- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| ওয়াজেদ আলী শাহ্ |
প্রায় এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল বিরিয়ানি দিনের কথা, বা বলা ভালো Biriyani Day. কিন্তু আমাদের বিরিয়ানি রান্না কিন্তু শিখিয়েছিলেন অগধ অর্থ্যাৎ অধ্যার শেষ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। তিনি লখনৌ ছেড়ে চলে আসেন ব্রিটিশ সরকারের জন্য, আসলে নবাব কে কলকাতা পাঠানো হয়েছিল শাস্তি হিসেবে এমনকি নবাব কে ফোর্ট উইলিয়ামের নজর বন্দী থাকতে হয়েছিল। নবাব কে পাঠানো হয়েছিল খিদিরপুরের মেটিয়াবুরুজ অঞ্চলে। এই ওয়াজিদ আলি শাহ্ নরম স্বভাবের নবাব, তিনি রান্না, গান লেখা, একই সাথে নাচ শিখতেন। শোনা যায় তার নাচের শিক্ষক তার গালে এমন চড় মারেন, যে একটা কান তার নষ্ট হয়ে যায় তিনি তখন নবাব ভাবতে পারেন যে সেই শিক্ষকের কী অবস্থা হয়েছিল, তাকে মেরে ফেলা হয় এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার কিছুই হয়নি, সেই শিক্ষকের কাছেই নবাব নাচ শেখেন। তার মেটিয়াাবুরুজে আলাদা চিড়িয়াখানা ছিল। ওয়াজেদ আলী শাহ্ এর জন্ম হয় 1801 সালে তখন প্রায় পুরোটাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে ছিল, তার মাধ্যমেই শেষ পেরেক পোতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। 1856 সালে কলকাতার এখনকার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মেটিয়াবুরুজ আসেন নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। ওয়াজেদ আলী শাহ্ যখন কলকাতায় আসেন তার কিছু দিন পরেই ভারতের ক্ষমতার অধিকারী হয় ব্রিটিশ সরকার কারণ 1857 সালের মহাবিদ্রোহ। ওয়াজেদ আলী শাহ্ 1856 সালের 13 মার্চ কলকাতার উদ্দেশ্য রওনা হওয়ার জন্য একটি স্টিমারে ওঠেন যার নাম ছিল জেনারেল ম্যাকল্যেয়েড, এই স্টিমার টি কলকাতায় পৌছায় 1856 সালের 13 মে। ওয়াজেদ আলী শাহ্ কিন্তু প্রথমে লন্ডনে যেতে চেয়েছিলেন রাণী সাথে দেখা করতে, কিন্তু তাকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বরং বলা হয় কলকাতা থাকতে। সেই নির্দেশ তিনি মনে নেন এবং তিনি কলকাতা কখনো ছাড়েন নি। তিনি বুঝতে পারেন যে মৃত্যু অবধি তাকে এখানে থাকতে হবে এবং তিনি এই জায়গাটাকে মিনি লখনৌ বানিয়ে নেবেন এবং হয়েছিল ও তাই। তাকে সমাধি ও এই মেটিয়াবুরুজের সিবতাইনাবাদ ইমামবাড়া তে রয়েছে।
![]() |
| সেই ইমামবাড়া |
ওয়াজেদ আলী শাহ্ কলকাতা এসে মেটিয়াবুরুজের বিচলি ঘাটে নেমেছিলেন। জানা যায় কলকাতায় আসার সময় তার রাজকীয় স্টাইল ছিল, সেটা না হলে কেউ কী মিনি লখনৌ বানাতে পারে! আগেই বলেছি ওয়াজেদ আলী শাহ্ কলকাতায় আসেন জেনারেল ম্যাকল্যেয়েড স্টিমারে, এখানে উল্লেখ করা দরকার যে এই স্টিমারের কোম্পানি ছিল জেনারেল ইনল্যান্ড স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি, এই কোম্পানি দুটো স্টিমার চালাতো হুগলি নদীর মধ্যে আর এই কোম্পানি স্থাপিত হয়েছিল 1844 সালে, তাদের দুটি সহ আরো স্টিমার চালাতো তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্যার হারব্রেট ম্যাডক আর অন্যটি হলো স্যার ফ্রেডরিক কুরি।
