- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| বসরী শাহ্ মসজিদ |
আমাদের কলকাতা কিন্তু কোন জায়গায় থেকে কম যায় না, কারণ এখানে সবধরনের মানুষের বসবাস। তাই সব অনুষ্ঠান পালন করা হয় আর ঐ জন্য বাঙালির কথায় রয়েছে বারো মাসে তেরো পার্বণ। কলকাতা তেমনি অনেক পুরনো জিনিস এখনো দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বসরী শাহ মসজিদ। এটি নাকি অনেক পুরনো, এমনকি ব্রিটিশ সাহেব Sir Evan Cotton তার বই Calcutta Old New A Historical And Descriptive Handbook to the city যেটি 1907 সালে প্রকাশিত হয় সেখানে এই সাহেব এই মসজিদটির নাম পাল্টে যায়, এই সাহেব তার এই বইতে মসজিদটির নাম লেখেন Tomb of Bhonsri Shah. আর এর পর থেকেই নাম পাল্টাতে থাকে এমনকি এর নামই পাল্টে যায়। তবে এই তিনটি সবুজ রঙের গম্বুজধারি মসজিদ ব্রিটিশ সরকার এর সময় ছিল এবং এখনো আছে। এটি একটি হেরিটেজ তো বটেই তবে কে আর কবে এই মসজিদটি তৈরি করেছিল সেটা এখনো সঠিক ভাবে জানা যায়নি, শোনা যায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনেক বলে এটি একটি লক গ্রেড রোড হিসেবে জনপ্রিয়। এই মসজিদটির বিষয়ে অনেক কিছু জানা যায় পীযূষ কান্তি রায় এর বই মস্কস ইন কলকাতা বই তে। অনেক মনে করেন যে এটি বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের মসজিদ এর কারণ হিসেবে জানা যায় তথকাথিত কলকাতা শহর ছিল না,তার বদলে ছিল সুতানুটি, গোবিন্দপুর এবং কলিকাতা নামের তিনটি গ্রাম এরপর যখন ব্রিটিশ সরকার শোভাবাজার রাজবাড়ির কাছ থেকে তিনটি গ্রামের অধিকার মানে সেই রাজবাড়ি কে গ্রামের ভাড়া দিতে শুরু করেন এবং তিনটি গ্রাম কে একসাথে করে কলকাতা শহর তৈরি করেন এবং আস্থে আস্থে গ্রাম থেকে লোকে শহর আসতে শুরু করেন তাদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম মানুষজন ছিল তারা শহরের পথে হাঁটা দেয়। শোনা যায় এই মসজিদটির কাছে একটা কে মসজিদটি তৈরি করে তার একটি পাথর ছিল, কিন্তু এখন আর সেটা পাওয়া যায় না। সেখানে নাকি উল্লেখ করা ছিল যে জা্ফির আলি একটি পুরনো মসজিদ উপর এটি নির্মাণ করেন 1804 সালে অনেক মনে করেন ইনি সেই বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর। তিনি নবাবি ছেড়ে কলকাতা কিছুদিন ছিলেন, তখনি তার এই সৃষ্টি অবশ্য নবাবি ছেড়ে মানে ব্রিটিশরা তাঁকে নবাব এর পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু আবার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় মিরজাফরের মৃত্যু হয়েছে 39 বছর বয়সে 1765 সালে তাহলে বোঝাই যাচ্ছে এই কার্য তার না। এখানে বলে রাখা দরকার যে হাসান বসরী শাহ্ একজন সুফি ভিক্ষুক ছিলেন, তার মৃত্যুর পর তাকে পীর বা সাধক বলা হয়েছে। এই বসরী শাহ্ নামের "বসরী" শব্দটি এসেছে তার জন্মস্থান ইরাক থেকে এসেছে। তবে অনেক বলেন হয়তো তিনি কলকাতায় এসেছিলেন আঠেরো শতকে কারণ তার নাম দুটি জিনিস কলকাতা শহরে বিরাজমান একটি মসজিদ আরো একটি হলো দারগাহ।
![]() |
| বসরী শাহের দরগাহ |
আবার মসজিদ নির্মাণ এর কথায় আসি, এই মসজিদটি নির্মাণের সঙ্গে আরও একজনের নাম পাওয়া যায় তিনি হলেন রেজা আলী খান। এই খান সাহেব ছিলেন স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারের অন্যতম ব্যাক্তিত্ব। এই খান সাহেব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলার তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর। কিন্তু তিনি যখন দেখলেন 1757 পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে পুরো ক্ষমতা চলে যাচ্ছে তখন তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দিকে চলে গেলেন এবং রবার্ট ক্লাইভের সাথে ভালো বন্ধুত্ব করে নেন এবং কোম্পানি তাকে বাংলার দিয়ান ওরফে ডেপুটি গভর্নর পদ নিযুক্ত করে নবাবের ওখানে একই পদ ছিল প্রমোসন কিন্তু হলো না। যাই হোক কোম্পানি তাকে ঐতিহাসিক রা বলেন বাংলার ভার্চুয়াল নবাব।
![]() |
| রর্বাট ক্লাইভ |
কিন্তু ব্রিটিশরা চেয়ে ছিল তাদের আয়ত্বে থাকুক, যেমন ভাবনা তেমন কাজ ব্রিটিশ নিজেদের হাতে রেভেনিউ রাখার জন্য 1769 সালে একটি পদ খোলেন সেই পদের নাম ছিল ডিস্ট্রিক্ট সুপারভাইজার। রেজা খান কে রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র কতৃত্বের জন্য, যদিও এটি ছিল মানুষ কে দেখানোর জন্য। কিন্তু ব্রিটিশরা কোনো এক কৌশলে রেজা খান কে জেলে পোরেন 1772 সালে। কিন্তু রেজা খান প্রমাণ করে দেয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাকে বলির পাঁঠা করেন এবং তিনি আবার ডেপুটি গভর্নর পদে নিযুক্ত হন 1775 সালে এবং লর্ড কর্নয়ালিস 1791 সালে ঐ পদ অর্থাৎ পোস্ট সুপারভাইজার পদ তুলে দেন।
