- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| হুসান সাং মনাস্ট্রি |
আমাদের কলকাতার মধ্যে একটি ব্যাপার আছে, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান,রোমান, আমেরিকার এবং সবশেষে ব্রিটিশ অথার্ৎ ইংল্যান্ড আমাদের উপর রাজত্ব করে গেছে। তবে চীনারা আমাদের এখানে থেকেই গেছে বিশেষ করে বৌদ্ধরা! এই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনেক অনেক মোনেস্ট্রি অনেকেই একে মন্দির বলেন, আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো এটি যার কথা আজকে উল্লেখ করবো। অনেকর ধারণা এই মঠ বা মন্দির টি হিমালয় কোনো ক্ষেত্রে অবস্থান, কিন্তু এই ধরনাআ সম্পুর্ণ ভুল এই মন্দির টি অবস্থান করছে কলকাতায় তাও আবার তিলজলা এলাকায় আরো ভালো ভাবে বললে রুবি হাসপাতালের ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসে। অনেকেই আবার অটো করে এই হুয়ায় সাং মঠে যায়। এই মন্দিরের যাওয়ার জন্য আমাদের সাথেই ছিলেন ডোমেনিক লি, জিনা কিনা চতুর্থ পুরুষ যার বাড়ি চায়না, কিন্তু তিনি কলকাতা কে নিজের বাড়ি বলেই মনে করেন আর আমাদের কে অভিনন্দন জানানোর উপস্থিত ছিলেন অন্যতম প্রধান সন্ন্যাসিনী নান হুই রং। তাকে কলকাতা থাকতে তাইওয়ান থেকে দুশক ধরে এই মঠের দেখাশুনা করেন। এখানে বলে নেওয়া দরকার যে চীনারা কিন্তু ভারত তথা কলকাতায় আসে নতুন কাজের খোঁজে, এমনকি এই অবস্থা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিয়েছেল। প্রথমে তো হলো চিনির কল আর পরবর্তী কালে নিজেরা পরে এসে তৈরি করলো নিজেদের রোজকারের বিভিন্ন পথ। ডোমেনিক আর হুই রং চীনা ভাষায় কথা বলে ছিল, পরবর্তী সময়ে ডোমেনিক ঐ চীনা ভাষার পরিবর্তন করে সহজ ভাষায় বোঝায় কী কথা হলো তাদের মধ্যে। এই মঠটি স্থাপন করেছিল চিয়েন উ 1968 সালে পরবর্তীতে এটি হয়ে ওঠে লামা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় যে এটি আরো বড় হতে থাকে এছাড়া রয়েছে নিজেদের বৃদ্ধাশ্রম। এই সন্ন্যাসিনী যখন এই মঠে এসেছিলেন তার দুই দশক পর এখানে 10 জন অনাথ বাচ্চাদের চীন এবং বৌদ্ধ ধর্ম পড়ান এবং তারা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলেও যায়, শুধু তাই নয় এক সময় এই মঠ ছিল শহর থেকে অনেক দূরে কিন্তু এখন সবই কাছে চলে এসেছে। এখন গেলে দেখা যাবে এই মঠে ধোঁকার ক্ষেত্রে দেখা যাবে একটি বড়ো বিল্ডিং দাঁড়িয়ে আছে সেই জন্য হুয়ায় সাং মঠে ধোকা ক্ষেত্রে অসুবিধা আর একটা কারণ হলো শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে না, এখানে শক্তি হিসেবে বলা হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় শক্তি। এর ফলে হংকং থেকে একজন বিশেষজ্ঞ কে আনা হয়, তিনি বলেন যে আমরা একটা ব্যবস্থা নিতে পারি যার ফলে তিনি মঠ এর অন্য এক জায়গায় যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন এবং এটি ছিল স্লাইডিং দরজা। যার ফলে হুয়ায় সাং মঠে ওই দরজা ব্যবহার হয়। আমাদের প্রথম জায়গা হলো প্রার্থনা করার ঘর, ঘর অনেক বড় তাই চারদিকে ভগবান বুদ্ধের মূর্তি, মূর্তি গুলি তবে এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ছবি। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন বুদ্ধি মূর্তি চারিপাশ রয়েছে চীনারা দেব ও দেবীর মূর্তি।
