- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| দূষণে আক্রান্ত কলকাতা |
আজকের কলকাতা তথা ভারতে বায়ুদূষণ খুবই বেড়ে চলেছে, তার মধ্যে এখন শীত বোঝাই মুশকিল হয়ে যায় কুয়াশা আর একে অপরের আঁকড়ে ধরেছে। কিন্তু একটা সময় ছিল কলকাতা তখন দূষণ থেকে অনেক দূরে। এই সময়টা জানতে পিছিয়ে যেতে হবে ব্রিটিশ আমলের কলকাতায়। উনিশ শতকের কলকাতায় ট্রেনের লাইন বসে গেছে, এইটা ব্রিটিশদের অন্যতম কৃতিত্ব, যার ফলে যাওয়া এবং আসার সুবিধা হয়েছিলো সেই সময় ট্রেনে দুটি ভাগছিল একটা ফাস্ট ক্লাস এবং অন্যটি সেকেন্ড ক্লাস। বোঝাই যাচ্ছে ফাস্ট ক্লাস শুধু মাত্র ব্রিটিশ দের জন্য আর দ্বিতীয় ভারতীয় তথা বাঙালি দের জন্য, তবে এমন কোনো উদাহরণ বাঙিালিদের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব যে গান্ধীজির মতো ফাস্ট ক্লাস এর টিকিট কেটে সেই কামারায় উঠে ও, তাকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। তবে যেই কথা হচ্ছিল ট্রেনের লাইন তো বসে গেছে এবং রানীগঞ্জেও এই লাইন রয়েছে, আর যারফলে কয়লা সহজে পাওয়া যাচ্ছে।
এই কয়লা হলো ব্লেক গোল্ড এই জিনিস বিক্রি করে বহুত লাভ হতো এবং এখনো হয়। কয়লা খুব সহজেই আগুন ধরে নেয়, যার ফলে ট্রেন, যুটমিল, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কারখানা, বিভিন্ন কলকারখানায় এমনকি তৎকালীন মিউনিসিপ্যালিটির গাড়ি গুলি তে এই কয়লার ব্যবহার দেখা যায়। জানা যায় 1855 সালে তৎকালীন রানীগঞ্জে রেলপথ স্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু এই কয়লা রানীগঞ্জ থেকে কলকাতায় আনিয়ে সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছিল আর তার ফলে কলকাতায় বায়ুদূষণ দেখা গেছিল, যদি সেই সময় এইটা কীরকম দূষণ সেই সময় মানুষ জানত না। এর ফলে কলকাতায় বাতাস কেমন দূষিত হয়ে যাচ্ছিল এমনকি কলকাতা ও তার সমলগ্ন জায়গায় হাওয়া যেন চেপে বসে ছিল বলা ভালো দূষিত হাওয়া। সেই সময় কলকাতা কে ঘিরেছিল ধোঁয়াশা, যার ফলে আবহাওয়া খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশেষ করে শীতকালে এই ধোঁয়াশা ঘিরে রাখতো কলকাতা কে। 1870 সালে এই ধোঁয়াশা কলকাতাকে আঁকড়ে ধরে ছিল। এই সব হওয়ার পর তৎকালীন কলকাতা শহরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল এমনকি বিষাক্ত বাতাসে ঠিক ভাবে দেখাও
![]() |
| দূষণে আক্রান্ত কলকাতা ছবি টি Gemini দ্বারা তৈরি |
যাচ্ছেনা এই ধোঁয়াশা মধ্যে তৎকালীন কলকাতায়। সেই সময় তৎকালীন ব্রিটিশ ক্লাস চাপ দিয়েছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারকে, কারণ এখানে ধনী এবং গরীবের দুই শিবির এই বায়ু দূষণে নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল। আগেই বলেছি ব্রিটিশ ধনী ব্যক্তিরা চাপ সৃষ্টি করে সরকারের উপর এর ফলে ব্রিটিশ সরকার 1863 সালে নতুন আইন আনে যা প্রয়োগ হয় কলকাতা ও হাওড়ার উপর কারণ ব্রিটিশ তৎকালীন কলকাতা এবং হাওড়া কে নিজেদের লন্ডন ভেবে নিয়েছিল, তাঁদের চোখে কলকাতা হলো বাস করার জায়গা আর হাওড়ার হলো কলকারখানার জায়গা। এই আইনে বলা হয়েছিল সর্বোত্তম বাস্তব উপায়ে কাজ করতে হবে,যদিও একদশক আগে এই আইন লন্ডনে চালু করা হয়। কিন্তু এই আইনে দুটি বড় সমস্যা দেখা যায় এক এই আইনের ভাষা এবং তার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আইন প্রনয়ণ ছিল