জাপানিদের বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কলকাতা

কলকাতায় জাপানি বোমা বর্ষণ 

 

আমাদের কলকাতা তথা ভারতবর্ষে ছিল ব্রিটিশ সরকার রাজ, তবে আর কদিন পরেই স্বাধীন হতে চলেছে ভারতবর্ষ। কিন্তু তার মধ্যে লেগে গেল বিশ্বযুদ্ধ। যেহেতু ভারতের ব্রিটিশ আইন কানুন চলতো সেই জন্য আমরা হয়ে গেলাম শত্রু, সেই জন্য হামলা চালায় জাপানিরা। সেই জন্য ভারত তথা কলকাতায় বিভিন্ন জায়গায় বিমান বাহিনীর অনুমতি নিয়ে রেখেছিল ব্রিটিশ সরকার, সেই অনুযায়ী অনেক গুপ্ত বিমান ঘাঁটি তৈরি হয়েছিল, যেমন পশ্চিমবঙ্গের ওন্ডাল বিমান ঘাঁটি। শিবরাম চক্রবর্তী লিখেছেন 'বোম ফেলেছে জাপানি' আসল কথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপানিরা কলকাতায় বোম ফেলেছিল। বালিগঞ্জ, ময়দান ও খিজিরপুরে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় খিদিরপুর কে, তবে আরও ক্ষতির হয়েছিল অন্যান্য এলাকায় কারণ সব খবর এখনকার মতো কাগজ পাতায় থাকতো না। তবে অনেকেই INA রে কে সাপোর্ট করত কারণ ওটা ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর, যারা বোর্মা থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু হয়ে লড়ছিলেন এখন অবশ্য অনেকেই মনে করেন যে সুভাষচন্দ্র বসু যখন দেখে যে তার আর্মি ক্যাম্পে বিশেষ করে জাপানিরা হারছে তখন ছিল তার এই বক্তব্য, অবশ্য অনেকেই মনে করেন যে এটা ঠিক নয়, ব্রিটিশ সরকার যখন হারিয়েছে তখন অন্য যায়গা থেকে শুরু করতে হবে! তবে যার যেটা মতামত, তাছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় চলছে এই নিয়ে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন যে তখন এই রকম কিছু ছিল না, চীনারা জাপানিদের বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে ছিল এবং তাদের একটা কথা ছিল চীনারা যেভাবেই হোক একটা ফ্রোন্ট দখল করা। চীনারা বিভিন্ন ভাবে জাপানি সেনাদের সাহায্য করেছিল যেমন গুলি দিয়ে তেমনি জ্বালানি দিয়ে, আর মজার ব্যাপার হলো এগলো চীন থেকে ভারতে আসতে বিশেষ করে কলকাতার খিদিরপুর ডক এলাকায় আর আস্তে আস্তে এগুলো আবার বোর্মা পৌঁছে যেত আরো রেল স্টেশন বা রেল পথ ছিল এগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্য তাদের মধ্যে আসাম, বার্মা ছিল অন্যতম। 

কলকাতার উপর জাপানি বোমা ফেলার  


তৎকালীন কলকাতার অন্যতম অসুবিধা ছিল জাপান ও বজবজ মধ্যে তেল সরবরাহ করা, কিন্তু এটা তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল কারণ এই তেল সরবরাহ চললে মৈত্র শক্তি এদের কাছে হেরে যাবে, আর জাপানিরা হবে সেরা। তখন কিন্তু জাপানিরা ভারতের তেল নিত কিন্তু যে ভাবে হক সেটি বন্ধ করে, এর পরিবর্তে জাপানিরা রাতে বোম ফেলতো। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ডিসেম্বর মাসের এক সকালে জাপানি বিমান বাহিনীর একটি হামলা চালায় এই বিমান বাহিনীর পুরো নাম ছিল Imperial Japanese Army Air Service, যার ফলে খিদিরপুর ডক অঞ্চলের বহু মানুষ মারা যায় শোনা যায় তাদের সংখ্যা ছিল পাঁচশ এর বেশি থেকে কম নয় আরো আছে সেই সময় ডক থাকা জাহাজ গুলি অবস্থা খারাপ হয় শুধু তাই নয় অনেক কুলি মারা যায়। 

