খ্রিষ্টানদের মরা পোড়ানোর যায়গা

কলকাতার Gas Crematorium

 আমাদের এই শহরে কিন্তু অনেক মানুষের বসবাস সেই ব্রিটিশ আমলের আগে থেকেই সার্বন রায়চৌধুরীর পরিবার বিভিন্ন মানুষকে বসবাসের জন্য জায়গা করে দিয়েছিল, তবে সবাই কিন্তু বিদেশি ছিল। হ্যাঁ ব্রিটিশরা আসার অনেক আগে থেকেই বহু বিদেশি যেমন, পর্তুগিজ,গ্রীক,ডাচ সহ বহু মানুষের বাসস্থান ছিল এই কলকাতা। তবে আস্তে আস্তে ব্রিটিশরা ভারত তথা বিশেষ করে তৎকালীন রাজধানী কলকাতা তে বিদেশি আর ছিলোই না। ব্রিটিশরা কলকাতা দখল করার পর কেন জানি না বেশী গোরস্থান বানায়নি। তবে দেশ ছাড়ার আগে তারা একটি গোরস্থান বদলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শ্মাশান। কিন্তু সেটা করার কথা না কারণ সাধারণত কেউ মারা গেলে তাকে কফিন বন্দি করে কবর দেওয়া হয়, কিন্তু এখানে একটু আলাদা এখানে বলা হয় যে সেই মানুষটি ছাই ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়,কবর দেওয়া জন্য। আবার কেউ সেই ছাইভস্ম নিজের বাড়িতে রেখে দেয়। জানা যায় কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলে এই রকম একটি জায়গা রয়েছে, অনেক ঐ রাস্তাটিকে বলে Crematorium Street. এও বলা হয় যে ঐ লাল ছাদ সঙ্গে একটি বেল টাওয়ার এবং তার সঙ্গে রয়েছে গ্রিক কারুকার্য যুক্ত জানালা আসলেদুর থেকে দেখেই মনে একটি চার্চ।

 কিন্তু এটি চার্চ নয় এটি হল খ্রিস্টান দের শ্মশান আর যেটা বেল টাওয়ার বলে সবাই ভুল করে সেটা হলো চিমনি। প্রশ্ন উঠতেই পারে শ্মশানে চিমনির কী কাজ? তখন এই এখনকার মতো বৈদ্যুতিক চুল্লি ছিল না! আসলে ঐ শ্মশানটি গ্যাস দ্বারা পরিচালিত, ওখানে কোনো মৃত ব্যক্তির পোড়ানো হতো এই গ্যাস চালিত গোথিক কারুকার্য যুক্ত বাড়িতে।

গথিক কাজ

 তবে খ্রিস্টান দের কোনো মাঠে বা খোলামেলা চত্বরে পোড়ানো হতো না বা বলা ভালো তাদের আপত্তি ছিল, সেই জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার হুগলি নদীর ধারে এই জায়গায় টি নির্মাণ করেন। ব্রিটিশ সরকার সেই সময় এই Crematorium নির্মানের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফ্রান্সের একটি কোম্পানি উপর, এই কোম্পানিটি ছিল Toisoul Fradet & Co. এটি প্রধানত প্যারিসে অবস্থিত হয়েছিল। সেই সময় ব্রিটিশ সরকার অনেক বিবেচনা করে এই কোম্পানিটিকে এই Crematorium করার দায়িত্ব দেয়।




 কারণ তারা দেখেছিল যে এই কোম্পানিটি সারা বিশ্ব জুড়ে এই রকম Crematorium বানিয়েছে, প্যারিসে তারা বানিয়েছে Crematorium এবং আরো জায়গায় যেমন নিজের দেশের মার্সেই তারা Crematorium তৈরি করেছে এছাড়া ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে এবং জার্মানির ডেসাউতে বেশ কয়েকটি Crematorium তৈরি করে। তবে প্যারিসে তারা Crematorium এর প্রথমধাপ তৈরি করে কিন্তু কলকাতায় তারা শ্মাশান ঘাটের দ্বিতীয় ধাপ তৈরি করে, প্রথমধাপ কলকাতায় তারা লাগায় নি বা বলা ভালো কলকাতার জায়গাটা দ্বিতীয় ধাপের জন্যে একদম ঠিক ছিল। কলকাতার এই গথিক খিলান যুক্ত শ্মশানে ইট অর পাথরের তৈরি একটি চিমনি হয়েছিল এবং সেটা এখনো রয়েছে, এই চমিনি ছিল দশ ফুটের। 

সেই যায়গা যেখানে পোড়ানো হতো 

সেই সময় ব্রিটিশরা যার কলকাতায় এসেছিলেন তারা এই শ্মাশান ঘাট তৈরি হয়েছে দেখে খুব খুশি হয়েছিল, কারণ একটি কফিন বন্দি দেহ ভারত থেকে ইংল্যান্ডে পাঠানো জন্য অনেক খরচ করতে হতো,এখন যদি মৃত ব্যক্তির ছাই ইংল্যান্ডে পাঠানো যায় বা নিয়ে যাওয়া যায় এক্ষেত্রে খরচ হবে অনেক কম, যার ফলে ব্রিটিশরা আনন্দ পয়েছিল। এই Crematorium 1906 সালে এটি তৈরি হয়। পরবর্তী কালে এই Crematorium টি ব্রাক্ষ সমাজের হাতে চলে যায় টেলিগ্রাফ পত্রিকা মারফত জানা যায় যে যারা পূর্ব ও পাশ্চাত্য দর্শনের এক আকর্ষণীয় মিশ্রণ অনুসরণ করতেন - তাদের শেষকৃত্যের জন্য। বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু, যিনি ১৯৩৭ সালে মারা যান, তিনিও এই সম্প্রদায়ের অংশ ছিলেন এবং গ্যাস শ্মশানে তাঁর দাহ করা হয়েছিল। 




১৯৭৮ সাল পর্যন্ত শ্মশানটি চালু ছিল, যখন কলকাতার ভয়াবহ বন্যায় গ্যাস সরবরাহের পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তী কালে এই Crematorium আর ব্যবহার করা হয়নি, এখন একই ভাবে পড়ে আছে Crematorium, এখনো সঠিক ভাবে এখানে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানো এখনো যায়গা টি যেরকম ছিল সেই রকমই আছে, এখনো Crematorium বার বার মনে করিয়ে দেয় পুরনো কলকাতার কথা।

ছবি সূত্র - internet 

Comments