![]() |
| বীনা দাস |
আমাদের দেশে বিশেষ করে স্বাধীনতার সময় অনেক তৎকালীন মানুষ দেশের কাজ খানি ব্যস্ত এমনকি কী সেই সময় তৎকালীন মহিলারা দেশের কাজ ব্যস্ত হয়ে গেছিল, কারণ তাদের একটা উদ্দেশ্য দেশ কে ব্রিটিশদের হাত থেকে দেশ কে স্বাধীন করা। অনেকেই ভাবছেন আমি বেলা বোস কথা বলবো কিন্তু সেটা নয়! আমি বলবো বিনা দাস এর কথা তবে এই বীনা দাস এর কথা একটু পরে আসছি, তার আগে বলি এই স্বাধীনতা সংগ্রামী বীনা দাস এর কথা। ইনি কিন্তু আমাদের পূর্ববঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন, মানে এখনকার বাংলাদেশ এ তবে তার প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কিছু জানা যায়নি তবে তিনি তৎকালীন কলকাতায় আসার পর তিনি বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করছেন। একদম শেষ তার পরিবারের এগডালিয়া বসবাস স্থান করেন। এই বীনা দাস এর সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটি সম্পর্ক রয়েছে, বিনা দাস এর বাবা ছিলেন বেনীমাধব দাস সেই সময় কটকে থাকতেন তিনি আরও জানা যায় যে এই বেনীমাধব দাস ছিলেন রেভেনসীয় কলেজে এর শিক্ষক আবার অনেকে বলেন এইটা আসলে স্কুল, এই শিক্ষক বেনীমাধব ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসুর প্রথম গুরু। বীনা ছিলেন তার বাবার মতো একজন স্বাধীনতা সংগ্রামের অনবদ্য, সেই সময় বীনা ডাওসাসিন কলেজ বর্তমানে এই একই নাম রয়েছে, জানা যায় এইটা নাকি 136 বছরের পুরনো কলেজ, এই কলেজের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে ছিল, আসলে এই কলেজে এসময় গান্ধী বাদি আন্দোলন এ উদ্বুদ্ধ হয়ে সংলাপ করছিল, তিনি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দেবী উপলক্ষে তিনি একটি নতুন উপন্যাস লেখেন যার নাম ছিল The Call of the Road. কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ওই বইটিকে বন্ধ করে দেয়। এমনকি ওখানে ব্রিটিশ সরকার হাত নিজের দেশ কে স্বাধীন করার উপায় লেখা ছিল। শুধু তাই নয় তাকে নম্বর হারাতে হয় কারণ নাকি তিনি নিজে ঐ লেখার মাধ্যমে দেশের কাজ করার জন্য উল্লেখ করেন, আসলে সেটা কোনো পাই হয়নি। এরকমই এক ক্লাসে বসে ছিলেন বীনা, সেই সময় তার কাছে আসে সুহাসিনী গাঙ্গুলি কারণ তাদের ইচ্ছা ছিল 1928 সালে বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার গ্রুপে নেওয়া হচ্ছিল এমন সব ছাত্র ছাত্রীদের যারা দেশ জন্য কিছু করতে পারে। এই গ্রুপটা খুলেছিল স্বয়ং সুভাষচন্দ্র বসু। তবে এই গ্রুপটা কিন্তু অতি সতর্ক ছিল এবং গ্রুপের একে অন্যজনের চিনতে পারত না। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি তার দেশের জন্য এমন কিছু করতে চান কী না! বীনা দেবী তৎখনাৎ বলেন যে করতে চায় এবং সুযোগ পেলেই করবে। সুহাসিনী গাঙ্গুলি তখন তাকে আলাপ করায় বেঙ্গল রেভোলিউশনারি পার্টির সাথে।
![]() |
| সুহাসিনী গাঙ্গুলি |
এই দলটি ছিল অত্যন্ত গুপ্ত এমনকি বিনা জানতে না এই দলের কার্যকলাপ কথা একদিন তিনি জানতে পারেন যে তনুজ চন্দ্র সেন এবং দিনেশ চন্দ্র মজুমদার তৎকালীন ব্রিটিশ পুলিশ কমিশনার চালর্স টেগার্ট কে হত্যা করবার চেষ্টা করেন কিন্তু সেটা তারা সেটা সফল করতে পারেনি, যার ফলে তাদের অনেক নির্যাতন শুরু হয় এই ঘটনা বিনা জানতে পারে 1930 সালের আগস্ট মাসের 25 তারিখ। এই ঘটনার পর ব্রিটিশ পুলিশ নির্যাতন শুরু হয় এবং বহু স্বাধীনতাবাদি পুলিশের দ্বারা অ্যারেস্ট হয়। এর মধ্যে বিনা ছিল কিন্তু তখন অ্যারেস্ট হয়নি , তিনি ঠিক করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল কে খুন করবেন। তার জন্য তিনি একটি বন্দুক জোগাড় করবেন আর সেই জন্য তিনি যুগান্তর পার্টির কমলা দাসগুপ্তের কাছে যান। কমলার সহবিপ্লবী সুধীর ঘোষ ২৮০ টাকায় একটি পুরনো ধাঁচের বেলজিয়ান, পাঁচ চেম্বারের রিভলবার কিনে দেন। কিন্তু সমস্যা হলো বীনার তিনি কোনো দিন রিভলবার কিংবা বন্দুক চালানি, তার মনে আছে অনেক ছোট বেলায় তিনি বন্দুক চালিয়ে ছিলেন এবং পড়ে গেছিলেন। তিনি ঠিক করেন কমলা দাশগুপ্ত কে জিজ্ঞেস করবেন এবং করেন ও তাই, সেই সময় দাশগুপ্ত বলেন যে বিনয় বসু কে তিনি কখনো গুলি চালানো অভ্যাস করতে দেখনি কিন্তু রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ মনের সময়ে কারাগারের মহাপরিদর্শক এন এস সিম্পসনকে হত্যা করার জন্যে সুজাসুজি গুলি চালান। বীনা দাস অবশেষে গুলি চালান, যখন কনভেনশন হলে তিনি উঠেন বলতে ওঠেন সেই সময় বিনা দাস গুলি চালান কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো গুলি তাঁর কানের কাছ থেকে বেরিয়ে যায়, সেই সময় কর্নেল সুরাবাদেয় হাসান ছিলেন কলকাতা ইউনিয়ন ভার্সিটির অন্যতম তিনি তৎক্ষণাৎ বিনা গলা টিপে ধরেন।
![]() |
| সেই গভর্নর জিনি বক্তব্য রাখতে এসেছে ছিলেন |
বীনা ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ, তার ঘরে গুলি পাওয়া যায় শুধু তাই নয় তাকে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি একটি কারাদন্ড পায়।
![]() |
| তৎকালীন খবরে কাগজপত্রে |
আদালতে বীণা শান্তভাবে নিজের ভাগ্য মেনে নিলেন। আদালতের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, জ্যাকসনের প্রতি তাঁর কোনো বিদ্বেষ নেই। তিনি আরও বলেন, “মানুষ হিসেবে তিনি আমার কাছে আমার বাবার মতোই ভালো, এবং লেডি জ্যাকসনও আমার মায়ের মতোই ভালো, কিন্তু বাংলার গভর্নর এমন একটি ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন যা আমার দেশের কোটি কোটি পুরুষ ও নারীকে দাসত্বে আবদ্ধ করে রেখেছে।” তাকেষ্ঠ তার ও তার পরিবারের তার চতুর্থ মেদিনীপুর জেলা রাখা হয়, তখন জেলের অবস্থা খুব খারাপ, সেই সময় বীনা দাস ঠিক করেন অনশন করবেন। তার এই অনশনে জন্য তাকে তার কাছে নির্দেশ আছে যে তাঁর সাতদিনের অনশন প্রত্যাহার করতে হবে এবং তিনি সুবিধা পাবেন। 1941 সালে তিনি কংগ্রেস পার্টি যোগ করেন এবং তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, 1942 সালে যখন ভারত ছাঁড়ো আন্দোলন শুরু তখন হয়েছিল আরো এক অবস্থা, সেই সময় তিনি ছিলেন নেত্রী তার কথায় হাজরা ক্রসিং এ আন্দোলন জনসভা শুরু হয়েছে। সেই সময় এক ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা এক কর্মী কে মারতে উঠে এই সময় বিনা আটাকায় যার ফলস্বরূপ তাঁর জেল হয়। এরপর দেশ স্বাধীন হয়ে ওঠে, তার সিঁথিতে সিঁদুর পড়ে, তার এক সহকর্মী যতিষ ভৌমিক সেই সিঁদুর পরান। এরপর তিনি বিভিন্ন দেশ মুলক কাজে ব্যাস্ত হয়ে ওঠে। তিনি অমৃত বাজার প্রতিকায় যোগ দেন। এরপর অবশ্য বাংলা ভাগের কথা হয়, এই দুই স্বামী স্ত্রী কংগ্রেস দেওয়া পেনশন নিতে অস্বীকার করে এমনকি তারা মধ্যপ্রদেশ চলে যান কারণ অনেক মানুষ এই পারে থাকা নিয়ে ম্যাতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তার মানে বিনা দাসের মৃতদেহ উদ্ধার হয় ঋষিকেশে, সেই সময় তার মৃতদেহ দেখলে বোঝাই যায় তিনি অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছিয়ে ছিলেন। অতীত থেকে ও এই সব মানুষের কথা উঠে আসে।
ছবি সূত্র - internet
Bina Das: A Brave, Forgotten Daughter of Bengal https://share.google/lM3RG8e440BpcuPe5




Comments