হামলা চালানোর জন্য ক্ষতি হয় কলকাতার 

তবে হ্যাঁ জাপানি সেনাদের ক্ষতি হয়, তাছাড়া মিত্র পক্ষের সেনাবাহিনী হামলা চালায়। জানা যায় প্রায় তিন বছর তারা কলকাতা বোমা ফেলেছিল 1942 থেকে 1944 জাপানি বিমান অর্থাৎ Imperial Japanese Army Air Service. তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা কোন বিমান ব্যবহার করেছিল যেমন Hurricanes, Spitfires, Typhoons, Lysanders, Beaufighters . শুধু তাই নয় তারা বুইগাছি নাম এর একটি জায়গায় সব চেয়ে বড় Air Strip তৈরি করে। যার ফলে দমদম বিমানবন্দর ব্যাস্ত থাকলেও এই air strip মাধ্যমে তারা যাওয়া ও আসা করতে পারে। জাপানি বোমা গুলি ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে, এমনকি বড়দিন আগের দিন ও বোম ফেলা হয়। 20 21 22 ও 24 ডিসেম্বর ও বোমা ফেলেছিল জাপানিরা, শোনা যায় জানুয়ারি মাসের 15 তারা আবার বোমা ফেলেছিল তবে এই জাপানিরা বেশী ক্ষতিকারক বোমা আনতে পারে নি। কারণ এই বোমা গুলি ছিল ভাড়ি এবং দুরত্ব ছিল অনেক যার ফলে আনতে পারিনি ঠিক ই কিন্তু যেগুলো এনেছিল সেগুলো ছিল মারাত্মক।

এই রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় বোমা ফেলেছিল জাপানিরা 


 কলকাতার খিদিরপুর ডক এলাকায় খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয় শোনা যায় জাপানি আক্রমণ হলে পাঁচশ কুলি ও শ্রমিক মারা যায়, তাও আবার ঘুমের মধ্যেই এবার কিন্তু দিনে হয়েছিল, এর পরক্ষনেই Royal Air Force তাদের উন্নত বিমান গুলি পাঠায় কিন্তু তখন তারা সবে এসেছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিমান হারিকেন, স্পিটফায়ার নামের দুটি বিমান রওনা দেয়। তবে তারা অনেক চেষ্টা করেও কোনো বিমান কে ধরতে পারে নি, এমনকি কোনভাবেই কোনো বিমান কে বিশেষ করে জাপানিরা কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে নি। 1944 সালের 24 এ ডিসেম্বর জাপানিরা কলকাতায় সর্বশেষ আক্রমণ চালায়, যার পরে তারা বার্মা/ভারতীয় ফ্রন্ট থেকে মনোযোগ সরিয়ে চীনে তাদের ইতিমধ্যে পশ্চাদপসরণকারী ফ্রন্টগুলির সুরক্ষার পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের চলমান যুদ্ধের উপর অধিক মনোনিবেশ করে। তবে যুদ্ধ শেষ হয় ঠিকই মিত্র শক্তি জেতে এবং জাপানির তারা হার স্বীকার করে। তার চিহ্ন রয়েছে কলকাতার বহু জায়গায় কলকাতার খিদিরপুর ডক আছেই এছাড়া রয়েছে ম্যাঙ্গো লেন, সেন্ট্রাল টেলিগ্রাফ অফিস আরো বহু জায়গায়। 

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - BBC - History: World Wars in-depth https://share.google/dq70FNpChdrZWv6qg

Heritage Tour | Kolkata during the Second World War Japanese air raids, a walking tour of the bombed sites near telegraph office, Writers’ Building and Lalbazar Police Headquarters - Telegraph India https://share.google/zQZ4zNGJWlbH4ij8T

Comments