কলকাতায় এখনো রয়েছে ব্রিটিশ রাণীর বড়ি

আলেকজান্দ্রিয়া কোর্ট 

 

কলকাতায় এখনো আছে অ্যালেকজেন্ডার। তবে এই অ্যালেকজেন্ডার সাথে "রা" বসেছে, মানে অ্যালেকজেন্দ্রা, এই আলেকজান্দ্রা ছিলেন ডেনমার্ক রাজকন্যা। প্রশ্ন ব্রিটিশ কলোনি তে ডেনমার্কের রাজকন্যা কথা থেকে আসবে? আসলে এই আলেকজান্দ্রা ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাণী, এনার স্বামী ছিলেন রাজা-সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ড। 

রাণী আলেকজান্দ্রা

শুধু তাই নয় 1901 সাল থেকে 1910 অব্দি ইনি মানে আলেকজান্দ্রা ভারতের সম্রাজ্ঞী ছিলেন। সেই অনুযায়ী কলকাতার চৌরঙ্গী তে তার নামে একটি বাড়ি তৈরি করে ব্রিটিশ সরকার শুধু তাই নয় রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড নামে একটি বাড়ি রয়েছে কলকাতায়।

একটু দাঁড়ান 

**শুভম দাসের মস্তিষ্ক অস্ত্রোপচারের জন্য তহবিল সংগ্রহে সাহায্য করুন**  

আমাদের অত্যন্ত কাছের বন্ধু শুভম দাস, বর্তমানে গুরুতর মস্তিষ্কজনিত সমস্যার সম্মুখীন এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। চিকিৎসকের মতে, অস্ত্রোপচারের আনুমানিক ব্যয় *১১ লাখ টাকা*, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।  

আপনার সাহায্যই পারে শুভমের জীবনের আশার আলো হয়ে উঠতে। অনুগ্রহ করে আপনাদের সাধ্যমত যেকোনো পরিমাণ অর্থ দিয়ে সাহায্য করুন এবং এই বার্তাটি আপনার বন্ধু এবং পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে দিন।

আপনার সামান্য অনুদান শুভমের জীবনে আশীর্বাদ সমতুল্য । আপনাদের একান্ত সহযোগিতা কাম্য ।

যদি সাহায্য করেন তাহলে খুব উপকার হয় 


 আসলে এই বাড়িটি অর্থাৎ আলেকজান্দ্রিয়া কোর্ট তৈরি হয়েছিল তৎকালীন বড়লোক ব্রিটিশদের থাকার জন্য। বলা হয় থাকে যে এই বাড়িটি তে পুরনো জেনারেশন ব্রিটিশ যে সুবিধা দেওয়া হতো, ঠিক সেই সব সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হতো। যেমন প্রাসাদের মতো অনেক টাওয়ার, অনেক বহুতল যুক্ত টাওয়ার এবং গেট এমনকি গৃহকর্মীদের ( যার আসলে ডমেস্টিক হেল্পার ) আলাদা থাকার জন্য ঘর এর সাথে গ্যারেজ।

এখনকার সময় আলেকজান্দ্রা কোর্ট


এই বিল্ডিং এ 42 টি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। তাহলে বুঝতে পারছেন কত বড় এই বিল্ডিংটি। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এই বিল্ডিং এর একটি বাড়িতে মানে ফ্ল্যাটে পাঁচ করে মেম্বার এবং তার সাথে দুই রেখে তিন জন ডোমেস্টিক হেল্পার থাকে তাহলে দেখা যায় যে তিনশো জন মানুষ এই অ্যালেকজেন্দ্রা কোর্টে থাকতো, যদি আজকের দিন হতো তাহলে 2000 লোক ঐ বাড়িতে বসবাস করতো। সেই সময় এই রকম বাড়িটি কে নাম দেওয়া হয়েছিল রয়িসী বাড়ি। অ্যালেকজেন্দ্রা কোর্ট প্রথম থেকেই ভাড়া দেওয়া থাকতো এমনকি এই বাড়িটির ব্লুপ্রিন্ট তাই বলছে। শহরের সেই সময় ওয়াট টাউনের অন্যতম বিশিষ্ট ছিল এই অ্যালেকজেন্দ্রা কোর্ট, এছাড়া সেই সময় রাজধানী ছিল কলকাতা, কলকাতার মধ্যে শেষ অবধি অ্যালেকজেন্দ্রা কোর্ট মাধ্যমে ওয়াইট টাউন এর অবশিষ্ট ছিল। এই অ্যালেকজেন্দ্রা কোর্ট বিল্ডিং এর মধ্যে ব্রিটিশদের হাঁটার জন্য বাগান ছিল, শুধু কি তাই এখন রাজভবন যা কী না আগে লাট ভবন হিসাবে পরিচিত ছিল সেই রকমই এখানে মাটকি রেলিং ছিল। এই বাড়িটির ভেতরে ঢুকল মুখ হাঁ হয়ে যাওয়া সমান, যদিও কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের রেকর্ড অনুসারে, আলেকজান্দ্রা কোর্ট ১৯১৮ সালে তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সূক্ষ্মভাবে গ্রিল করা লিফটগুলো গভর্নর হাউসের সমতুল্য একটি বর্ধিত সংস্করণের কথা মনে করিয়ে দেয়। সিঁড়িগুলো সেগুন কাঠের তৈরি। ছাদ ছিল ১৪ ফুট এবং দরজা ছিল ১০ ফুট।

