![]() |
| বাংলা ক্যালেন্ডার |
পয়লা বৈশাখ বা লেখার সময় বাঙালিরা লেখে একলা বৈশাখ লেখে কিন্তু বেশ কিছু বছর ধরে নতুন একটি নাম এসেছে বা অনেকে বিশ্বাস করে যে বিক্রমাদিত্য ক্যালেন্ডার রয়েছে। আসলে এই দিনটি শুরু হয় নবাব আকবরের সময় থেকে, আসলে তিনি একটি নতুন ক্যালেন্ডার করতে চেয়েছিলেন,আর সেই জন্য এই রীতি শুরু হয়। এবার জেনে আকবর এর তৈরি ক্যালেন্ডারের নাম কী, জানা গেছে তারিখ - এ - এলাহী। এই ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জির সাথে বাঙালি ক্যালেন্ডার খুব মিল পাওয়া যায়, এমনকি বাংলার বর্ষপঞ্জির যে মাসের নাম গুলি রয়েছে তারও মিল পাওয়া যায়। তবে এই ক্যালেন্ডার আকবর তৈরি করেছিল শুধু মাত্র কৃষকদের সুবিধার জন্য, কারণ দেখা গেছিল কৃষকদের ফসল পাকছিল না তার আগেই খাজনা দিতে হচ্ছে এই নবাব ঠিক করলেন নতুন ক্যালেন্ডার বানাবেন। সেই জন্য তিনি দায়িত্ব দিলেন ফতেহউল্লাহ সিরাজির উপর আর তিনি তৈরি করলেন বাংলার জমি থেকে কর আদায়ের দিনক্ষণ ঠিক করার জন্যে এমন বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরির প্রকল্প নিয়েছিলেন আকবর। সেই ক্যালেন্ডারের নাম ছিল তারিখ-ই-ইলাহি।
![]() |
| সম্রাট আকবর |
মাস, তারিখ, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদির নামে সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার করার পাশাপাশি ইসলামি নামক্ষণও রাখা হয়েছিল সেখানে। আকবর বাদশার রাজকীয় গ্রহবিদ ফতুল্লাহ সিরাজি নির্মাণ করেছিলেন এমন বাংলা ক্যালেন্ডার। তবে এখন কিন্তু তিন ধরনের ক্যালেন্ডার শুরু হয় একটি সোলার ক্যালেন্ডার দ্বিতীয়টি লুনার ক্যালেন্ডার আর তিন নম্বর টি হলো লুনিসোলার ক্যালেন্ডার। এখনো তিনটি আছে কোন সময় চারটে হয়ে যায় তার ঠিক নেই সে যাইহোক এবার সরাসরি জানা গেছে পৃথিবীতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বলা হয় মাস শুরু হয় বিষুব দিবস বা তার আসে পাশের দিন থেকে অনেকে মনে করেন তথাকথিত ইংরেজি ক্যালেন্ডারের একুশে মার্চ দিনটি খুব ভালো। জানা গেছে বিষুব দিবসে নাকি রাত আর দিন সমান হয়, অন্যদিকে ভারতের প্রাচীন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিক্রমসম্বত গোনা শুরু সাতান্ন খ্রিষ্টাপূর্ব থেকে শুধু তাই নয় এখানে বলা হয়েছে যে বছরের মাস শুরু হয় চৈত্র থেকে আরো বলেছে বিক্রমসম্বতে দেখা যায় বঙ্গাব্দ সাথে অনেক মিল রয়েছে, যেমন মাস, রাশি, নক্ষত্র আরো কিছু রয়েছে তাবে অমিল অনেক। দেখা যায় উত্তর ভারতে বিক্রমসম্বতে মেনে মাস শুরু হয় চৈত্র মাসে, কিন্তু বাংলায় মাস শুরু হয় বৈশাখ থেকে। তবে এখানে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের নাম আছে তিনি হলেন সম্রাট শশাঙ্ক, ইনি ছিলেন একসময়ের বাংলার শাসক তবে হর্ষবর্ধন নাম বেশি শোনা যায়। এখন দেখা যায় বাংলা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল একটা ছিল এখনকার বাংলাদেশ আর দ্বিতীয়টি ছিল আমাদের পশ্চিমবঙ্গ, তিনি মানে শশাঙ্ক ছিলেন গৌড় অধিপতি বর্তমান মালদা। আর দুই বাংলার নববর্ষ পালন হয় বা হচ্ছে বৈশাখ মাসে শুধু তাই নয় ব্রিটিশরা ভারতে আসার পর এখানে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু হয় যার ফলে বাংলায় সন চালু হয় সোলার ক্যালেন্ডার হিসেবে। আগে যেমন লুনার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিক্রমসম্বতে বাংলার সন বা বঙ্গাব্দ চালু হয়।
![]() |
| শশাঙ্ক |