![]() |
| প্রার্থনা কক্ষ |
এছাড়া রয়েছে আলাদা করে থাকার জায়গা এবং খাওয়ার জায়গা, শুধু তাই নয় এখানে বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন আঁকা দেওয়াল জুড়ে রয়েছে এই গুলো কে বলা হয় ফ্রেস্কো। শুধু দেওয়াল নয় বিভিন্ন স্তম্ভ, ছাদ এরাও এর অংশ হয়েছে। শুধু ফ্রেস্কো কথা টা ঠিক নয় আবার ঠিক ও ! আসলে এর মানে হলো দেওয়াল এর উপর আঁকা, এটি একটি ইতিলিও শব্দ। তবে হ্যাঁ এইখানে পুঁজির খুব অভাব তাই স্থানীয় শিল্পীদের উপরে এই কাজগুলো দেওয়া হয়, তবে হ্যাঁ তিনি উল্লেখ করেন যে রোজকার প্রভাত সঙ্গীত হয় মাসের পনেরো দিন অন্তর চিনা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তবে সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাবস্যা এবং পূর্ণিমা অনুযায়ী। আর রোজকার প্রার্থনা অনুযায়ী একই সঙ্গে বাজে ড্রাম এবং ঘন্টা শুধু তাই নয় এখানে রয়েছে চীনা ক্যালিগ্রাফি।হসাওন সাং স্মৃতি হলের দিকে এগিয়ে গেলাম, যেখানে বিখ্যাত চীনা পর্যটকের একটি মূর্তি রয়েছে, যিনি মহান ভারতীয় রাজা হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারত সফর করেছিলেন। এই হলটি একটি গ্রন্থাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এবং এখানে তাকগুলিতে সুন্দরভাবে সাজানো চীনা ধর্মীয় বইয়ের একটি দুর্লভ সংগ্রহ রয়েছে।হুয়ান সেং স্মৃতিসৌধ থেকে সংলগ্ন চীনা কবরস্থানের এক চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে ঘোড়ার নালের মতো আকৃতির কবর রয়েছে। নান হুই রুং উল্লেখ করেন যে, আধুনিক যুগের অনেক চীনা কবর দেওয়ার চেয়ে শবদাহ করাকেই বেশি পছন্দ করতেন। তিনি আমাদের মৃতদের ভস্ম রাখা একটি পৃথক ভবনে নিয়ে গেলেন। এটা দেখতে অনেকটা ব্যাংকের লকারের মতো ছিল, যেখানে সারি সারি ছোট ছোট প্রকোষ্ঠে লকারের মতো ভল্টে ভস্ম রাখা ছিল। ব্যবহৃত প্রকোষ্ঠগুলোতে একটি কলসিতে ভস্ম রাখা ছিল এবং সেগুলো সিল করে দেওয়া ছিল। সেখানে মৃত ব্যক্তির নাম ও মৃত্যুর সাল চীনা ভাষায় লেখা ছিল। অব্যবহৃত প্রকোষ্ঠগুলো খোলা ছিল। সোজা সামনে একটি ছোট বেদি ছিল, যেখানে একজন চীনা দেবতাকে স্থাপন করা হয়েছিল, যিনি মৃতের ভস্ম পাহারা দিচ্ছিলেন বলে মনে হচ্ছিল।
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - https://rangandatta.wordpress.com/2013/07/03/hsuan-tsang-monastery-paschim-chowbagh-calcutta-kolkata/
Calcutta
Calcutta Heritage
Chinese church
Chinese temple
Church
Heritage
Heritage of Kolkata
History
Kolkata
- Get link
- X
- Other Apps


Comments