আলেকজান্দ্রা কোর্ট এর ভেতরের lift 


 প্রতিটি শোবার ঘর ছিল একটি সম্পূর্ণ প্রচলিত অ্যাপার্টমেন্টের (৪০০ বর্গফুট) সমতুল্য। বন্ধুদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানোর আগে পর্যন্ত আলেকজান্দ্রা কোর্টের বাথরুমে (১২ ফুট বাই ৯ ফুট) বিলাসবহুলভাবে বসে ভাবতে পারতেন যে পৃথিবীটা এভাবেই বেঁচে থাকবে। ড্রয়িং রুমটি চেকার্ড মার্বেলের তৈরি। লাল অক্সাইড ডাইনিং রুমের জমিন ছিল ম্যানশন পোলিশ-এড যতক্ষণ না মেমসাব বলছিলেন, 'অসাধারণ! মেঝে ড্রয়িং রুমের আলো প্রতিফলিত করতে শুরু করেছে!' শহরের গ্যাস নেটওয়ার্ক দ্বারা টিকিয়ে রাখা পালিশ করা পিতলের গিজার দ্বারা ঢালাই লোহার বাথটাবের ক্ষুধা মেটানো হত। আলমারিগুলো ওয়াক-ইন ছিল। বিছানাটি সাধারণত দেয়াল থেকে দূরে রাখা হত কারণ জায়গা কম ছিল। জানালাগুলি বহু-স্তরযুক্ত ছিল (কাচ এবং কাঠের লুভর এবং জাল)। রান্নাঘরের ইটগুলি ছিল অগ্নি-প্রতিরোধী। ডাইনিং রুমের জানালার উপরের বারান্দায় খোদাই করা একটি ঈগল ছিল যার লেজ লম্বা ছিল। আলেকজান্দ্রিয়া কোর্ট আরো একটি বিশেষত্ব ছিল যে আলেকজান্দ্রা কোর্টের স্থাপত্যের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেই সময়ের অন্যান্য ভবনের মতো, এটি গৃহকর্মীদের জন্য বাইরের সর্পিল সিঁড়িতে বিশ্বাস করে না। পরিবর্তে, এর চারটি উঁচু টাওয়ার রয়েছে, বিশপ লেফ্রয় এবং শহরতলির হাসপাতাল রোডের উভয় পাশে দুটি করে, কাঠের সিঁড়ি রয়েছে, যা ছাদ পর্যন্ত উঠে প্রতিটি ফ্ল্যাটের রান্নাঘরের সাথে সংযুক্ত। রাস্তা থেকে দৃশ্যমান এবং একটি বিশাল খাঁচার মতো, টাওয়ারগুলি হাওয়া চলাচলের পথ হিসেবেও কাজ করে। কাঠের সিঁড়ি এবং আয়না-রেখাযুক্ত লিফটগুলি ভাড়াটেদের জন্য।

আলেকজান্দ্রা কোর্টের অলংকরণ মলিন, যা এটিকে এক জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ দেয়। এখন দৃশ্যমান দুটি ব্লক ভেঙে পড়ার জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে এবং চারটি পরিষেবা সিঁড়ি ইতিমধ্যেই তা সম্পন্ন করেছে। সবচেয়ে ভালো ছিল রিট্র্যাক্টেবল পাঙ্কা । স্থপতি ভেবেছিলেন যে এই বড় কক্ষগুলিতে, প্রতিটি কক্ষে সাধারণ শীতল করার জন্য কমপক্ষে দুটি করে পাখার প্রয়োজন হবে। কিন্তু বিদ্যুতের সুবিধা ছিল। সবার পক্ষে তা বহন করা সম্ভব ছিল না। স্থপতি বুদ্ধিমত্তার সাথে সাড়া দিয়েছিলেন; তিনি একটি পুলি-সক্রিয় পাখা চালু করেছিলেন যা ঘরের উপর দিয়ে সরলরেখায় সরানো যেত। বাসিন্দাদের পাখার নীচে বসতে হলে সরে যেতে হয়নি; পাখাটি করত। সেই সময় এত আধুনিক বাড়ি ছিল না বললেই চলে, তবে আলেকজান্দ্রিয়া কোর্ট বাড়িটি নকশা দেখলে একটি ছোট্ট স্টুকো দেখা যায় তবে ঠিক আগের দিনের ব্রিটিশ বিল্ডিং এর মতো। এই বাড়িটি তে 1947 সালের পর প্রথমে অ্যান্ড কোম্পানি, ফিনলে, ম্যাকিনন ম্যাকেঞ্জিস এবং জার্ডিন হেন্ডারসনের জন্য কাজ করে এরপর এই বাড়িটির মধ্যে ডিসাইন ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন শুরু হয়, তাছাড়া বাড়িটি অনেক পুরনো হয়ে গেছিল। এই বাড়িটির এক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় এই বাড়িটি দখল নেওয়া হয়েছিল, কারণ এই বাড়িটি তে সেনাবাহিনীর মেস তৈরি করা হয় । এখনো এই ভাবেই দাঁড়িয়ে আছে এই বাড়িটি কলকাতার বুকে।


ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - https://www.telegraphindia.com/west-bengal/a-building-a-brand-name/cid/1265029

https://www.telegraphindia.com/my-kolkata/places/chowringhees-alexandra-court-a-byword-for-20th-century-stateliness/cid/1996972


Comments