কাটসু কারি ইতিহাস

কাটসু কারি

আমাদের খাবারে উৎস বিভিন্ন রকমের বিশেষ করে ভারতের খাবারের। আসলে আমাদের যেখানে যাই খাবার আমাদের পিছু ছাড়েনা, সে আমারা বিদেশে যাই কিংবা দেশের অন্য কোনো যায়গায় খাবার আমাদের পিছু ছাড়েনা। ও দিকে আমাদের নার্গিসি কোফতা হয়ে গেল বিদেশিদের ডিমের ডেভিল! আসলে ব্যাপারটা কি ছিল ডিম সিদ্ধ করে তার পর ভেজে উঠিয়ে নিলেই,হতো ওদিকে আবার মোঘলদের রাজকন্যা নিজেকে দেখতে খুব ভালো বাসতেন সেই জন্য তার নাম দেওয়া হয় নার্গিসাস। 

নার্গিসসাস কোফতা

তার বায়েটা সাদা আর ভেতরটা হলুদ, এই করে হলো কোফতা এই নাম, ব্রিটিশ সৈন্যরা আসলো আর এই খাবার নিয়ে গেল বিদেশে আর সেখানে তার নাম হয় ডিমের ডেভিল। ঠিক এমনি ভাবে আসলো জাপানি খাদ্য কাটসু কারি! হ্যাঁ অনেক হয়তো জানেন যে জাপানি খাবার সারা বিশ্বে জুড়ে গেছে। এই ধরুন জাপানি খাবার কাটসু কারি, এর আবার ইতিহাস আছে বলা হয় ব্রিটিশ সরকার এই কারি ঝোল তৈরি জন্য মশালার বিপুল সমাহার এবং রান্নার পদ্ধতি ছিল। আঠেরো থেকে উনিশ শতকের সময়ে যখন ব্রিটিশ সরকার তাদের নিজেদের দেশে ফেরার কথা ভাবছে, তখন ঠিক হল এই কারি ওরফে ঝোল নিজের দেশে নিয়ে যাবে। এমনকি ব্রিটিশ অফিসারেরা নিজেরাই মশলা ঠিক করে নিয়ে জেতেন ইংল্যান্ড এ। পর্বতিকালে ব্রিটিশ রাঁধুনি নিজের রাই কারিতে ময়দা মিশিয়ে ছিল এবং নিজেদের দায়িত্বে ময়দা মেশানো হয়েছিল যার ফলে কারিতে একটু মোটা হয়েছিল যার জন্য এই কারিটি ব্রিটিশ কারি হিসেবে নাম হয়। উনিশ শতকে ব্রিটিশ এই এই কারিটি একটি বিশেষ পদ হয়ে যায়, তবে এটি নাকি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর পদ। তবে এই পদ্ধতি তখন জাপানি খাবার ইয়োশোকু নামে পরিচিত হয়। পর্বতিকালে এই কারি তৎকালীন জাপানি রান্নার বইতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। জাপানে এই কারি অন্যতম ভাবে সুস্বাদু করে তুলেছিল তাদের ঝোলে সামান্য মিষ্টতা এবং ঝোলের গঠন। জাপানে এই ঝোল বা কারি কে অন্যতম ভাবে গুরুত্বপূর্ণ করেছিল বিভিন্ন সবজি, যেমন পেঁয়াজ, আলু, গাজর প্রমুখ। তবে এই দেশের মতো নয় তার থেকে কিছু টা আলাদা সে আমি লেখার মাধ্যমে বোঝতে পাব না। কাতসু কারি কিন্তু জাপানে নিজেদের রাজত্ব শুরু করে বিংশ শতকের মানে এখনকার সময়ে, এই কারি ওরফে ঝোল যেমন তৃপ্তি দায়ক, অন্যদিকে পারিবারিক তার সাথে অবশ্যই প্রয়োজনীয়। তবে এই ঝোল বা কারি উৎস খুঁজে তে হবে খুব বিচক্ষণতার সাথে, আসলে এই ঝোল বা কারি তে আমাদের গরম মশলা আভাস চিনতে পারাটা খুবই স্বাভাবিক। অনেকেই আবার এই ধারণা পোষণ করে যে ব্রিটিশরা মানে বণিকেরা ভারতে থেকে জাপানে নিয়ে এসেছে ছিল গরম মশলা, আবার অনেকে এই মত সাথে যুক্ত নন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন লোক বিভিন্ন কথা বললেন, জানা যায় মেইজি পুনুঃগঠনের সময়ে ব্রিটিশ নাবিকরা ঠিক করেন যে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জন্যে জাপানিরা কিছু একটা রান্না করা দরকার, জাপানিরা এবং ভারতীয়রা অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ, ব্রিটিশরা তাদের রাঁধুনিদের অনুপস্থিতিতে নিজেদের প্রিয় খাবারগুলো নিয়মিতভাবে পুনরায় তৈরি করার জন্য মশলার মিশ্রণকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে কারি পাউডার নামে পরিচিতি লাভ করে। জাপানি রা এই ঝোলের মধ্যে মাছ ও মাংস মেশাতো তবে মাঝে মাঝে,একই সঙ্গে বলে রাখা দরকার যে কারি যে উপনিবেশদারা স্থাপিত এই কথা প্রমাণ হলো। ভারতীয় খাবার কে মোটেই ভালো ভাবে নেয়নি, পরবর্তী কালে ব্রিটিশ সরকারের রাঁধুনি নিজের জায়গায়া চলে গেলে, তারা করারি মধ্যে একটি এশিয়াটিক সবজি মিশাতে থাকে আর পুনরায় তৈরি করার জন্য মশলার মিশ্রণকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে কারি পাউডার নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে আরও একটি কথা শোনা যায় যে জাপানের সমুদ্র ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ডুবি হয়,আর যার ফলে যারা বেঁচে গেছিল তাদের কে সস্তায় পাওরুটি ও কারি দিয়ে দেয়। একই সঙ্গে জাপানিদের রান্না আরও বেশি করে করতো শুধু তাই নয় জাপানি নৌবাহিনীও কারি গ্রহণ করে এবং এতে নিজেদের স্থানীয় স্বাদের ছোঁয়া যোগ করে। আর এভাবেই ব্রিটিশরা অজান্তেই কারির প্রচলন করে জাপানিদের কাছে।

এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো কাতসু কারি। জাপানি রা এই পুষ্টি কর খাদ্য কে কাজে লিপ্ত করে হয়ে তথা কথিত জাতীয় খাবার। এরপর অবশ্য এই খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কিছু যোগ করা। এরপর 1974 সালে জাপানের আইচি-তে একটি কফি শপ নিজস্ব কারি ও ভাত বিক্রি শুরু করে। খুব শীঘ্রই কোকো ইচিবানিয়া ভালো এক বাটি কাটসু কারি সন্ধানকারীদের জন্য একটি চমৎকার জায়গায় পরিণত হয় এবং এটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম জাপানি কারি চেইন। তবে কারি কথা থেকে এসেছিল এবং বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও কারি মানে কারি, সে অবসই মাছ কিংবা মাংস!

ছবি সূত্র - internet

তথ্য সূত্র - https://share.google/SyiY1Rmzi3gmdyxXR

https://homegrown.co.in/amp/story/homegrown-explore/how-india-gave-japan-its-beloved-katsu-curry

Comments