- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| সুবর্ণরেখা নদী |
আমাদের ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গ হলো নদীর দেশ একদিক থেকে বলা যেতেই পারে। ডিসকোভারি তথা এই সব টিভি চ্যানেল তথা এখন তো অ্যাপ এ দেখায় যে কীভাবে নদীর ভিতর সোনার রয়েছে এবং সেগুলো উত্তোলন চলছে। বড়ো বড়ো স্টিমার, জাহাজ নিয়ে তারা নদীর মধ্যে সোনা তুলছে। তবে আমরা যতটা ভাবছি খুবই সহজ ভাবে এই সোনা তোলা হচ্ছে, সেটা মোটেই ওরকম নয়। কত বালি,কাদা ঘেঁটে মোটামুটি সোনার টুকরো পাওয়া যায় এবং সেগুলো কী দাম? সেই সব নিয়ে তাদের সংসার চলে তার মধ্যে অবশ্যই রয়েছে জাহাজ কিংবা স্টিমার এর খরচা এবং রয়েছে আরও নানা ধরনের খরচ। কিন্তু আমাদের দেশে নদী তো রয়েছেই, সেই নদীর জল কৃষি কাজ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এইসব বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আমাদের কোনো নদী তে সোনার খোঁজ মেলে না? এই কথা মোটেই বলাযায় না, কারণ আমাদের দেশে সুবর্ণরেখা নামের একটি নদী আছে। এখন অনেক বলবে এই নদী তো ঝাড়খন্ডে তার সাথে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের কী সম্পর্ক রয়েছে? একশোবার রয়েছে কারণ এই নদী ছোটনাগপুরের পিস্ক মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে আমাদের বাংলা এবং উড়িষ্যার মধ্যে দিয়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে বা বলা ভালো মিশেছে। সুবর্ণরেখা এই নদীর নাম হয়েছে সুবর্ণরেখা, আক্ষরিক অর্থে বহু ভারতীয় ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায় “সোনার রেখা/আঁকড়”।
![]() |
| সোনা বাছাই |
বিখ্যাত পত্রিকা আনন্দবাজার পত্রিকার একটি খবর অনুযায়ী জানা যায় ছোটনাগপুর অঞ্চলে পিস্কা গ্রামে সোনার খনি ছিল এবং বলা হয় আর সেই খনি থেকেই সোনা নদীতে মিশে যায়। জানা যায় বা গ্রামবাসীদের কাছ থেকে শোনা যায় বর্ষাকালের পর যখন নদী শুকিয়ে যায় তখন এই নদীর পারে দেখা যায় সোনা। আজকের দিনেও মানুষের মুখে সুবর্ণরেখার নদীর সোনা কথা জানা যায়, সুবর্ণরেখা নদীর উপনদী হল খরকাই নদী।
![]() |
| খরকাই নদী |
এই নদী এই নদীর দৈর্ঘ্য মাত্র ৩৭ কিলোমিটার এবং সুবর্ণরেখা নদীর সঙ্গে এর যোগাযোগ আছে বলে মনে করা হয় এই নদীতে সোনা পাওয়া যায়। ওখানকার মানুষ সুবর্ণরেখা নদী কে করকরি নদী বলে, কারণ হিসেবে বলা যায় নদীটি পাথরের উপর দিয়ে নিজের পথ করে নিয়েছে, বিজ্ঞানিদের ধারণা এই পাথরের মধ্যে সোনা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা সঠিক ভাবে উত্তর দিতে পারেননি যে এই সোনা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে বা এই নদীর মধ্যে কেন পাওয়া যায়। তবে আজকের দিনে এই নদী তে সোন হয়তো আর পাওয়া যায় না এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ধারণা। তবে শোনা যায় এই নদীতে খুব কম পরিমাণে সোনা পাওয়া যায় অনেক শ্রমিক নিজেদের সংসার চালানোর জন্য এখানে সোনা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে অত্যন্ত কম দামে কারণ এখানে সোনার কণা পাওয়া যায়, যার ফলে তাদের সোনা বিক্রি করে দুবেলা ঠিক মতো খাওয়া বা থাকার ব্যবস্থা নেই বলেই চলে।