- Get link
- X
- Other Apps
Posted by
Tiki liki
on
- Get link
- X
- Other Apps
![]() |
| হেনরি লুইস ভিভিয়ান ডিরোজিও |
বাংলায় নবজাগরণের অন্যতম কান্ডারী হেনরি ডিরোজিও বাড়ি এখনো আছে, আমাদের এই কল্ললিনী তিলোত্তমায় । বাড়িতে যাওয়ার আগে একটু জানাতে হবে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর কথা । ডিরোজিও কিন্তু কলকাতাতেই 1809 সালের 18 এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তার বাবা ছিলেন ফ্রান্সিস ডিরোজিও, জানা যায় তার বাবা ইন্দো পর্তুগীজ অফিসে চাকরি করতেন । তার মা ছিলেন একজন ইংরেজ মহিলা । আরো জানা যায় তার পারিবারিক উপাধি ছিল ' ডি রোজারিও ' । হেনরি ডিরোজিও প্রাথমিক পড়াশোনা করেছিল, ডেভিড ড্রুমন্ডের ধর্মতলা অ্যাকাডেমি স্কুল থেকে । অনেকে মনে করেন যে ডেভিড ড্রুমন্ডে তার জীবনের খুব বড় ভূমিকা নিয়েছিল, সমাজের নবজাগরণের ভাবনার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন ডেভিড ড্রুমন্ডের স্কুল থেকেই । কারণ হিসেবে বলা যায় ধর্মতলা অ্যাকাডেমি স্কুলে ভারতীয়, ইউরোপীয়, ব্রিটিশ, পর্তুগিজ শিশুদের সাথে একসঙ্গে 14 বয়স অবধি তিনি পড়াশোনা করেছিলেন, সেই জন্য তার নবজাগরণের ভাবনা বলে মনে করা হয় । 14 বছর বয়সে তিনি তার বাবার অফিসে কাজ করতে শুরু করেন । পর তিনি বদলী হয়ে তার কাকার নীল কারখানায় কাজ শুরু করেন ভাগলপুরে । কিশোর বয়সে থেকে তিনি কবিতা লিখতেন, গঙ্গার পাড়ে বসে তিনি অপরুপ এক প্রকৃতিক দৃশ্য দেখে তিনি একটি কবিতা
লিখেছিলেন । তৎকালীন ইন্ডিয়া গেজেট পত্রিকায় তার কবিতা ছাপা হয় এবং অনেক প্রশংসা অর্জন করে ।
1827 সালে জন গ্রেন্ট, ডিরোজির কবিতা দেখে ডিরোজিও একটি কবিতার বই প্রকাশের জন্য ডিরোজিও কলকাতায় ফিরে আসতে বলেন । আসলেন ও তিনি কলকাতায় কবিতার বইও প্রকাশিত হলো । ডিরোজিও একটি সংবাদ পত্র প্রটাশ যার নাম, ক্যালকাটা গেজেট ।
![]() |
| এই সংবাদপত্রে প্রথম ছাপা হয় ডিরোজিওর কবিতা |
1826 সালে 17 বছরের বয়সে হিন্দু কলেজে বর্তমানে
( প্রেসিডেন্সি কলেজ )। ইংরেজি আর ইতিহাস শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন । ছাত্রদের মধ্যে ডিরোজিও অল্পদিনের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । মূলত ডিরোজিওর উদ্যগে, ডিরোজিও ও তার কিছু ছাত্র মিলে 1828 সালে, তারা একটি সংঘ প্রতিষ্টা করেন তার নাম ছিল অ্যাকাডেমিক ওফ অ্যাসোসিয়সন, এখানে সাহিত্য নিয়ে বিভিন্ন বির্তক সভা অনুষ্ঠিত হতো । এই সভাটি বসতো মানিকতলার একটি বাড়িতে, এখানে ছাত্রদের সাথে বিভিন্ন ইউরোপীয় ব্যাক্তিও যোগদান করতো ।
![]() |
| হিন্দু কলেজ |
