![]() |
| উড়িষ্যার রথযাত্রা |
আর কদিন পরেই রথযাত্রা, মানুষের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে ভারতের পুরি এই সব নিয়ে খুব মত্ত থাকে। আসলে পুরি রথযাত্রা অন্যতম স্থান, আর পুরি হলো উড়িষ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছু পংক্তি রচনা করেছেন। আবার তার, শেষ লিপিকা গ্রন্থে কবি উল্লেখ করেছেন, রথযাত্রার দিন কাছে।
তাই রানী রাজাকে বললে, 'চলো, রথ দেখতে যাই।'
রাজা বললে, 'আচ্ছা।'
ঘোড়াশাল থেকে ঘোড়া বেরোল, হাতিশাল থেকে হাতি।
ময়ূরপংখি যায় সারে সারে, আর বল্লম হাতে সারে সারে সিপাইসান্ত্রি। দাসদাসী দলে দলে পিছে পিছে চলল।
কেবল বাকি রইল একজন। রাজবাড়ির ঝাঁটার কাঠি কুড়িয়ে আনা তার কাজ।
সর্দার এসে দয়া করে তাকে বললে, 'ওরে, তুই যাবি তো আয়।'
সে হাত জোড় করে বললে, 'আমার যাওয়া ঘটবে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই নিজেকে লুকিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন কোনে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে রথযাত্রা একটি অন্যতম স্থান। মনে করা হয় রথ একটি কাঠের যন্ত্র যাবহার করে যে এই রথে করেই ভগবান যাতায়াত করেন। রথে তিনটি যায়গা থাকে একটি জগন্নাথ, বলরাম, আর সুভদ্রার। প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো যে জগন্নাথ এবং বিষ্ণু, শ্রী কৃষ্ণেরই দুই রূপ। বলরাম বা বলভদ্র, শ্রী কৃষ্ণ বা জগন্নাথ এবং সুভদ্রাদেবী এই তিনজন একে অপরের ভাইবোন। রথযাত্রাও তাদেরকে কেন্দ্র করেই। এবার তাহলে ভগবানের নতুন রূপের আবির্ভাব, ইতিহাস, লোকবিশ্বাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক৷ পদ্ম পুরাণে বলা হয়েছে যে ইন্দ্রদ্যুম্ন বিষ্ণুর পরম ভক্ত ছিলেন। কিন্তু মন্দির কোথায় বা কোন কালে নীলমাধব এর মূর্তি ছিল, কিন্তু সেই সময় কোনো নীলমাধব এর মূর্তি পাওয়া যায় নি। রাজা নীলমাধব কে খুঁজতে লোক পাঠালেন বিভিন্ন জায়গায়, তবে নীলমাধব কে খুঁজে পাওয়া যায় না। গল্প অনুযায়ী বিদ্যাপতি কে জঙ্গলে খুঁজে পাওয়া যায় না, তার সঙ্গে পরবর্তী কালে, তাকে খুঁজে পায় ললিতা জিনি আবার শবরাজ বিশ্ববসুর কন্যা। ব্যাস এরপর কী দুজনের মধ্যে প্রেম হয় ও বিদ্যাপতি সঙ্গে ললিতা প্রেম হয় এবং বিয়ে হয়। কিন্তু বিদ্যাপতি লক্ষ্য করেন তার শশুর ও শাশুড়ি রাত্রে বাড়ি থেকে বের হয়। জঙ্গলের গহীনে নীল পর্বতে নীলমাধবের মূর্তি রয়েছে। বিশ্ববসু সেখানেই রোজ নীলমাধবের পূজা দিতে যান। নীলমাধবের কথা জানতে পেরে খুশিতে আটখানা হলেন বিদ্যাপতি। তার হারিয়ে যাওয়া যেন সার্থক হলো! জানা মাত্রই বিশ্ববসুর কাছে অনুরোধ করলেন নীলমাধবের দর্শনের জন্য। প্রথমে নারাজ হলেও নাছোড়বান্দা জামাইয়ের অনুরোধ শেষতক মেনে নিতে হলো বিশ্ববসুকে। ‘‘এতদিন আমি দীন-দুঃখীর পূজো নিয়েছি, এবার আমি মহা-উপাচারে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পূজো নিতে চাই।’’
নীলমাধব যখন স্বয়ং রাজা ইন্দ্রদুম্ন্যের পূজো নিতে চান, তখন কি আর দেরি করা যায়? চটজলদি খবর পাঠানো হলো রাজা ইন্দ্র্যদ্যুম্নের কাছে। রাজা বিস্ময়ে মহানন্দে সব ব্যবস্থা করে হাজির হলেন জঙ্গলের মাঝে নীলমাধবকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু জঙ্গলে পৌঁছনো মাত্রই আর কোনো খোঁজ পাওয়া গেলো না নীলমাধবের। তখন আবার দৈববাণী শোনা গেলো,
“সমুদ্রের জলে ভেসে আসবে যে কাঠ সেই কাষ্ঠখণ্ড থেকেই তৈরি হবে বিগ্রহ” (অর্থাৎ নীলমাধবের বিগ্রহ)।
সবাইকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎই একদিন সমুদ্রের জলে কাঠ ভেসে এলো। মহাসমারোহে শুরু হলো বিগ্রহ তৈরির কাজ। কিন্তু কীভাবে তৈরি হবে? ভেসে আসা কাঠ এমনই শক্ত যে মূর্তি গড়া তো দূরে থাক, কেউ হাতুড়িই বসাতে পারল না কাঠে; উল্টো হাতুড়িরই যায় যায় অবস্থা! তাহলে মূর্তি গড়বে কে? মহারাজ আবারও পড়লেন বিপদে৷ ইন্দ্রদ্যুম্নের সেই অসহায় অবস্থা দেখে বুঝি এবার দুঃখ হলো ভগবানের। শিল্পীর রূপ ধরে স্বয়ং জগন্নাথ এসে দাঁড়ালেন রাজপ্রাসাদের দরজায়৷ বললেন, তিনিই গড়বেন ভগবানের বিগ্রহ। তবে তার একটি শর্ত আছে৷ শর্তটি এমন যে তিন সপ্তাহ বা ২১ দিনের পূর্বে কেউ তাঁর কাষ্ঠমূর্তি নির্মাণ দেখতে পারবে না। অতঃপর শর্তানুযায়ী কাজ আরম্ভ করলেন দারুশিল্পী। কিন্তু ইন্দ্রদ্যুম্নের রানী গুণ্ডিচার তর সইলো না। একদিন ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লেন এবং দেখলেন, কারিগর উধাও! সাথে তিনটি অর্ধসমাপ্ত মূর্তি দেখে তো রীতিমতো ভিরমি খেলেন তিনি! গোল গোল চোখ, গাত্র বর্ণসহ অসমাপ্ত মূর্তির না আছে হাত, না আছে পা। এ অবস্থা দেখে অনুশোচনায় আর দুঃখে বিহ্বল হয়ে পড়লেন রাজা-রানী দুজনেই৷ ভাবলেন, শর্ত খণ্ডনের ফলেই বুঝি এত বড় শাস্তি পেলেন তারা। তবে তাদের এই অনুশোচনা পর্ব দীর্ঘায়িত হতে দেননি ভগবান। স্বপ্নে উপস্থিত হয়ে জগন্নাথ জানিয়ে দিলেন, “এমনটা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল৷ আমি এই রূপেই পূজিত হতে চাই”। এরপর থেকে এভাবেই ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেন জগন্নাথদেব৷" এত হলো গল্প
![]() |
| মাহেশ এর রথযাত্রা |
আমাদের বাংলা বেশ কিছু রথযাত্রার উৎসব প্রচলন আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো মাহেশ এর রথযাত্রা। প্রাণকৃষ্ণ দত্ত তার বই কলিকাতার ইতিবৃত্ত বই তে লিখেছেন এই রথযাত্রার কথা, সেটা বললে অনেক কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো বললে লেখা হয়ে যাবে। তবে মাহেশ এর রথযাত্রার উৎসব নিয়ে একটা গল্প রয়েছে, বাঙালি ধ্রুবানন্দ ব্রক্ষচারি ছিল, তার ইচ্ছে ছিল তিনি জগন্নাথ কে নিজে রান্না করে খাওয়া বেন কিন্তু মন্দিরের নিয়ম এবং পান্ডার তাকে বাধা দেয়, এর ফল স্বরূপ তিনি অনশনে বসেছিলেন তিন দিন ধরে অনশনে বসেন তার একদিন রাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন জগনাথ দেব বলছেন তুমি বাংলায় ফিরে যাও আমি বলছি, ভাগীরথীর তীরে একটি গ্রাম পাবে যার নাম মাহেশ। সেখানে একটি নিম গাছ রয়েছে, সেইটার মাধ্যমে আমি সুভদ্রা ও বলরাম তোমার রান্না খেতে চাই! ব্যাস যেমন কথা তেমন কাজ বর্ষার দিনে ঐ ভাগীরথী তীরে ভেসে এল নিম কাঠ, এমনকি ঐ কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়েছে ছিল বা ভালো এখনো সেই জগন্নাথ বলরাম আর সুভদ্রার মূর্তি। মাহেশের মূর্তি ভারতের দ্বিতীয় এবং অন্যতম। এখন মাহেশ শ্রীরামপুর এলাকায়, এখানে জগন্নাথ দেবের মন্দির রয়েছে এবং রথ। রথের দিন গুন্ডিচা মানে মাসির বাড়ি থেকে আবার রথ যায় নিজের বাড়ি। এই রথ কিন্তু এখন লোহার রথ, তৈরি করিয়ে ছিলেন বসু পরিবার। তবে হ্যাঁ এই দ্বিতীয় কিন্তু এর মূর্তি জীবনে পাল্টানো হয়নি। খুবই স্বাভাবিক এইটা হয় উল্টো রথের দিন। এই সব নিয়ে বিভিন্ন মুহুর্ত রয়েছে তবে সেটা কতটা কাল্পনিক সেই নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে, এই মতবাদের মধ্যে রয়েছে জুয়াতে বউ বিক্রি করে দেওয়ার গল্প। এই সময় মানে তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন সংবাদ পত্রে যেমন সমাচার দর্পণে বিভিন্ন খবর রয়েছে। তবে হয়েছে সবই তৎকালীন সময়ে, কারণ রথ পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র উল্লেখযোগ্য হলো মাহেশের রথ। এখনো এই রথ চলেছে....
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - https://share.google/eCtZevUugZgeD8nHA
এবং কৌশিক মজুমদার


Comments