বোগলে সাহেবের অজানা কথা


জর্জ বোগলে 


 আমাদের কলকাতায় বিশেষ কিছু আছে সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমিট্রতে, অনেক নবলা কথা রয়েগেছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অজানাই থেকে যাবে যদি সেমিট্র গুলি কোনো কথা না জানায়। গত সপ্তাহে একটি বিখ্যাত YouTube channel মাধ্যমে এই মানুষটির কথা জানতে পারলাম জিনি শুয়ে আছে আমাদের কলকাতার গোরস্থানে। তাই ইচ্ছে মানুষটির কথা জানতে, জর্জ বোগলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরেই ভারতে এসেছিলেন। বোগলে সাহেব বাবা ছিলেন গ্লাসগো শহরের বিখ্যাত তামাক ব্যাবসায়ী এবং তার মা ছিলেন স্কটল্যান্ডের জেমস এক এবং জেমস দুইয়ের বংশধর আনে সিনক্লেয়ার, যার ফলে ব্রিটিশ এবং স্কটল্যান্ডের সাথে ভালোই যোগাযোগ ছিল, এর অন‌্যতম কারণ ছিল তাদের ব্যবসা। তার ছোটবেলার জীবন সম্পর্কে অতকিছূ জানা যায় না, বোগলে সাহেব এনফিল্ড বেসরকারি স্কুল থেকে পাস করে এনফিল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে যুক্তিগত বিদ্যায় গ্রেডুয়েট হন। এরপর বগলে সাহেব চলে আসেন লন্ডনে তার ভাই রর্বাটের কাছে। এখানে তিনি বগলে অ্যান্ড স্কটের অফিসে তিনি ক্যাশিয়ারের পদে নিযুক্ত হন। বগলে অ্যান্ড স্কট কোম্পানিটি Transatlantic slave ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিল, অর্থাৎ দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তখনকার দিনের এটি প্রচলিত ব্যবসা ছিল। জানা যায় তেইশ বছর বয়সে বোগলে সাহেব তার পারিবারিক সূত্রকে কাজ লাগিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তে রাইটার চাকরি পেয়ে, তাহলে দেখাই যাচ্ছে তখনো নেপো ব্যবস্থা ছিল এখনকার মতো। 1770 সালে বগলে সাহেব ভারতের তৎকালীন রাজধানী কলকাতা আসেন, তার বিভিন্ন চিঠি এবং দলিল পত্র ঘাঁটলে দেখা যায় তিনি বেশ প্রাণবন্ত লেখক ছিলেন। তিনি রাইটার হিসেবে খুব ভালোই ছিলেন এবং কোম্পানিতে তার রেপুটেশন খুব ভালোই ছিল, জানা যায় তিনি খুব বন্ধুসুলভ ব্যবহার করতেন এবং যে কোনো সাহেব সহচর হিসেবে বেশ নামডাক ছিল তার। এই সব কথা কানে যেত ওয়ারেন হেস্টিংসের এবং সেই কারণে গভর্নর জেনারেল হেস্টিংস সাহেব বোগলে সাহেব কে তার প্রাইভেট সেক্রেটারি পদে নিযুক্ত করেন। 

ওয়ারেন হেস্টিংস 


1773 তৎকালীন নর্থ বেঙ্গলের কোচবিহারের রাজা কাছথেকে একটি চিঠি মারফত জানানো হয় তাদের কে সাহায্য করার জন্য বাকি গল্পটা আপনারা ভিডিও তে দেখে নিয়েছেন বা নেবেন লিঙ্ক অবশ্যই দেওয়া থাকবে। আর হেস্টিংস কী উদ্দেশ্য ছিল সেগুলো আপনারা দেখে নেবেন। হেস্টিংস বোগলে সাহেব কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল 1774 সালের 18 মে হেস্টিংস নির্দেশে বলা হয়েছিলো “I desire you will proceed to Lhasa … The design of your mission is to open a mutual and equal communication of trade between the inhabitants of Bhutan [Tibet] and Bengal … You will take with you samples, for a trial of such articles of commerce as may be sent from this country … and you will diligently inform yourself of the manufactures, productions, goods introduced by the intercourse with other countries which are to be procured in Bhutan … The following will be also proper objects of your inquiry: the nature of the roads between the borders of Bengal and Lhasa and the neighbouring countries, their government, revenue and manners … The period of your stay must be left to your discretion. 

