- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| দশবতার তাস |
তাস এই শব্দটি আমরা সকলেই জানি, আর এটাও জানি যে এটা একটা খেলা। এই তাস রাজা, রাণী, গোলাম, বিবি, এক্কা এই হলো তাসের নাম আবার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে এই রাজা যে তাসটি থাকে, এই তাসের রাজার কিন্তু সত্যি কারের নাম রয়েছে। এই ধরুন রাজা ডেভিড, রাজা আলেকজান্ডার, রাজা জুলিয়াস সিজার আর রাজা চার্লেস। তাসে চারটি রাজা থাকে সেই চারটি রাজার নাম জানা গেল।
![]() |
| এখন কিংবা বলা ভালো বিদেশি তাস |
এবার তাস খেলা কোথায় শুরু হলো ? এই বিষয়ে বিভিন্ন পন্ডিতরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছে, তবে অনেক পন্ডিতরা মনে করেন তাস খেলার শুরু ভারতেই আইন ই আকবরিতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়,আর বাবরে মেয়ে গুলবদন লেখা হুমায়ুননামা’য় এই তাসের উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া কর্নাটক,মইশুর,রাজেস্থা ছাড়াও বহু অঞ্চলে এই তাস খেলার উল্লেখ আছে তবে সেটা তৎকালীন সময়ে তাস নাম ছিল না, ছিল ‘গঞ্জিফা’ এই তাস অথবা গঞ্জিফা সম্রাট আকবরের খুব পছন্দের খেলা ছিল বলে জানা যায়। এখন আমরা দেখেছি তাসের বাক্সে বাহান্নটা তাস থাকে, সেই সময় এই সব ছিল না কখনো কখনো ছিয়ানব্বই বা কমানো একশো চুয়াল্লিশটা তাস থাকতো সেগুলো হতো হাতির দাঁতের।
কিন্তু ধীরে ধীরে এই তাসের মধ্যে ফুটে উঠেছে দেবদেবীর ছবি। আমাদের বাঙালায় এই তাস ঢোকে শ্রীনিবসের হাত ধরেই, এই শ্রীনিবাস বিষ্ণু ভক্ত এবং তার হাত ধরেই রত্নাকর বাল্মিকী দষুত্যা ছেড়ে শান্তি পথে এগিয়ে যায়, তিনি শ্রীনিবাস হাত ধরেই বিষ্ণু ভক্ত হন। তবে এই তথ্যটি নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণ বা তথ্য খুঁজে পাইনি। এই শ্রীনিবাস হাত ধরে তাস বাংলায় ঢুকলো এবং একই সাথে তাসের মধ্যে ফুটে উঠল হিন্দু ধর্মের দশ অবতারের ছবি। এই দশবতার তাসে আমরা গেণেশ এবং কাতৃক ঠাকুর কে পাই বিষ্ণুর অবতারে সেটা একশো চুয়াল্লিশটা সেট এর তাসের মধ্যে আবার একশো কুড়িটা সেট এর তাসের মধ্যে আমরা গেণশ এবং কাতৃক কে পাই না। এই একশো কুড়িটা সেটে আমরা পাই মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম, জগন্নাথ আর কল্কি কে আমরা দেখতে পাই দশবতার রুপে। তবে এক্ষেত্রে পাই একটা তাসের সেট এ রাজা ও একটা মন্ত্রী। বাকি দশটায় থাকে অবতারের প্রহরণ বা জ্ঞাপক চিহ্ন। যেমন মৎস্য অবতারের মাছ, কূর্মর কচ্ছপ, বরাহের শঙ্খ, নৃসিংহের চক্র, বামনের হাঁড়ি, পরশুরামের টাঙ্গি, রামের বাণ, বলরামের গদা, জগন্নাথের পদ্ম এবং কল্কির তরবারি। প্রথম পাঁচ অবতার, অর্থাৎ মীন, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন— এই