এবার বিভিন্ন করাণ দেখা যায় আকবরের তত্ত্ব ঠিক না হওয়ার জানা যায় আকবর নাকি কোনোদিন বাংলা দখল করতে পারেনি আবার এও জানা যায় মৃত্যুর আগে 1605 সালে আকবর তার ক্যালেন্ডার বাংলায় প্রচলন করে। দ্বিতীয়ত আকবরের প্রধান কবি আবুল ফজল তার আইনি - ই - আকবরি তিনি কোনো বঙ্গাব্দের উল্লেখ নেই, তৃতীয় হলো আকবরের মৃত্যুর পর সারা আর্যবর্তে তার ক্যালেন্ডার আর পাওয়া যায় না। এছাড়া আরো কিছু কারণ রয়েছে যার জন্য বাংলায় বঙ্গাব্দ চালু ছিল। তবে শশাঙ্ক কিন্তু তার নিজের বঙ্গাব্দ চালু করেন তিনি ছিলেন হিন্দু রাজা এবং তিনি যেদিন থেকে সিংহাসন দখল করেন, এবং তিনি শৈব ছিলেন অর্থাৎ শিব ঠাকুরের পুজো করতেন সেইজন্য 593 সালের এপ্রিল মাসের বারো তারিখ থেকে বছর গোনা শুরু হয় যার ফলে বঙ্গাব্দ বা শকাব্দ চালু হয়। অন্যদিকে আর্যভট্ট সৌরসিদ্ধান্ত চালু করেন, তার কথা শুনে শশাঙ্ক তার রাজ্য এই সৌরসিদ্ধান্ত চালু করেন। কিন্তু এখানে তাই হলো অর্থাৎ বঙ্গাব্দের চোদ্দো ও পনেরো তারিখে নতুন বছর শুরু হয়। তবে শশাঙ্কের দিনলিপি পুরোপুরি ত্রুটি মুক্ত নয়। প্রথমত শশাঙ্ক নিজের নামে মূদ্রার প্রচলন করেন শুধু তাই নয় তিনি তার এলাকায় খাল খনন করান কিন্তু বঙ্গাব্দ চালু করেন নি। এমনকি তিনি 1400 বছর আগে মকর সংক্রান্তি চালু করেন ঠিকই কিন্তু আজ অবধি ও কোনো বাংলা ক্যালেন্ডারের কোনো উল্লেখ নেই। দ্বিতীয়ত শশাঙ্কের সময়ে তিনি সৌরসিন্ধান্ত মেনে নতুন অব্দ চালু করেন, কিন্তু তিনি গৌড় অবস্থিত গঞ্জামের তাম্রলেখে শুধু মাত্র তিনশো গুপ্তাব্দ লেখা হয়। আরো আছে রাজা শশাঙ্কের সময় শুধু মাত্র বিক্রমসম্বত চালু এমনকি গুপ্তাব্দ চালু ছিল বলে মনে করেন ঐতিহাসিকরা। তাহলে কী শশাঙ্কের অব্দের সাথে গুপ্তব্দের সাথে কী কোনো ফারাক ছিল না? তৃতীয়ত যুক্তি তে দেখা যায় শশাঙ্ক মহাবিষুবের দিন সিংহাসনে বসেছিলেন যার ফলে হিসাব একটু উল্টোপাল্টা হয়ে যায়, যদি সেই হিসাব ধরে নেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে বৈশাখ মাসে আর পয়লা বৈশাখ হচ্ছে না। তখন মাস শুরু হবে চৈত্র মাস থেকে শুধু তাই নয় যদি ধরেনি বৈশাখ মাস হলো বঙ্গাব্দ শুরু হওয়ার মাস তাহলে সেটা আর ইংরেজি ক্যালেন্ডারে 15 তারিখ থাকছে না। এর পর আরো বিভিন্ন ও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে যেগুলো আর উল্লেখ করলাম না।
![]() |
| বৌদ্ধ ক্যালেন্ডার |
বাঙালি বছর শুরু হতে কিন্তু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রভাব বিস্তার করেছে জানা গেছে, বৈশাখ মাস হলো বৌদ্ধ মাস, কারণ এই মাসে হয় গৌতম বৌদ্ধের আবির্ভাব বোধিলাভ ও পরিনির্বন। এই সময়টিতে এশিয়া অঞ্চল জুড়ে পালন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উৎসব। বাংলা তথা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় এবং নেপালের বছর শুরু হয় আরও আছে বৌদ্ধ ধর্মের অনেকেই এই সময় বিশেষ করে বাংলায় নিজেদের ধর্ম পালন করতো এমনকি পাল, সেন যুগেও এই প্রথা চালু ছিল। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কত পুরোনো এই পয়লা বৈশাখ। অনেক পন্ডিত মানুষ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে রাজাদের নামেই কোনো অব্দ আরম্ভ হতো আবার এই কথা জানা যায় যে আকবরের আমল থেকে বঙ্গাব্দ শুরু কোনো হিন্দু রাজরা নিজের নামের সঙ্গে অব্দ জুড়ে ছিলেন ঠিকই কিন্তু বঙ্গাব্দ চালু করেন নি। এই নিয়ে বহু তর্ক বিতর্ক রয়েছে তবে আকবর কিংবা শশাঙ্ক অথবা ব্রিটিশ আমাদের বাংলার যে রাজত্ব কায়েম করে ছিল কিন্তু তার মধ্যে বাংলা সাল থেকেই গেছিল এবং আছেও।
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - https://bengali.indianexpress.com/explained/vikram-sambat-scientific-indian-calendar-10581436




Comments