বিচারপতিদের ঘাট

 

জাজেস ঘাট

কলকাতা তথা আমাদের পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি গঙ্গার ঘাট রয়েছে শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই একসময় আদিগঙ্গা যেত। তবে এখন আর আমরা আদিগঙ্গা দেখতে পাইনা তার বদলে পড়ে ছোট্ট একটা জল যাওয়ার রাস্তা, আর সেটাই নাকি আদিগঙ্গা। কিন্তু আমাদের রাজ্যে অনেক গঙ্গা ঘাট রয়েছে সেগুলো বেশিরভাগই তৈরি হয়েছিল পুরনো কলকাতা এবং ব্রিটিশ আমলে তার মধ্যে অন্যতম হলো জাজেস ঘাট। তবে এই ঘাট কিন্তু তৈরি হয়েছে গঙ্গার উপনদী হুগলি নদীর জন্য তবে এই ঘাট হয়েছিল প্রিন্সেপ ঘাট থেকে কিছু টা দূরে, তবে খুব দূরে এই ঘাট তৈরি হয়নি। এই ঘাট তৈরির মূলে ছিল একজন ব্রিটিশ ব্যাক্তি, তিনি হলেন এলাইজা ইম্পে তিনি এখানে প্রথম ঘাট তৈরি করা কথা বলেন। সেই সময় এই ঘাটে শুধু মাত্র ব্রিটিশ সরকার কতৃক ক্ষমতাবান লোকেরাই নামতে পারতো আরও বলা হয় যে বিশেষ করে বিচারের কাজে নিযুক্ত ব্যাক্তিরা এই ঘাটে নামতো। 

ইম্পে

এই ঘাট এলাইজা ইম্পের জন্য তৈরি হয়েছিল শুধু তাই নয় ঘাটটির নাম দেওয়া হয় জাজেস ঘাট কারণ বেশিরভাগ আইন ব্যবস্থার সাথে যোগাযোগকারি মানুষ এখানে নামতো এই ঘাট টি কে আবার অন্য নাযে ডাকা হতো সেটা ছিল গোয়ালিয়র ঘাট, সম্ভবত গোয়ালিয়র মনুমেন্টের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে। এই ঘাটে কিন্তু কোনো ভবন নেই ঠিক যেমন প্রিন্সেপ ঘাট, বাবু ঘাট, আর্মেনিয়ান ঘাটে ও নেই জলের দিকে মুখ করে কোনো কাজ করতে হয়। এলাইজা ইম্পে ছিল তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আর সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট আমাদের কলকাতায় তার উদ্যোগে এই ঘাটটির নাম দেওয়া হয় জাজেস ঘাট। আমাদের এবার দেখতে হবে এই এলাইজা ইম্পে এত কুখ্যাত কেন, শোনা যায় তিনি নাকি বলেছিলেন খালি পায়ের লোক গুলিকে তিনি চটি পড়িয়ে ছাড়বেন বলে রাখা দরকার যে তৎকালীন সময়ে খালি পা লোক গুলো হলো ভারতের নেটিভ রা সে যাইহোক এলাইজে ইম্পে মহারাজ নন্দকুমার কে ফাঁসিতে ঝোলান, কিন্তু তার অপরাধ কী ছিল সেই নিয়ে আবার ঐতিহাসিকরা মতো বিরোধ নিয়ে চলেন। জানা যায় মহারাজা নন্দকুমারকে তাঁর বন্ধু, বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস, এক বিধবাকে তাঁর উত্তরাধিকারের অর্ধেকেরও বেশি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি জাল বন্ধকী দলিল তৈরির মিথ্যে অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন। কিছু ঐতিহাসিক মহারাজা নন্দকুমারের এই ফাঁসিকে একটি বিচারিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং পরবর্তীতে, ১৭৮৮ সালে, ওয়ারেন হেস্টিংসের সাথে এলাইজা ইম্পিকেও ব্রিটিশ হাউস অফ কমন্সে গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণের জন্য অভিশংসনের সম্মুখীন হতে হয় এবং লর্ড ম্যাকলে হাউস অফ কমন্সে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও আনেন। জাজেস ঘাট অন্য কোনো ঘাটের মতো আলাদা কোনো আচ্ছাদন নেই শুধু মাত্র একটি আচ্ছাদন রয়েছে, শুধু মাত্র ঘাটে উপর একটি আচ্ছাদন রয়েছে অন্যান্য ঘাটের মতো। তবে সেটি কিন্তু পরে অর্থাৎ স্বাধীনতার পর তৈরি হয়েছে। ঐ আচ্ছাদন তৈরি হওয়ার পর বিভিন্ন কাজকর্ম হয় এখনো হয়ে চলেছে, তবে সেটা কিন্তু ধর্মিয় কাজকর্ম।সেন মহাসয় এই ঘাটটিকে সুন্দর করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেছেন, “সঠিক হাতল এবং ব্যারিকেড ছাড়া এখানে প্রবেশ করা যেত না। পুজোর জায়গাটির অবস্থা খুব খারাপ ছিল। সেখানে কোনো শৌচাগার বা স্নানের ব্যবস্থা ছিল না, কোনো স্থাপত্যশৈলীও ছিল না এবং আবর্জনা ব্যাপকভাবে জমে থাকত।” কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট এবং প্রেরণা ফাউন্ডেশন এই প্রকল্পের অংশীদার। এই ভাবে এই ঘাট এখনো রয়েছে কলকাতায়।

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - https://www.tutorialathome.in/history/judges-bathing-ghat-calcutta


Comments