সেই কোমাগাটা মারু ঘটনা

কোমাগাটা মেমোরিয়াল 


আমাদের কলকাতায় কিন্তু বিভিন্ন ধরনের মেমোরিয়াল রয়েছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই যুদ্ধে র তেমনি রয়েছে কাউকে মনে করে রাখার জন্য আবার তেমনি কোনো দুঃখজনক ঘটনাকে মনের করে জন্য মেমোরিয়াল বা স্টেচূ। তেমন এক মোমোরিয়ালের কথা জানতে পারলাম কিছুদিন আগে, বজবজে রয়েছে এই মেমোরিয়াল টি এই মেমোরিয়ালটির নাম কোমাগাটা মারু মেমোরিয়াল। এবার বলি কেন এটি তৈরি করা হয়েছিল, আসলে ঘটনা হলো যে হংকং এর একদল মানুষ ঠিক করেন যে তারা নিজেদের একটি জাহাজ বানিয়ে সমুদ্র পথে ক্যানেডা যাবেন। এবং এই জাহাজে শুধুমাত্র শিখ দের নিয়ে যাওয়া হবে,এর থেকে প্রমাণ হয়ে এই কোমাগাতা মারু জাহাজটির নিশ্চয়ই তৈরী করেন একজন শিখ। তারসাথে এও বলা হয় যে তারা ক্যানেডায় তারা নিজেদের মতো কাজ করে নেবে এবং ক্যানাডায় তার তাদের থাকার জায়গা করবে। কিন্তু এই জাহাজে চীনারা ছিল এবং তার সঙ্গে ছিল সাতাশ জন মুসলিম এবং বারো জন হিন্দু আর শিখদের সংখ্যা ছিল তিনশো সাঁইত্রিশ, কেন সে কথা আগেই উল্লেখ করেছি।

কোমাগাটা মারু জাহাজ 


 এই কোমাগাটা মারু জাহাজটির ক্যানেডার ভ্যাঙ্কুভারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে 1914 সালের তেইশ মে। কোমাগাতা মারু জাহাজটির হংকং থেকে যাত্রা পথ ছিল এই রকম 1914 সালে তাঁরা যাত্রা শুরু করে যার কথা আগেই বলেছি, এর তারা সাংহাই পৌঁছায়, সাংহাই থেকে তাঁরা পৌঁছে ইয়োকোহামা থেকে তাঁরা পৌঁছে যায় ক্যানাডায়। এই জাহাজ টি ছিল স্টিমশিপ! কিন্তু ক্যানেডায় ঢুকে তাঁরা দেখতে পাওয়া চীনাদের তারা খুব সহজেই নিজের দেশে ঢুকতে দিচ্ছে, কিন্তু ভারতীয়দের ক্ষেত্রে অমানবিক নির্যাতনের শেষ ছিল না। এমনকি তারা ক্যানেডার সেনাবাহিনীর কথা তথাকথিত জোরে করে জাহাজের ফেরত পাঠানো হয় এবং বলা হয় ভারতের বজবজে চলে যেতে। আরো জানা যায় ভারতে ঢুকলে উনিশ জনের উপর ব্রিটিশ সরকার গুলি চালায়। তৎকালীন সময়ে হংকং এবং ক্যানেডা ছিল ব্রিটিশদের আধিপত্য এবং দুই পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় যেন ওখানে আশ্রয় না দেওয়া হয়। বাবা গুরডিত সিংহে হংকং এ কারাবন্দী করা হয়। 

ছবিতে গুরডিত সিংহ 


এই সিংহ জি 1920 সালে অব্দি আত্মগোপন করে ছিলেন, ব্রিটিশ সরকার তার রিপোর্টে লিখেছিল "কোমাগাটা মারু তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন" দাখিল করার সময়, সিং তার গল্পের দিকটি - পাঞ্জাবি ভাষায় জুলমি কথা এবং "ভয়েজ অফ কোমাগাটামারু: ইন্ডিয়া স্লেভারি অ্যাব্রোড" - লিখেছিলেন যা ঘটনার অন্ধকার ইতিহাস উন্মোচিত করেছিল। তবে ওই একই সালে অর্থাৎ 1914 সালে এই কোমাগাতা মারু বজবজে চলে আসে বা বলা ভালো ঐ দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই কোমাগাটা মারুর যাত্রিরা একটু নাম যে চেয়েছিলেন জাহাজ থেকে নেমে একটু বিশ্রাম করতে কারণ তাদের এতদিন আর ভাবে সমুদ্র যাত্রা করতে হবে তা ভাবতেও পারেনি। ও দলের বাবা গুরদিত সিংহ ব্রিটিশ পুলিশ সাথে কথা বলে চেয়েছিলেন এবং বলেছিলে গুরুদ্বারে শুধুমাত্র গুরু গ্রন্থ সাহেব কে তৎকালীন কলকাতায় রেখে যাবেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার পুলিশ সেটা শোনেনি তারা খুব জোর করে কোমাগাতা মারু জাহাজটির কে পাঞ্জাবে ফেরত পাঠানোর জন্য তোড়জোড় শুরু করে।

জাহাজের যাত্রীরা


 এবং সব যাত্রী কে বলে জাহাজে ফেরত যেতে, এই রকম পরিস্থিতিতে গুরদিত সিংহ এর বিরোধিতা করে এবং পুলিশ কে লাঠি মারে।

সেই সব মৃত্যুবরণ করা যাত্রীরা 


এরপর ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে পুলিশ তৎখনাৎ গুলি চালায় এবং বহু মানুষের প্রাণ যায়, শুধু মাত্র নিজেদের বাড়িতে ফেরার জন্য নিজের দেশে মরতে হলো তাদের। বজবজে এই ঘটনার একটি স্মৃতি সৌধ রয়েছে এই স্মৃতি সৌধ টি করেন হাবিব রহমান।

ছবিতে হাবিব রহমান 

 এই স্মৃতিসৌধ টি দেখতে অনেক টা প্রায় কৃপাণ এর মতো।এই স্মৃতিস্তম্ভের গোড়ায়, আপনি বজবজে কোমাগাটা মারু ঘটনার বিভিন্ন দৃশ্য চিত্রিত করে বেশ কয়েকটি ছবি দেখতে পাওয়া যায়।

বর্তমানে এই মেমোরিয়াল 


সামনে, বাবা গুরদিত সিং-এর মুখ রয়েছে যিনি জাহাজের যাত্রীদের জন্য কার্যত নেতা ছিলেন।বজবজে কোমাগাটা মারু দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের নাম লেখা একটি পাথরের ফলক রয়েছে, এই তালিকায় পরোক্ষ গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যাত্রীদের উপর পুলিশের আক্রমণের সময় পরোক্ষভাবে নিহত ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কর্তৃক স্মারক উদ্বোধনের স্মরণে আরেকটি পাথরের ফলক রয়েছে। এই ভাবে কলকাতায় রয়েছে কোমগাতা মারুর স্মৃতি !

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - https://indianexpress.com/article/opinion/columns/komagata-maru-tragedy-address-colonial-oppression-7932020/

https://www.pib.gov.in/newsite/erelcontent.aspx?relid=110116

Comments