ছাত্রদের মধ্যে নিশ্চই ভারতীয় ছাত্ররা থাকতো, কারণ অনেক ভারতীয়রা ছাত্ররা ডিরোজিও অনুপ্রেরণা অনুপ্রাণিত হয়েছিল । যখন ডিরোজিও সমাজ সংস্কারের মনপ্রাণ দিয়েছিলেন, কারণ সেই সময় সমাজে যথেষ্ট অশান্ত ছিল । বাংলা নবজাগরণের অন্যতম কান্ডারী রাজা রামমোহন রায়, তৈরি করেছিলেন ব্রাহ্ম সমাজ 1828 সালে । ডিরোজিও তার ছাত্রদের মধ্যে যুক্তি বাদী ও চিন্তা বাদী মন উস্কে দিয়েছিলেন তৎকালীন বাংলার সমাজ কে সংস্কার করতে । তবে এর জন্য তাকে অনেক ঝক্কি ঝামেলাও পোহাতে হয় । 1831 সালে হিন্দু কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয় ডিরোজিও কে । কিন্তু তার আন্দলন থামানো যায় নি, ডিরোজিও তার ছাত্রদের সঙ্গে সমাজ সংস্কারের জন্য বিভিন্ন কাজ করেন, শুধু বাংলা না তিনি এদেশে বসবাসকারী ইউরোপীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি আরো একটি পত্রিকা প্রকাশ করে 'দ্য ইস্ট ইন্ডিয়ান', এই সংবাদপত্রটি ছিল ইংরাজিতে । আর এই পত্রিকাটির সাংবাদিকরা ছিলেন তার ছাত্ররা । ডিরোজিওর ছাত্ররা ডিরোজিয়ান্স নামে পরিচিত ছিল । 1831 সালের মে মাসে কৃষ্ণমোহন বন্ধ্যোপাধ্যায় 'দি ইনকোয়ারার' নামে একটি ইংরাজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন । আবার পরের মাসেই, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও রসিককৃষ্ণ মল্লিক বাংলায় ও ইংরাজিতে, 'জ্ঞানান্বেষণ' নামে সংবাদপত্র প্রকাশ করেন ।
কিন্তু বাংলার নবজাগরণের অন্যতম কান্ডারী, ডিরোজিওর বাড়ি কোথায় ? জানা যায় ডিরোজিও 155 নম্বর লোয়ার সার্কুলার রোডে এখন যে বাড়িটি দেখা যায় সেটি ছিল ডিরোজিওর বাড়ি, এই বাড়ি টি ছিল আসলে ডিরোজিওর বাবার বাড়ি । তবে তখন এই বড়ির কত নম্বর ছিল, সেটা জানা যায় না । 1825 সালে
জে. কে. সকের কলকাতার একটি 'কলকাতা ও উপকন্ঠের নক্সা' একটি ম্যাপে এই বাড়িটিকে মি. ডিরোজিওর বাড়ি বলে উল্লেখ করা হয়েছে । তবে ডিরোজিওর পরিবার খুব অসুবিধায় পড়েছিল, সেই জন্য তাদের পরিচিত এক অ্যাংলো ইন্ডায়ানের কাছে বিক্রি করে দেয় । পরে জানা এই বড়ির মালিক হয়ে আসেন মিস্টার অ্যানড ডিক্রুজ ও তার ছেলে । এই অ্যানড ডিক্রুজ ছিলেন ভারত গভার্নমেন্ট হোম ডিপারমেন্টের তৎকালীন রেজিস্ট্রার । মজার ব্যাপার হলো ছেলে ও বাবার নাম কিন্তু একই । এরপর এই বাড়ির মালিক হন মেজর রাজচন্দ্র নামের এক বাঙালি । তিনি পেশায় চিকিৎসক ছিলেন, আরো ভালো ভাবে বললে তিনি ছিলেন শল্য চিকিৎসক । মেজর সাহেব মেডিকেল কলেজ অধ্যপনার সময় সস্ত্রিক এই বাড়িতে থাকতেন, তখন এই বাড়ির নম্বর ছিল 93 সার্কুলার রোড । মেজর রাজচন্দ্র স্ত্রী ছিলেন, ইংল্যান্ডের লর্ড হ্যাল্সবেরীর ভাগ্নী গিফার্ডকে, মানে এক কথায় ইংরেজ । এরপর এই বাড়ি ভাড়া নেয় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, নাম পি. ডাব্যলু. ফ্লিউরি কোম্পানি । এই কোম্পানির বিদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রর্দশনীর সাথে চলতো 'পরীর ফোয়ারা'র প্রর্দশনী। এই প্রর্দশনী গুলো দেখানো হতো এই বাড়ির সামনের মাঠে, 1884 সালে । 1904 সাল নাগাদ এই বাড়ির নম্বর বদলে হয় 155 নম্বর লোয়ার সার্কুলার রোড । বলে রাখা ভালো যে ডিরোজিও পরিবারের বাড়িটি মেরামত করেই কিন্তু চলছিল।