পাঁচটি তাসের ক্রমপর্যায় হল রাজা, মন্ত্রী, তার পর দশ, নয়, আটি (আট), সাতি (সাত) ইত্যাদি। আনন্দবাজার পত্রিকা অনুযায়ী এক্কা (এক) সব চেয়ে ছোট। পরের পাঁচটি অবতার, অর্থাৎ পরশুরাম থেকে কল্কি পর্যন্ত রাজা-মন্ত্রীর পর বড় এক্কা, তার পর দুরি (দুই)। এই করে সবচেয়ে ছোট দশ। দশ অবতার তাস পাঁচ জন মিলে খেলে, যা ১০ মিনিটের মধ্যেও শেষ হতে পারে। আবার এক ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে। সকালে খেলা হলে তাসের রাজা রামচন্দ্র, রাতে হলে মীন। এরপর ইউরোপীয়রা ভারতে তথা বাংলায় আসে এবং সেখান থেকে আমরা এখনকার বাহান্ন তাসের সেট আমাদের রোজকার জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে রোজকার ট্রাম,ট্রেন কিংবা বাসে।। এই জন্য আমার দশবতার তাসের কথা ভুলেই গেছি। তবে আনন্দবাজার পত্রিকা অনুযায়ী বীর হাম্বীরের উত্তরসূরি রাজা রঘুনাথ সিংহ এবং তাঁর ছেলে বীর সিংহের আমলেও এই খেলা বাংলায় বেশ জনপ্রিয় হয়।
![]() |
আর জায়গাটা ছিল বিষ্ণুপুর এই অঞ্চলেরএকমাত্র বিষ্ণুপুরের মনসাতলার ফৌজদার পরিবারের প্রচেষ্টায় টিমটিম করে বেঁচে আছে দশ অবতার তাসের অস্তিত্ব। এই পরিবারটি হাত তুলে দিলেই হারিয়ে যাবে এই শিল্প। সেই সময় বা বলা ভালো আজকের দিনে এই দশবতার তাস তৈরি করতে লাগে সাদা সুতির কাপড়, তেঁতুল বীজের আঠা, বেলের আঠা, শিরীষের আঠা এবং খড়িমাটি। এরপর সেই নিদৃষ্ট করে কেটে নেওয়া হয় তাস গুলো এর পর, ঐ গোলাকার অংশটাতে শিল্পীরা এঁকে ফেলে দশবতার কে। বিদেশে এই দশবতার তাসের নাকি খুব জনপ্রিয়, জানা গেছে দশবতার তাস হাতের শিল্প কলায় তৈরি এবং সেই জন্য বিদেশি মানুষজন এই তাস গুলি কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কারণ এখানে রয়েছে বিষ্ণু দশটা অবতার। এই খেলার নিয়ম রয়েছে প্রতিটি অবতারের জন্য ১২টি করে তাস থাকে। কী ভাবে খেলা হয়? শীতল বলে উঠলেন, ‘দশাবতার তাস খেলার জন্য পাঁচ জন খেলোয়াড়ের দরকার। প্রত্যেকে পান ২৪টি করে কার্ড। মূল খেলা ২৪ পয়েন্টের। তা চলে ১৭ দান পর্যন্ত। ১৭ বারে খেলা হলে শেষ হয় এক রাউন্ডের খেলা। তা চলতে পারে এক থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত। রয়েছে হার-জিত।’ যোগ করলেন, ‘ভোর থেকে রাত পর্যন্ত সময় অনুযায়ী খেলার নিয়মও হয় আলাদা ধরনের।’ এই তাস বা গঞ্জিফা কথা বিষ্ণুপুরের মানুষ কাছে থাকত, যদি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় এশিয়াটিক সোসাইটির একটি জার্নালে 1895 সালে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে না ধরতেন। পরবর্তীকালে বিনয় ঘোষ তার বইতে শাস্ত্রী মশাইয়ের বিবরন তুলেই ধরেছে, এমনকি কীভাবে এই খেলা খেলতে হয় এবং রয়েছে