- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
শীত এখনো ঠিক ভাবে পড়েনি, আর শীত পড়লেই সবাই ত্বকের যত্ন নেয়।
এই যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যেই নামটা, প্রথমেই মনে পড়ে সেইটা হলো ভ্যাসলিন। ভ্যাসলিনের আবিষ্কার বেশ আশ্চর্যজনক ও যুগান্তকারি বটে। এই ভ্যাসলিন আবিষ্কার করেন বাইশ বছরের রসায়নবিদ তার নাম ছিল রর্বাট আগাস্টস চেজব্রো। এই আবিষ্কারটি হঠাৎ হয়ে যায়। চেজব্রো সাহেব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার, টিটাসভিলে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ এই আবিষ্কারটি করেন।
![]() |
| রর্বাট আগাস্টস চেজব্রো |
চেজব্রো সাহেব ঘুরতে ঘুরতে দেখেছিলেন প্রাকৃতিক মোম। তিনি এই প্রাকৃতিক মোম সম্পর্কে জানতেন, তিনি এও জানতেন এই প্রকৃতিক মোমে রয়েছে বিভিন্ন মিনারেলস আর মিনারেলস ত্বকের জন্য খুব উপকারী। সেই জন্য এই প্রাকৃতিক মোমের কিছু সেম্পেল নিয়ে তিনি তড়িঘড়ি তার ব্রুকলিনের ল্যাবোটারির উদ্দেশ্য রওনা দিলেন।
চেজব্রো সাহেব তার ল্যাবোটারিতে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালালেন এই প্রাকৃতিক মোমের উপর। তিনি চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মানুষের ত্বকের উপর কিভাবে এই মোমটি সুরাহা করবে আর ত্বকে রক্ষা ও নিরাময় করবে। লক্ষ্য করে দেখবেন যখন আবহাওয়া পরিবর্তন হয় তখন মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ও পরিবর্তন আসে শীতে কালে আমাদের জ্বর সর্দি কাশি হয় তেমনি ত্বকের ও ক্ষতি হয়, এই ত্বেকর যত্নের জন্য চেজব্রো সাহেব অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছিলেন, শেষে এই সব পরীক্ষা সফল হয়। 1865 সালে চেজব্রো সাহেব তার পেটেন্ট সর্বসমক্ষে আনেন আর তার প্রডাক্টের নাম ছিল ভ্যাসলিন।
![]() |
| ভ্যাসলিন |
এই ভ্যাসলিন হল প্রাকৃতিক মোম যা কিনা ত্বকের যত্ন নেয় ত্বক ফেটে যাওয়া থেকে এই ক্রিম রক্ষা করে। জানা যায় 1870 সাল থেকে এই ভ্যাসলিন ব্যাবহার শুরু হয়। চেজব্রো সাহেব তার কোম্পানি ভ্যাসলিনের পেট্রোলিয়াম জেলি ডিস্ট্রিবিউট শুরু করেন, আসলে প্রাকৃতিক মোম হলো পেট্রোলিয়াম জেলি। জানা যায় নর্থ আমেরিকার প্রথম ব্যান্ড ছিলো ভ্যাসলিন। সেই বছরেই চেজব্রো সাহেব ব্রুকলিনে ভ্যাসলিনের কারাখানা খোলেন। কোনো পন্য যখন তৈরি হয় সেই পন্যের কথা মানুষ জানতে পারে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, তাই চেজব্রো ভ্যাসলিনের বিজ্ঞাপনের জন্য একটি ঘোড়ায় টানা গাড়ি করে পুরো আমেরিকায় ঘুরে বিজ্ঞপন করেন।
![]() |
| সেই ঘোড়ার গাড়ি |
এর দুবছরের মধ্যে নাকি প্রতি মিনিটে ভ্যাসলিন বিক্রি হতো সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুড়ে ! মানে প্রতিদিনে 1,400 টিন।
হয়তো এর মধ্যে অতি উক্তি রয়েছে, অনুমান করা যেতে পারে। সবাই ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম জেলিকে ভিন্ন ভাবে ব্যাবহার করতে লাগলো, আর দেখা গেল যে উত্তর আমেরিকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির ওষুধ বাক্সে থাকতো ভ্যাসলিনের শিশি। ভ্যাসলিন ব্যাবহার করতো শ্রমিকরা যখন তারা ঠান্ডার মধ্যে কাজ করতো। আবার মায়েরা বাচ্চাদের ফুসকুড়ি ওষুধ হিসেবে কাজে লাগাতে ভ্যাসলিন কে। ইউরোপের যখন মার্কিন সৈন্য বাহিনী যুদ্ধ করছে, তখন মার্কিন সৈন্যদের অন্যতম ছিল ভ্যাসলিন। সবসময় জুতো পরে তাঁদের পায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে যেত সেই অবস্থা থেকে বাঁচার উপায় ছিলো ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি, তাই অনেক বেশি করে ভ্যাসলিন পাঠানোর জন্য তারা আর্জি জানাতো। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভ্যাসলিন ব্যাবহার হতো। এগুলো ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন আঘাতের সম্মুখীন হতে হতো, তার মধ্যে অন্যতম ছিলো আগুনে পোড়ার আঘাত। এই জন্য সেনাবাহিনীর সার্জন জেনারেল চেজব্রো সাহেবের ভ্যাসলিন কোম্পানি কে বলেছিলেন এমন একটি পেট্রোলিয়াম জেলি বানাতে যেই ক্রিম হবে অ্যান্টিসেপ্টিক এবং জীবাণু মুক্ত এবং যার মাধ্যমে খত যায়গায় ড্রেসিং করা যাবে। হয়েছিল তাই। ভ্যাসলিন কে তো The wonder jelly বলা হতো।