কারু, কাঞ্চি, করকরি, খরখরি, গরা, শঙ্খ, জুমার, ডুলুং ও আরও অনেক ছোট ছোট নদী এসে মেশে সুবর্ণরেখায়। সুবর্ণরেখা নিয়ে উড়িষ্যার বিভিন্ন মানুষের একটি গল্প আছে, শোনা যায়, খরখরি সুবর্ণরেখাকে ভালবাসত। কিন্তু কোনও দিন মুখ ফুটে বলতে পারেনি সে। এভাবেই চলছিল খরখরির একতরফা প্রেম। কিন্তু একদিন খরখরি সুবর্ণরেখাকে দেখে ফেলে ভরা বর্ষায় আপন ছন্দে নাচতে। এমন নৈসর্গিক মুহূর্তে খরখরি নিজেকে সামলাতে না পেরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে সুবর্ণরেখাকে। সুন্দরী সুবর্ণরেখা তো এককথায় বিয়েতে রাজি। কিন্তু একই সঙ্গে খরখরিকে একটি শর্তও দিল সুবর্ণরেখা। বড় কঠিন শর্ত সে। যতদিন খরখরি সুবর্ণরেখাকে সোনায় মুড়ে রাখবে, ততদিনই সে খরখরির সঙ্গে সংসার করবে, এমনই ছিল সেই শর্ত। এবং এই শর্তে রাজি হওয়ার পর থেকেই খরখরির জলের সঙ্গে সোনা এসে মেশে সুবর্ণরেখায়। শোনা যায় আমাদের বাংলায় তথা পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের এইরকম নদী রয়েছে, এমনকি সেই নদীকে নিয়ে রুপকথা গল্প আছে সেটা খানিক টা এইরকম এক রাজপুত্র সাতসমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে এক জঙ্গলঘেরা জায়গায় এসে বসল। অনেক পথ চলার পরিশ্রমে সে ক্লান্ত। শরীর অবসন্ন হয়ে পড়েছে তেষ্টায়। একটু দূর দিয়েই বয়ে যাচ্ছিল একটা নদী। স্ফটিক-স্বচ্ছ জল রাজপুত্র এর আগে কোত্থাও দেখেনি। সেই পাহাড়ি নদীতে নেমে আঁজলা ভরে জল পান করতে গিয়ে রাজপুত্রর হাতে জড়িয়ে যায় একটা চুল। তবে সাধারণ চুল নয়, সেই চুলটা ছিল সোনার। সেই চুলটিকে নিজের কাছে রেখে স্রোতের পথ ধরে হাঁটতে লাগল সে। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল এক অজানা দেশে। সেখানে গিয়ে দেখে, এক রাজকন্যার মাথাভর্তি সোনার চুল। আর সেই চুল-ধোয়া জলেই তৈরি হচ্ছে নদী। সোনা কেশের এই নদীর নাম হল স্বর্ণকেশী। পরবর্তী সময়ে অপভ্রংশ হয়ে সঙ্কোশ। এমনই লোক বিশ্বাস রয়েছে সঙ্কোশ নদীতে সোনা পাওয়া নিয়ে। তবে এই ক্ষেত্রে বলে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে সঙ্কোশ নদীতে আর সেরকম সোনা পাওয়া যায় না। মাঝেমধ্যে স্বর্ণকণা আসে বটে তবে তা না আসার মতো। তবে নদী কিন্তু আমাদের দেশেকে সোনা দিয়েছে এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছে, নদীর জলের মাধ্যমে বিভিন্ন খেতে জল পৌছায় এবং কৃষি কাজ হতে থাকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে এই নদী আমাদের পথ দেখায় এমনকি মানব সভ্যতার ইতিহাসে নদী এবং নদীর জলকে পুজো করেছিল।
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - https://www.mygoldguide.in/bn/golden-river-india
https://www.anandabazar.com/world/some-rivers-which-produces-gold-dgtl-1.1053820
https://inscript.me/golden-river-of-india-subarnarekha
- Get link
- X
- Other Apps



Comments