না আর দ্বিতীয়টি হলো আইনে দেখানো হয়েছে সরকার শিল্প বিরোধী ছিল। কিন্তু 1878 ও 79 সালে এই ব্যাপারটা খুব জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক সেই সময় শীত বায়ুদূষণ ধোঁয়াশা অতিরিক্ত হয়ে উঠেছে ছিল ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ব্যাবস্থা নিয়ে ছিল, সেই সময় সরকার ঠিক করে একটি স্পেশাল ইন্সপেক্টর পদের যাদের দায়িত্ব ছিল বয়লার তত্ত্বাবধান করা, চিমনি থেকে ধোঁয়া নির্গমন পরীক্ষা করা, সতর্কতা জারি করা এবং প্রয়োজনে, লঙ্ঘনের জন্য মিল পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করা।
![]() |
| কার্জন |
কিন্তু তাসত্ত্বেও এই ব্যবস্থার কাজের কাজ হয়নি,এর উপর ছিল জনগণের চাপ অবশ্যই তৎকালীন ব্রিটিশ জনগণের কথা বলা হচ্ছে। এমনকি এই জন্য শিল্প বাণিজ্যিকরা চাপ দিতে থাকে সরকারের উপর এইরকম অবস্থায় তৎকালীন সরকার আদালতের কাছে যায় এই আইন অনুযায়ী একটি অ্যাডভাইসারি এপরোচ আনার জন্য। এই সময়ে তৈরি হয় ধুমপান বিরোধী লবি জানিয়ে রাখা দরকার যে এই ধুমপান কিন্তু সিগারেট প্যাকেটে লেখা ধুমপান নয়! এইরকম অবস্থায় লর্ড কার্জন কে 1899 সালে ভাইসরয় করা হয়, এক্ষেত্রে বলেরাখা দরকার যে এইরকম শীত ও সালেও পড়েছিল। যাই হোক লর্ড কার্জন নিজে সৈরাচারী ছিলেন কারণ ভারত থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র লন্ডন নিয়ে গেছে, এমনকি আকবরের কবরের উপর ঝোলানো লন্ঠন তিনি নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেহেতু ভাইসরয় তার দায়িত্ব ছিল এই দূষনের ব্যবস্থা নেওয়া, তিনি কলকাতার বায়ুদূষণ উপর কড়া ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। 1903 সালের ফেব্রুয়ারি মাসের 12 তারিখে বেঙ্গল অফ কমার্সে তিনি একটি বক্তিতা দিয়েছিলেন। সেই বক্তিতার তুলে দেওয়া হলো “sometimes almost makes one forget that this is an Asiatic capital, which besmirches the midday sky with its vulgar tar brush and turns our sunsets into a murky gloom. I am reluctant to see Calcutta, which has risen like a flame, perish in soot and smoke; and I may inform you that we have an expert from England, even now on the seas, coming out here to advise us as to how we may combat this insidious and growing danger”. তৎকালীন সময়ে এই বায়ুদূষণ কে রোধ করার জন্য ইন্সপেক্টর কথা আগেই বলেছি, সেই সময় ইন্সপেক্টর ছিলেন ফ্রেডেরিক গরভার। তিনি ইংল্যান্ডে এই সব নিয়ে অনেক কাজ করেছেন, তাঁকে বাছা হলো কলকাতার জন্য, তিনি কলকাতার বায়ুদূষণ রোধ করার জন্য 1905 সালের আইন অনুযায়ী বেঙ্গল অফ কমার্সে বসে তিনি আরো একটি দুষিত বায়ু রোধ করবার জন্য একটি স্মোক ইন্সপেক্টর জারি করলেন তবে কাজ এখনো শেষ হয়েছিল না যেসব শিল্পপতি আগে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করেছিলেন, তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুতর প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। বেঙ্গল স্মোক নিউসেন্সেস কমিশনে সমান সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা এবং শিল্প প্রতিনিধি ছিলেন এবং আইনটি খসড়া করার সময় বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করা হয়েছিল। সেই সময় বয়লার গুলি মানে যেখান থেকে বিষাক্ত বায়ু বাতাসের সঙ্গে মিশেছে, সেই সময় বয়লার গুলোর মধ্যে মানুষের মাধ্যমে গ্যাস বা কয়লা স্টক করা হতো, এমনকি পরিষ্কার করার দায়িত্ব লোকদের উপর ছিল। এমনকি ভুসি পর্যন্ত ব্যবহার করা হতো জ্বালানি হিসেবে, তবে এর জন্য বাইরের হাওয়া অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ঠিক করে পরিস্কার না করবার জন্য বয়লার মেকানিক এবং মেল ম্যানেজার কে কমিশন উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছিল। 