ওস্তাদ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এই খেলার বিবরণ তুলে ধরেন তার বইতে। এই খেলা সম্পর্কে আরও কিছু রয়েছে তার বইতে। আনন্দবাজার পত্রিকা অনুযায়ী এই তাস তৈরি করতে তেঁতুলবিচির আঠা, মেটে সিঁদুর, গালা, বেলের আঠা, শিরীষের আঠা, পুরনো কাপড়, খড়িমাটি ইত্যাদি এই তাসের উপকরণ। রং করার জন্য ব্যবহার করা হয়, সিমপাতার রস, হলুদ, কালি, নীল ইত্যাদি।
![]() |
| দশবতার তাস শিল্পী |
ফৌজদার পরিবার পুরোনো প্রথা মেনেই এই কাজ করে থাকে আবার সুত্রধরা প্রথমে কাপড় তিনভাঁজ করে পর-পর সাজিয়ে তেঁতুলবীচির আঠা বা ‘মাড়ি’ দিয়ে সাঁটা হয়। তারপর একাধিকবার খড়িমাটির প্রলেপ দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হয়। শুকিয়ে নেওয়ার পর ঝামাপাথর দিয়ে উপরের অংশ যতদূর সম্ভব মসৃণ করা হয়। একে বলে তাসের ‘জমিন’ প্রস্তুত করা, যা বেশ সময় সাপেক্ষ একটা কাজ। জমিন তৈরি হলে, তাসের আকার অনুযায়ী সেগুলো চক্রাকারে কেটে নেওয়া হয়। তারপর আরম্ভ হয় চিত্রাঙ্কন। বিভিন্ন অবতার, তাদের উজির ও প্রতীকচিহ্নসহ দশ থেকে টেক্কা পর্যন্ত সমস্ত ছবি আঁকা হয়। আঁকা শেষ হওয়ার পর মেটে সিঁদুর আর গালা টেনে ‘পিঠ’ তৈরি করা হয়। এই পিঠ তৈরি করার পদ্ধতিটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তাসের একদিকে ছবি আর একদিকে মেটে সিঁদুর ও গালার প্রলেপ থাকে। বিচিত্র সব রঙের অদ্ভুত সামঞ্জস্য রেখে তাসগুলো বানানো হয়। শিল্পীদের ধৈর্যের গভীরতা কতটা, তা এই তাস তৈরির প্রণালী থেকেই আন্দাজ করা যায়। দশাবতার তাসের এই রঙের সামঞ্জস্য ও নকশা থেকে বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত তাঁতশিল্পীরা কাপড়ের পাড় তৈরি করতেন। “পাটরাঙা” নামে স্থানীয় তন্তুবায় সম্প্রদায় দেশীয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন রঙও তৈরি করতেন। এখানে উল্লেখযোগ্য হলো বিষ্ণুপুরের ফৌজদার এবং সুত্রধরা এই কাজ করতে পারে। তবে এই ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে যাওয়ার মতোই হয়ে গেছে, খুব কম মানুষই এই দশবতার তাসের খবর রাখে। এখনো টিমটিম করে জ্বলছে এই তাস খেলার, শোনা জায় ফৌজদার কিংবা সুত্রধার পরিবাররা এই ঐতিহ্যবাহী তাস তৈরি করা জন্য কোনো ভাতা পান না। আরো এখন মানুষের সসয় নেই যে তারা আধুনিক Game ছেড়ে এই খেলা খেলবে, তাই মিউজিয়ামের আলমারি তে দেখতে পাওয়া যায় এই দশবতার তাস!
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - আনন্দবাজার পত্রিকা এবং এই সময় পত্রিকা
https://share.google/8Afkiez7x2li4K1ty
akbar
Bishnupur
colonial heritage
Heritage
History
Playing Cards
playing cards of bengal
দশাবতার তাস
- Get link
- X
- Other Apps




Comments