![]() |
| যুদ্ধে সৈনিকরা |
এতক্ষণ ধরে বিদেশি পন্যের কথা জানালাম এবার দেশে ফেরা যাক, আমেরিকা থেকে সোজা আমাদের এই বাংলায়।
![]() |
| গৌরমোহন দত্ত |
শীত আসছে দেখে মানে উত্তরের হাওয়া যখন ঢুকতে আরম্ভ করে, তখন যেই ক্রিম কথা ত্বকের যত্নের জন্য প্রথমেই মনে পড়ে সেইটা হচ্ছে বোরোলীন। এই বোরলিন কিন্তু এক বাঙালির তৈরি। বোরলিন কিন্তু শুধু মাত্র বিউটি প্রোডাক্ট ছিলো না, ওষুধের বাক্সে যায়গা পিয়েছিলো বাঙালির এই ক্রিম। তখন ভারত ছিল পরাধীন, ব্রিটিশরা তখন রাজা ছিলো ভারতের। 1929 সাল, গৌরমোহন দত্ত বিদেশি পন্যের আমদানি করতেন। কিন্তু গান্ধীজি বার বার আহবান জানিয়েছেন দেশের মানুষের কাছে, বিদেশি জিনিস বাতিল করে স্বদেশী পণ্য কে আপন করে নেওয়ার। দত্ত বাবু ঠিক করলেন আর বিদেশি পণ্য আমদানি করবেন না, নিজের দেশের জিনিস তৈরি করে স্বদেশী আন্দোলন যোগ দেবেন। তার এই মতামত কে অনেকে বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু তিনি অনড় ছিলেন। তখন ভারতের বাজারে ক্রিম বলতে শুধু ছিলো বিদেশি ক্রিম। দত্ত বাবু নিয়ে আসলেন স্বদেশী ক্রিম। বোরোলীন কিন্তু শুধু মাত্র ক্রিম নয় সেই কথা আগেই বলেছি। অন্য ক্রিম কোম্পানি গুলো তাদের ক্রিমের ফরমুলা গোপন রাখতো কিন্তু বোরোলীন তার ফরমুলা গোপন রাখেনি।
বোরোলীন তৈরি হতো জিডি ফার্মাসিউটিক্যালসে, আর জানেন "বোরোলীন" আলাদা একটা অর্থ রয়েছে বোরো মানে হলো বোরিক পাউডার যা কিনা অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করতো। ওলিন হলো একটি ল্যাটিন শব্দ তার অর্থ তেল। সেই জন্য লেখা হয় 'অ্যারোমেটিক অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বোরোলিন ..' । বোরোলীনে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক বোরিক অ্যাসিড , অ্যাস্ট্রিনজেন্ট এবং সানস্ক্রিন জিংক অক্সাইড এবং ইমোলিয়েন্ট ল্যানোলিন। বোরোলিন কেঁটে যাওয়া যায়গায়, ঠোঁট ফাটা এমনকি রুক্ষ ত্বকের কার্যকারি। এর সেই বাঙালির ওষুধের বাক্সে থাকে বোরোলিন। ভ্যাসলিনের মতো কিন্তু বোরোলীন এত বিজ্ঞাপন পায়নি। কিন্তু তাসত্ত্বেও বোরোলীন মানুষ ঘরে পৌঁছে গেছিলো। পরাধীন ভারতে কাশ্মীরের ঠান্ডা ত্বকে বাঁচাতে বোরোলিন লাগানো হতো এমনকি দক্ষিণ ভারতে sunscreen যায়গা নিয়েছিল আমাদের বোরোলীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় বোরোলীন রমরমিয়ে চলেছিল, কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্যাকাজিং বদলানো হয়েছিলো, মানুষ ভূল না বোঝে সেই জন্য আলাদা করে লেখা থাকতো যুদ্ধের জরুরি অবস্থার কারণে মূল প্যাকিং পরিবর্তন করা হয়েছে , উপাদানের পরিমাণ এবং গুণমান অপরিবর্তিত রয়েছে।
![]() |
| দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোরোলীন |
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বোরোলিন ব্যাবহার করতো বলে শোনা যায়।
1947 সালের 15 আগস্ট জিডি ফার্মাসিউটিক্যাল বিনামূল্যে বোরোলীন বিতরণ করে।
![]() |
জাতীয় অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার প্রতীক ছিলো বোরোলীন। বোরোলিন 2003 সালে চালু করে সুথল, একটি
অ্যান্টিসেপটিক liquid. এছাড়া নব্বই দশকের শেষের দিকে বোরোলিন বাজারে নিয়ে এসেছিলো
এলেন হেয়ার অয়েল।
শীত কাল আসছে আর শীত আসলেই ক্রিমের বিজ্ঞাপনের ভরে যায় বিভিন্ন হোডিং। তাই আজকে বললাম অন্যতম দুটি ক্রিমের কথা যেগুলো এখন চলছে তাই সব শেষে বলি ত্বকের যত্ন নিন।
ছবি সূত্র - internet
- Get link
- X
- Other Apps









Comments