের সাথে সিরাজ বিশেষ সুবিধা হয়নি কারণ সিরাজ দেখতে পারতো না এই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কে, সিরাজ লক্ষ্য করে দেখেছিলেন যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটিশ দের দস্তকে জানিয়েছিল যে তাদের পাওয়া দস্তক অনুযায়ী তারা কর দিত। যার ফলে যে কেউ বিনা কারণে বা অকারনে এই কর নিত এবং সময় মত ফেরত দিত না, এর ফলে বেআইনি ভাবে কর নিত যার ফলে সিরাজ 1756 সালে কলকাতা আক্রমণ করল, তখন কিন্তু ফোর্ট উইলিয়াম বাড়ানোর কাজ চলছিল। যখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কে সিরাজ ফিরছেন তখন তিনি যায়গাটির নাম রাখেন আলিনগর। কিন্তু 1757 সালে ক্লাইভ মাদ্রাস থেকে কলকাতার এই যুদ্ধে জয় করেন তার সাথে ছিলেন ওয়াটসন। 

ঐতিহাসিক B K Gupta তার বই Sirajuddaullah and the East India Company, 1756-1757 (1962) লিখেছেন যে তৎকালীন সময়ে কিভাবে মাদ্রাস থেকে একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন জর্জ কাউন্সিলের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে, জগৎ শেঠ,রায় দুর্লভের (দেওয়ান) মতো বাংলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তার সাথে ছিল মীরজাফর! সেই সময় রর্বাট ক্লাইভ মীরজাফর কে চিঠি লিখে জানিয়েছিল : “ কোম্পানির জন্য এটা কতই না গৌরবের হবে যদি তারা এমন একজন নবাব পায় যিনি তাদের প্রতি অনুগত! এই সব কথা কিছুই জানতে না নবাব, বলা ভালো শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। যুদ্ধের দিন তার অপরাজেয় সেনা। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি দেখলেন যে পঞ্চাশ হাজার সেনা, একই সঙ্গে দশ হাজার হাতি এবং কামান দাঁড়ানো ছিল, এই ঘটনা ঘটে 1757 সালের জুলাই মাসের তেইশ তারিখে। ক্লাইভ নেতৃত্বে ছিল তিন হাজার সেনা, শুধু তাই নয় এরা একটু কেউ জায়গা থেকে সরে নি। আবার অন্য দিকে সেনাবাহিনী যখন এই অবস্থা তখন মীর মর্দান নিজের কিছু সেনা নিয়ে ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে লড়াই করে, কিন্তু তিনি ভাবতে পারেননি তাকে কামান এর গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে, সেখানে তিনি মারা যান। আর অন্যদিকে দেওয়ান মোহনলাল তাঁর ছোট ছেলেকে নিয়ে জুরানপুর কালী পীঠে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় পালিয়ে যান, আর তাঁর বড় ছেলেকে মীরান মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি প্রায় অজ্ঞাতসারেই মৃত্যুবরণ করেন। অবশেষে যুদ্ধ শেষ হয়, নবাব হয় মীরজাফর এবং ছেলে মীরানের নেতৃত্বে সিরাজের মৃত্যু হয় শুধু তাই নয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উপর নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে।যদিও সেই দুর্ভাগ্যজনক দিনে তাঁরা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন, সিরাজ উদ-দৌলা, মীর মর্দন এবং দিওয়ান মোহনলাল জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নায়ক হিসেবে অমর হয়ে গেছেন। পলাশি এখনো রয়েছে তবে ব্রিটিশ শাসন নেই, কিন্তু আমার এই মহানায়ক দের ভোলার যায়গা নেই!

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - https://share.google/5N8DpAPWa3DCDzaIp

Comments