1909 সাল নাগাদ কলকাতার বায়ু ভিষন পরিবর্তন দেখা যায় শুধু তাই নয় বিখ্যাত ইংরেজি খবরের কাগজে একটি লেখা বেরহয় সেটি ছিল Times of India ওখানে লেখা হয়েছিল“The average emission of dense, black smoke is now less than one sixth of what it was in April 1909" বলে রাখা দরকার যে এই সময় আলিপুর বোমা মামলার কথা সব কাগজর মুখ্য শিরোনাম। সেই সময় কলকাতায় কয়লার বদলে গ্যাস ও তেলের মটর চালু হয়। পরবর্তী কালে 1912 সাল নাগাদ কলকাতা শহরে একশোটির বেশী ইলেকট্রিক মেশিন চালু হয়। পরিদর্শকরা 4,463 টি ধোঁয়া নির্গমন কারখানা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা কারখানা, স্টোকিং যন্ত্রপাতি, জ্বালানি চুল্লি পরিদর্শন করেছেন এবং 278টি ঘটনা পরীক্ষা করেছেন। জনসাধারণও কমিশনকে উৎসাহের সাথে সমর্থন করেছেন এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে তারা নির্গমনের যে ঘটনাগুলি এড়িয়ে গেছেন সেগুলির প্রতি কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর সাথে যোগ করা হয় মধ্য কলকাতা অঞ্চলে নতুন কারখানা স্থাপনের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। 1923 সালের সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে সরকার শহরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত সমস্ত কর্মশালা এবং কারখানাগুলিকে অন্যত্র সরে যেতে বলেছিল। 1926 সালের মধ্যে, কলকাতায় বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ব্যাপক এবং দক্ষ ধোঁয়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল, উইলহেম লিখেছেন। সেই বছর, শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলির একটির উপরে কেন্দ্রীয় ধোঁয়া পর্যবেক্ষণাগারটি নির্মিত হয়েছিল। এর ফলে ধোঁয়া পরিদর্শক 80 মাইল পরিধির মধ্যে প্রতিটি কারখানার চিমনি জরিপ করতে সক্ষম হবেন! অবশেষে, এমনকি কলকাতা বন্দর কমিশনার এবং রেলওয়েকেও ধোঁয়া উপদ্রব কমিশনের আওতায় আনা হয়। কার্জনের আইন প্রণয়নের একশো চৌদ্দ বছর পর, শহরের বায়ু মানের সূচক, বিশেষ করে শীতকালে, বায়ু দূষণের মাত্রা কমানো না গেলে ভয়াবহ পরিণতির সতর্ক করে দিচ্ছে। স্বাধীনতার সত্তর বছরেরও বেশি সময় পরে, এবং আধুনিক কলকাতার শেখার কিছু আছে। তবে আজকের 2025 সালের কলকাতা সেই বায়ুদূষণ কিন্তু কলকাতা কে ঢেকে দিয়েছে, এখন সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ দিল্লিতে দেখা যায় তবে তারপর কলকাতা কে বলা হয় অন্যতম বায়ুদূষণ যুক্ত এলাকা এই 2026 সালের কলকাতার বায়ুদূষণ হয় তিনশো উপর, যেই কলকাতা ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বায়ুদূষণ মুক্ত এলাকা।
ছবি সূত্র - internet
Air pollution
Anti pollution
colonial calcutta
Factory
History
Kolkata
lord curzon
Pollution
Regulations
- Get link
- X
- Other Apps




Comments