![]() |
| ডিরোজিওর বাড়ি |
এই বাড়িতে একসময় কলকাতার ছোট আদালতের বিচারপতি মিস্টার এ. হাসান থাকতেন । এরপর কিন্তু বাড়িটির অনেক মালিক বদল হয়েছে, এরপর 1907 সালে এই বাড়িটি কিনে নিন পটলডাঙার নগেন্দ্রনাথ বসুমল্লিক, তিনি ঠিক করেন বাড়িটি ভেঙে নতুন করে বাগান সহ একটি বাড়ি করবেন, যেমন কথা তেমন কাজ। নতুন বাড়ি তৈরির দায়িত্ব পড়লো মার্টিন কোম্পানির কাছে , দুলক্ষ্য টাকা খরচ করে তৈরি হলো সেই নতুন বাড়ি নাম হলো, মিনার ।
![]() |
তবে ইনি এই বাড়ির শেষ মালিক নন, জানা যায়, ঋনের দায়ে ডুবে এই বাড়ি ছেড়ে দেন, নগেন্দ্রনাথ বসুমল্লিক । কয়েক বছর দিয়ে গঙ্গার অনেক জল বয়ে গেছে । এরপর 1916 সালের শেষে কিংবা 1917 সালের শুরুর দিকে বাগবাজারের গোকুল মিত্রের নাতি বিহারীলাল মিত্র ডিরোজিও পরিবার বাড়িটি কিনে নেন নিলামে । জানা যায় 1933 সালে 73 বছর বয়সে ঐ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিহারীলাল মিত্র । এরপর ঐ বাড়িটি বিহারীলাল মিত্র উত্তরসূরি কাছে চলে যায় । ডিরোজিওর ইয়ং বেঙ্গল দলের কথা না বললেই নয়, ইয়ং বেঙ্গল দলের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, প্যারিচাঁদ মিত্র, রাধানাথ শিকদার, হরচন্দ্র ঘোষ, শিবচন্দ্র দেব রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্ধ্যোপাধ্যায় ।
![]() |
| মৃত্যুর ১৫০ বছর স্মরণে ১৯৮১ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাড়ির সামনের ফুটপাথে একটি স্মৃতিফলক |
আগে বলেছিলাম না ডিরোজিওর বাড়ি কথা ঐ বাড়িটি এখন ঋত্বিক নার্সিং হোম ।
To India – My Native Land
My country! in thy day of glory past
A beauteous halo circled round thy brow,
And worshipped as a deity thou wast—
Where is that glory, where that reverence now?
Thy eagle pinion is chained down at last,
And grovelling in the lowly dust art thou:
Thy minstrel hath no wreath to weave for thee
Save the sad story of thy misery!—
Well–let me dive into the depths of time,
And bring from out the ages that have rolled
A few small fragments of those wrecks sublime,
Which human eyes may never more behold;
And let the guerdon of my labour be
My fallen country! one kind wish for thee!
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - wikipedia, কলিকাতা দর্পণ ২ : রাধারমন মিত্র
- Get link
- X
- Other Apps







Comments