![]() |
| সেই ঘাট |
এই দুটি স্টিমারের কথা বললাম কারন এই দুটি স্টিমারে লাগানো ছিল একশো চল্লিশ পাওয়রের হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন যার ফলে একশো টন এর বেশি মানুষ সহ লাগেজ টানতে পারতো। তবে এই সময় জেনারেল ম্যাকল্যেয়েড বেশি দিন হুগলি নদী তে টিকতে পারেনি, মানে স্টিমারটি ডুবে যায় তবে ওখানে নিয়েছিল যে যেই স্টিমার ডুবে যাবে সেই স্টিমারে নামেই আরো একটা স্টিমার নাম দেওয়া হবে। ওয়াজেদ আলী শাহ্ জেনারেল ম্যাকল্যেয়েড স্টিমারে আসেন এবং তার সঙ্গে ছিল অনেক জিনিস নবাব বলে কথা, 140 হর্স পাওয়ারের স্টিমারে তিনি আসেন এবং তার সব জিনিসপত্র আলাদা স্টিমারে এসেছিল। কলকাতায় স্টিমার করে আসা যাওয়া খরচ ছিল, দুশো সাতান্ন টাকা আর খাওয়া খাওয়া দাওয়া হিসেবে এক্সট্রা তিন টাকা দিতে হতো রোজ। এই জেনারেল ম্যাকল্যেয়েড এলাহাবাদ থেকে কলকাতায় প্রতিদিন যাতায়াত করতো এমনকি এই স্টিমারের যাওয়া ও আসার জন্য চার্টার এর ব্যবস্থা ছিল, বলা হয় ডেলিপেসেনঞ্জার স্টিমার ছিল এই জেনারেল ম্যাকল্যেয়েড। তবে লখনৌ থেকে কলকাতায় এসে খুব ব্রিটিশ সরকার নজরবন্দি হয়েছিল নবাব সে কথা আগেই বলেছি, আসলে এর একটা কারণ ছিল ওয়াজেদ আলী শাহ্ প্রথমে কোনো ভাবেই ব্রিটিশ সরকারের পেনসন নিতে চাননি, তার মা একে সমর্থন করেন কারণ সেই সময় লন্ডনে তখন ‘আউধ মিশন’ সক্রিয়, ওয়াজেদ আলীর মা বেগম আউলিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন যে আউশ মিশন এর রিপোর্ট তাদের দিকে যায়, কিন্তু হলো উল্টো! এমনকি ওয়াজেদ আলী শাহ্ কে গ্রেফতার করে পঁচিশ মাস ফোর্ট উইলিয়াম নজরবন্দি করা হয় কারণ, মহাবীদ্রোহের সময় ওয়াজেদ আলী শাহ্ এর ছেলে বিরজিস কদ্রকে নতুন নবাব করার সিদ্ধান্ত নেয় মহাবিদ্রোহের সিপাহীরা, কিন্তু ওয়াজেদ আলী শাহ্ কিন্তু এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেন নি। বিভিন্ন নথিপত্র ঘেঁটে পন্ডিতের জানিয়েছেন, ওয়াজেদ আলী শাহ্ মেটিয়াবুরুজ কে মিনি লখনৌ তে পরিণত করেছেন এমনকি 1857 1858 সালে যখন কলকাতা তথা ভারতবর্ষ উত্তাল কিন্তু মেটিইয়াবুরুজ ছিল অন্য এক দুনিয়া। নবাব কলকাতার থেকেই নিজেকে আলাদা করে, নিজের এক মহল করে নিয়েছিলেন তার মিনি লখনৌ তে। অগধের মতো মেটিয়াবুরুজ তার নিজস্ব নাচের এবং গানের লোক ছিল, ছিল ভাঁড় এবং আরো অনেক কিছু, এদের বছরের খরচ হতো তেরোশ পাউন্ড এই জন্যই ব্রিটিশ সরকার ওয়াজেদ আলী উপর রাগে গজগজ করতো। নবাব নিজের নাচ এবং গানের জায়গা ছিল, তিনি নাচ শিখতেন বিশেষ করে কত্থক শিখতেন মহারাজ ঠাকুর প্রসাদ। তিনি 1875 সালে কত্থক এর উপর একটি বই লেখেন এবং সেই বই এর লিথিওগ্রাফ করা