ব্রিটিশ সরকারের ফ্লাগস্টাফ হাউস

ফ্লাগস্টাফ হাউস 

 আমাদের ভারতের কলকাতা ছিল একসময় ব্রিটিশদের রাজধানী। অবশ্য ব্রিটিশ রাজধানী হওয়ার কারণ ছিল না। কিন্তু ব্রিটিশরা কলকাতায় নিজের রাজধানী করেছিল কারণ এখানে ব্রিটিশরা নিজেদের সবকিছু খুঁজে পেয়েছিল। তারা ব্যারাকপুরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি শাখা করেছিল। তখন কিন্তু ব্যারাকপুরের এই নাম ছিল না, আনুমানিক 1775 সালে এখনকার নাম ছিল চানক ছিল। এই সময়ে চানক ছিল তৎকালীন জমিদারদের বিভিন্ন বিভিন্ন ব্যবসার জায়গা। জানা গেছে যে তখন ব্যারাকপুর ছিল হুগলি নদীর ঠিক পাশেই, তখন এই জায়গাটি ছিল নোনা চন্দন পুকুরের সঙ্গে, পঞ্চদশ শতক থেকেই একটি বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। তবে ব্যারাকপুর কিন্তু প্রথম থেকেই ফ্লাগস্টাফ হাউস নয় ছিল না। তৎকালীন লাটবাগন ছিল সেই সময়ের গর্ভনর জেনারেল হাউস ছিল, এখন অবশ্য একে আমরা চিনি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসাবে। 1801 সালে পয়লা ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলার গভর্নর জেনারেল মার্কুস ওয়েসলি এই সম্পত্তির মালিক হন, শুধু তাই নয় তিনি নাকি এই সম্পত্তির প্রেমে পড়েছিলেন। তিনি ঠিক করেছিলেন এখানে থাকবেন এবং সেই জন্য আলাদা বাড়ি তৈরি করেছিলেন এবং ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তিনি এখানে থাকতে পেরেন নি সেই জন্য তিনি আলাদা বাড়ি তৈরি করে সেখানে থাকছিলেন এবং এই বাড়িটির জন্য গভর্নর হাউস থেকে অর্থাৎ আজকের রাজভবন থেকে আলাদা নোটিশ নিয়ে এসেছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল বাড়িটা তিনি ভেঙে আলাদা করে রাস্তা তৈরি করবেন, 1805 সাল নাগাদ ওয়েসলি তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন, তার আগে তিনি ব্যারাকপুরে তার বাড়ির জন্য তিনি আলাদা ব্যাবস্থা করেন ঠিকই কিন্তু তার বাড়ির তিনি বানাতে পারেন নি। এরপর যখন তার পদত্যাগের কথা জানতে পারে তখন তার এই বাড়ির শুধু মাত্র নিচতলা পর্যন্ত তৈরি হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গভর্নর জেনারেল বাড়িটার সঙ্গে বিভিন্ন কিছু যোগ করেন যেমন চিড়িয়াখানা,সেতু, ফোয়রা ইত্যাদির মতো নতুন কিছু যোগ করেন। এই ওয়েলেস পর স্যার জর্জ বার্লো , লর্ড হেস্টিং , লর্ড অকল্যান্ড , লর্ড লিটন ও লর্ড মিন্টো বহু তলা ও অংশ যুক্ত করে সেটিকে ব্যারাকপুরের গভর্নরের বাসভবনে রূপান্তরিত করেন, যা এখন আমরা দেখতে পাই। তৎকালীন সময়ের গর্ভনর হাউস বেশ বিখ্যাত ছিল ঠিকই, তার সঙ্গে বিভিন্ন ছোট ছোট হাউস বা বলা ভালো বাড়ি ছিল যেগুলো বেশ নজরকাড়া। যেমন পতকা হাউস বা বাংলো এটি ছোট কিন্তু নজরে আসে পতাকাদণ্ড হলো একটি লম্বা মাস্তুল, যাতে পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পতকা উত্তোলন বাড়ি রবার্ট স্মিথের সময় 

 ব্যারাকপুরের পুরোনো চিত্রকর্ম দেখলে সেমাফোর টাওয়ারের ঠিক পাশেই একটি বিশাল পতাকাদণ্ড দেখতে পাবেন। এই পতাকাদণ্ডটির উপস্থিতির কারণে এর ঠিক পিছনে অবস্থিত বাংলোটিকে ফ্ল্যাগস্টাফ বাংলো নামেও উল্লেখ করা হতো।এটি ছিল একতলা বিশিষ্ট একটি ছোট ভবন এবং এটি গভর্নর-জেনারেলের ব্যক্তিগত সচিবের সরকারি বাসভবন ছিল ।

স্বাধীনতার পর বাংলার প্রথম গভর্নর অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ দেখিয়ে আরও জাঁকজমকপূর্ণ গভর্নমেন্ট হাউসে থাকতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরিবর্তে ফ্ল্যাগস্টাফ হাউসকে গভর্নরের গ্রীষ্মকালীন বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন।

এক রাজকর্মচারীর মূর্তি 

গভর্নমেন্ট হাউসটি হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়ে আগের মতোই চলছিল। 2012 সালে ব্যাপক সংস্কার কাজ করা হয় এবং হাসপাতালটি অন্য একটি ভবনে স্থানান্তরিত হয়। তবে এখন ওখানে গেলে দেখতে পাবেন বিভিন্ন সাহেব এর মূর্তি, তবে ওখানে সাধারণ ভাবে গিয়ে ছবি তোলা যাবে না। সেই জন্য আলাদা অনুমতি নিতে হবে।

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - https://share.google/aq4gnKUsko70kzRxo

Comments