রেস্তোরাঁর মধ্যে লুকিয়ে রাখা চীনা চার্চ

 

টুং অন চার্চ


আমাদের কলকাতায় টেরিটিবাজার অঞ্চলে এখনো চীনের চার্চ বা আমাদের ভাষায় মন্দির এখনো রয়েছে। হ্যাঁ চীনারা তাদের উপাসনা স্থল কে চার্চ বলেই উল্লেখ করে,আসলে চীনে কালীবাড়ি হওয়ার জন্য এখন বাঙালিরা চীনে চার্চকে মন্দির বলে উল্লেখ করেন। আগেই বলেছি কীভাবে চীনারা ভারতে ঢুকেছিল এবং কী তাদের পেশা ছিল। তবে এই চার্চ কে আমরা অন্যভাবে চিনি, আমরা এই চার্চ কে আমরা রেস্তরাঁ হিসাবে চিনি যার নাম নানকিং। কিন্তু চার্চ এই রেস্তোরাঁ মধ্যে ঝামেলা ছিল।১০ ব্ল্যাক বার্ন লেনে যাই তাহলে আমরা এই রেস্তোরাঁ বিল্ডিং দেখতে পাই, কিন্তু আমরা যাকে রেস্তোরাঁ হিসাবে জানি সেই বিল্ডিং এর চার্চ। আসলে এই লাল রঙের বিল্ডিং এ উপরে চীনা ক্যালিগ্রাফি তে লেখা থাকতো টুং অন চার্চ আর নিচে নানকিং রেস্তোরাঁ।

নানকিং রেস্তোরাঁ এবং চার্চ 


 কিন্তু চার্চ কতৃপক্ষের সঙ্গে অনেক দিন নানকিং রেস্তোরাঁ মামলা চলে। একসময় ঐ ক্যালিগ্রাফির উপর রেস্তোরাঁ নাম লাগানো থাকতো এবং বলা হয় সমানে নোংরার স্তুপ একসময় বিখ্যাত কত মানুষ এই জায়গায় এসেছে, কিন্তু এখন সেখানে এই আবর্জনা স্তুপ করে রাখা, জানা নেই আবর্জনা স্তুপ দেখে মানুষ এখানে খেতে আসত কী না! কিন্তু এই আবর্জনা স্তুপ পেরিয়ে মানুষ যখন এখানে ঢোকে তখন দেখা যাবে মন্দিরের কিছুই নেই, মাঝখানে অবশ্য নানকিং বদলে লাল ক্যালিগ্রাফি ওপর টুং অন চার্চের ব্যানার লাগানো রয়েছে।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রেস্তোরাঁর নামের প্লেট

 আসলে 1924 সালে প্রথম এই রেস্তোরাঁ চালু হয়, এবং মনে করা হয় এটাই কলকাতায় খোলা প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। কিন্তু রেস্টুরেন্টে মালিক আউ পরিবার কোনো ভাবেই জানাতে চাননি যে এই বিল্ডিং প্রথম তলায় রয়েছে একটি সুন্দর চীনা চার্চ। এখানে চার্চ টি ছিল যুদ্ধের দেবতা কোয়ান টি র সেই জন্য ওখানে প্রচুর পরিমাণে প্রাচীন অস্ত্র দিয়ে সাজানো ছিল। সেই জন্য এখনকার নীচের তলায় বন্ধ থাকতো। এমনকি চার্চ টি চলতো ট্রাস্টের টাকায় কিন্তু অনেক কাগজ পত্র ছিল আউ পরিবারের হাতে, তাই তারা কখনো চাইনি এমনি চার্চ সবার সামনে আসুক। কিন্তু লোভ তো কাউকে ছাড়ে না, এই লোভের জন্য মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হয়, কিন্তু এই লোভ মানুষকে ম‌ৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। ঠিক তাই হয়েছিল যেহেতু এই রেস্তোরাঁ ক্যালকাটা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ পেছন দিকে তাই ক্যালকাটা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ নিজের রেয়েল এস্টেট বাড়ানোর তারা নানকিং রেস্তোরাঁ কে ভেঙে ফেলার ভয় দেখায়, আউ পরিবারের কোর্টের স্মরনাপন্ন হয় 1961 সালে, সেই সময় টুং অন চার্চের আসল কাগজ পত্র দাখিল করে ট্রাস্টি বোর্ড এবং হস্তান্তর করে, যা তারা আর ফেরত দেয়নি, অর্থাৎ নানকিং রেস্তোরাঁ। এতদিন এই নানকিং রেস্তোরাঁ টিকে ছিল কারণ ওটা ছিল চার্চ। জানা গেছে যে 1970 দিকে নানকিং রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যায়। আউ পরিবার তাদের জায়গাটিকে বিক্রি করার চেষ্টা করে কিন্তু সেটা কেনার মতো লোক তারা পায়নি, পরবর্তী কালে তারা মন্দিরের জিনিস পত্র রাতের অন্ধকারে বিক্রি করে দেয়। দুইহাজার আট সালে আদালতে এই মামলা খারিজ হয়ে যায় কারণ আউ ইয়াউ ওয়াহ মারা যান। তার কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ ছিল না,যার ফলে চার্চ ট্রাস্টি টুং অন দখল করে।

টুং অন চার্চে বুদ্ধদেবের মূর্তি 


 কিন্তু দেখা গেল যে ট্রাস্টি একটি নতুন সমস্যার সম্মুখীন হন। দেখা গেল এই রাস্তায় বিশেষ করে চার্চের ঢোকার মুখেই ঐ আবর্জনা স্তুপ ছিল বা বলা ভালো থাকতো, সেই সময় কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটি কোর্পরেশন বলা ভালো ঐ যাগাটি পরিষ্কার করতে তারা অবশ্যই করে তে সেইরকম ভাবে নয়। এখনো কলকাতা মনে রেখেছে ঐ চার্চকে। কিন্তু এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তারা ভারতের যায়গা নিতে পারবেন না এবং ভারতীয়দের চৈনিক করতে পারবেন না। 

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র -Toong On Church, Rebirth of a Chinese Temple | Rangan Datta https://share.google/ZqlB0qbSWa20fycnG 

Nanking Restaurant – first Chinese Restaurant of India started in Kolkata in 1925! https://share.google/dI9TdxX2zgfNEHxde

Comments