ওয়ারেন হেস্টিংস এর লেখা চিঠি বোগলে সাহেব কে 


ঐ সালেই বোগলে তিব্বতের উদ্দেশ্য রওনা দেয়, তার সাথে ছিল মিলিটারি ডাক্তার আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন। কিন্তু কোনো ভাবেই তারা চীনে ঢুকতে পারেনি, সেই সময় চীনে চলছিল কিং শাসন ( Qing government ). বোগলে সাহেব তিব্বতে যায় অনেক লামা বিশেষ করে সপ্তম দালাইলামা সঙ্গে কথা বলেন সেখানকার রাজনীতি এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে যতটা সম্ভব শেখা যায় ততটা শেখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু চীনে তিনি ঢুকতে পারেন নি।

শিল্পী আঁকায় তিব্বতে বোগলে সাহেবের চা খাওয়া ছবি 

 ছয় মাস তিব্বতে লামাদের সঙ্গে তিনি থাকেন, তার লেখা জার্নাল থেকে জানা যায়, তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন, তিনি এও বলেছেন যে 'পাহাড়ের মধ্যে কাটানো সময়গুলো দেখলে মনে হয় যেন এটি একটি রূপকথার স্বপ্ন। তার এই জার্নাল পরে প্রকাশিত হয়েছিল তবে তার কোন বই হিসাবে নয় বরং তার লেখা জার্নাল সাহায্য করেছিল তিব্বত এবং সেই সঙ্গে ঐসময়ের তিব্বতীয় সংস্কৃতি বুঝতে, পরবর্তীতে কালে তৈরি হয় একটি বই যার নাম The myth of Tibet as Shangri-la. বোগলে সাহেব ভারতে এসে যা করবার কথা হয়েছিল তাই করেছিলেন, কিন্তু কোনো ভাবেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে চীনের বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। 

বোগলে সাহেবের সমাধি পার্ক স্ট্রিটের কবর স্থানে 

বোগলে সাহেব এপ্রিল মাসের তিন তারিখে মারা যান সালটি ছিল 1781 মনে করা তিনি কলেরা রোগে আক্রান্ত হন এবং সেই জন্য তার মৃত্যু হয়। যখন বোগল তিব্বত ত্যাগ করেন, এবং বিচ্ছেদের মুহূর্তটি আসে, তেশু লামা তার নিজের গলা থেকে তিনটি মোহনীয় পুঁতির সুতো বের করেন, যার একটি মালা তৈরি করে, এবং তার বন্ধুকে উপহার দেন, তাকে বলেন যে তিনি যাদেরকে এগুলো দিয়েছেন তারা সমস্ত অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাবেন। বোগল দুলের অলঙ্কার সহ নীচের সুতোটি তার বোন মিসেস ব্রাউনকে দিয়েছিলেন এবং এটি এখন তার নাতনী মিসেস ব্রাউন অফ ল্যানফাইনের মালিকানাধীন। উপরের সুতোটি তিনি তার খুরতোত ভাই এর বৌ মিসেস মোরহেডকে দিয়েছিলেন, যিনি তার ছেলে কোবার্টের জ্যেষ্ঠ কন্যাকে, এখন লেডি লোথারকে দিয়েছিলেনন। এই কথা বলা হয় তিনি কখনো বিয়ে করেন নি কিন্তু তার এক ছেলে জর্জ দুই মেয়ে, মার্থা এবং মেরি রেখে গেছেন। পারিবারিক কাহিনী অনুসারে, মেয়েদের মা ছিলেন একজন তিব্বতি (এই টা একটু রহস্যজনক ব্যাপার )। দুই মেয়েকে স্কটল্যান্ডে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে বোগলের পরিবার তাদের লালন-পালন করে এবং অবশেষে স্কটল্যান্ডের লোকদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তার দুই মেয়ে। এই সব কথা এখনো মনে করিয়ে দেয় কল্লোলিনী কলকাতা।

ভিডিও টা অবশ্যই দেখবেন - https://youtu.be/rtCTjRPE2S8?si=udhq_Y1zljr9BPcK

ছবি সূত্র - Internet 

তথ্য সূত্র - Source: Kevin Standage https://share.google/MJRyBm6xF8hnp8J8z

https://www.facebook.com/share/p/1KHLTRbJBm/

Source: Internet Archive https://share.google/yHC28FTWytu0oVNE1

Comments