হয় মেটিয়াবুরুজে সেই বই এর নাম ছিল মুসস্মি কি বানি, এই বই এখনো দেখা যায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল এ। তিনি গান ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শিখেছিলেন তার মিনি লখনৌ তে বসে, গান শিখেছিলেন ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ এবং ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ এর থেকে আর বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার তিনি শিখেছিলেন পাথুরিয়াঘাটার রাজবাড়ির সঙ্গীত শিল্পী ক্ষেত্রমোহন গোস্বামীর কাছ থেকে। তিনি নাটক লিখেছেন এবং সেই নাটক পরিবেশন হয়েছে তার বিখ্যাত নাটক ছিল ‘রাধা কানহাইয়া কা কিস্সা’ তবে এই নাটক নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে, বলা হয় যে নবাব, ১৮৬৭-তে হোলির সময় মেটিয়াবুরুজের দরবারে ওয়াজিদ আলি স্বয়ং নর্তকীর বেশে নৃত্য পরিবেশন করেন, গেয়ে শোনান ঠুমরিও। তবে এই বক্তব্য নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতো বিরোধ রয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে আবদুল হালিম ‘শরর’ অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়াজিদ নিজে কখনও নাচতেন না। মিনি লখনৌ তে বহু গুণি মানুষেরা ভিড় করতেন, অনেক তো তার ঠুমিরির শুনতে চলে আসতেন যেমন অঘোরনাথ চক্রবর্তী, যদুনাথ ভট্টাচার্যরা। তার মেটিয়াাবুরুজে চিড়িয়াখানা বিশেষ জনপ্রিয় ছিল, তিনি অনেক পশুপাখি দিয়েছিলেন আজকের আলিপুর চিড়িয়াখানায়। তার লেখা গান যব ছোড় চলে লখনৌ নগরী / তব হাল কদম পর কেয়া গুজরি, এই গানটি ফেলুদার বাদশাহী আংটি গল্পে দেখা যায়। জানা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখান থেকেই লিখেছিলেন।
![]() |
| নবাবের ব্যবহার করা জিনিস |
কতকাল রবে বল ভারত রে/ শুধু ডালভাত জল পথ্য করে। ওয়াজেদ আলী শাহ্ সঙ্গীত চর্চা সাথে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, এখানে বলতে হয় তবলা, সানাই, এসরাজ কে জনপ্রিয় করে তোলেন। পরবর্তী কালে ওয়াজেদ আলী শাহ্ নিজে তার মিনি লখনৌ বা মেটিয়াবুরুজ তৎকালীন সেতার শিল্পী কুতুব আলি খানের কাছে সেতার শিখেছিলেন। আসলে নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্ খুব রমণীবিলাসি ছিলেন তার স্ত্রী সংখ্যা ছিলেন 375. এমনকি যখন ফোর্ট উইলিয়াম নজরবন্দি ছিলেন, তারপর যখন তিনি বেরলেন তার পর সেই আনন্দে আরো একটা বিয়ে করে নেন। এভাবেই কলকাতা মনে রেখেছে ওয়াজেদ আলী শাহ্ এবং তার মিনি লখনৌ কে!
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - We traced the last prince of Awadh | Research News - The Indian Express https://share.google/4y52QLia40QgmvPWb
https://bengali.indianexpress.com/photos/west-bengal/story-of-nawab-wajid-ali-shah-metiabruz-337537/
- Get link
- X
- Other Apps




Comments