![]() |
| কর্নওয়ালিস |
রেজা খান কলকাতা অনেক দিন ছিলেন এবং তিনি নাকি এই মসজিদটি দান করেন এবং তিনি নাকি এই মসজিদটি তৈরি করার সময় ছিলেন, ঐতিহাসিক প্রমাণ না থাকার কারণে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না যে এটি তার কৃতি। এই রকম একটি অবস্থায় আমরা জানতে পারি যে এই মসজিদটির পাশেই কিছুটা পথ গিয়ে রয়েছে একটি দারগাহ, আগেই বলেছি যে দারগাহ নামেই রয়েছে বাসরী শাহ্ এর নাম, এই দারগাহ ঠিক ভাবে বাসরী শাহ্ এর নাম যুক্ত রয়েছে এখানে একটি ছোট্ট ছাতার তলায় একটি সমাধি রয়েছে, জানা যায় একটি বাসরী শাহ্ এর সমাধি। কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটি অনেক দিন আগেই এই মসজিদটি হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু এখানে উল্লেখ্য যে এই দারগাহ কেও হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই দারগাহ কি বাসরী শাহ্ মাজার হিসাবে পরিচিত।
![]() |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা 984 |
কিন্তু এখানে গন্ডগোল করেদেন ব্রিটিশ লেখক Sir H E A Cotton এর বই Calcutta Old and New, এখানে নাম তো উনি ঠিক ভাবে নেন নি এবং লিখেছেন তিনি আরো লিখেছেন The masjid is nearer to Calcutta than the shrine on the bank of the canal.’ এর সঙ্গে লেখা রয়েছে It is frequented by both Mahomedans and Hindoos, and is reputed to have healing powers. তবে এই বিষয়ে নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে না যার যেখানে গিয়ে আরাম হয় তার সেখানে যাওয়া ভালো, এবং তাকে বাধা দেওয়া যায় না। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্রিটিশরা হয়তো ভুলে গেছেন তারা কী কান্ড করেদিয়ে গেছেন। যাই হোক ঐ দারগাহ তে আরবী ভাষায় মার্বেল পাথর উপর লেখা রয়েছে তবে, এই দারগাহ এর কবে তৈরি হয়েছিল এবং বসরী শাহ্ এর সাথে কীভাবে যুক্ত হলো সে বিষয়ে কিছু জানা যায় না। কিন্তু লেখক পীযূষ কান্তি রায়ের বই থেকে জানা যায় যে জানতে পারেন যে দরবেশের নাম 'বসরিয়া রহমতুল্লাহ আল্লাহে', যিনি ইরাকের বন্দর শহর বসরা থেকে এসেছিলেন। ১৭৬০ থেকে ১৭৯০ সালের মধ্যে কলকাতায় বসতি স্থাপনের পর, স্থানীয় লোকেরা তাকে 'বসরিয়া শাহ' বা 'বসরি শাহ' নামে সম্বোধন করত এবং হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের কাছেই তাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা করত। তার মৃত্যুর পর, তার অনুসারীরা তার সমাধি নির্মাণ করে। যেহেতু মসজিদটি একই সম্পত্তিতে নির্মিত হয়েছিল, তাই এর নামকরণ করা হয়েছিল 'বসরি শাহ মসজিদ'। কিন্তু এখানে উল্লেখ্য যে মসজিদটি তৈরি সময়ে গম্বুজের স্টাইলে সঙ্গে অনেকটা মুর্শিদাবাদ স্টাইল রয়েছে এবং এই মসজিদটি আর্কিটেকচারে বাঙালি আর্কিটেকচার রয়েছে যা কলকাতায় অবস্থিত খুব কম মসজিদে দেখা যায় এই উল্লেখযোগ্য অংশ টি রয়েছে Janice Leoshko এর একটি আর্টিকেলে The Mosques of Calcutta আর তার বইটির নাম হলো Calcutta through 300 years. ১৮৫০-এর দশকে ব্রিটিশ আলোকচিত্রী ফ্রেডেরিক ফিবিগের কলকাতার মসজিদের একটি ছবিতে আমরা দেখতে পাই যে, মূল স্থাপত্যটি সংস্কারকৃত স্থাপত্যের তুলনায় একটু আলাদা ছিল।
![]() |
| ফ্রেডেরিক ফিবিগের |
মূলত, বাইরের দেয়ালের রঙ ছিল ইটের লাল এবং গম্বুজগুলি নীল। এছাড়াও, মোটা মিনারের মধ্যে দুটি পাতলা মিনার স্থাপন করা হয়েছিল। সংস্কারের সময়, আটটি প্রধান মিনার পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে, গম্বুজগুলি হালকা সবুজ রঙে রঙ করা হয়েছে। তাহলে শেষে এইটাই বলা যায় এখনো কলকাতা শহরে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে।
ছবি সূত্র - internet
Sir H E A Cotton এর বই Calcutta Old and New
Calcutta
Calcutta Heritage Buildings
Heritage of Kolkata
History
Islam
Islam in Kolkata
Kolkata
Mosque in Calcutta
- Get link
- X
- Other Apps


.jpg)


%20Shah%20Masjid%20Fiebig.jpg)
Comments