কোহিনুর - Mountain of light

Koh - i - Noor 


 কোহিনুর বিশ্বের সবচেয়ে চরর্চিত হীরে । ইতিহাসের ঘেটে দেখা যায় যে গোলকুন্দায় পাওয়া যায়, ও অনেক হাত ঘুরে সেটি এখন ব্রিটেনে রানীর মুকুটে । কোহিনুর কিন্তু প্রথমে আসে আলাউদ্দিন খলিজর কাছে , কিন্তু এরপর পরপর খলজি বংশ ধ্বংস হয়ে যায় এরপর কোহীনূর কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না কোথাও, কোথায় গেল এই হীরেরটা তার কোন উল্লেখ নেই। এরপর মোগল সাম্রাজ্যের সূচনা হয় । পথে প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী হেরে যায় এবং ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের সূচনা ঘটে ইতিহাসবিদরা মনে করে বাবরের ছেলে হুমায়ুন আগ্রায় যায় এবং সেখানে এই হীরেটিকে দেখতে পায় এবং সেটা উপহার হিসেবে দেয়  বাবরকে । বাবরনামাতেই প্রথম  লিখিত উল্লেখ আছে এই হীরের , তবে এই হীরে নাম তখনও কোহিনূ্র হয়নি এই বলা হত বাবরের হীরে । 

বাবর 

এরপর বাবরের মৃত্যু হয় এবং মোগল সাম্রাজ্যে নতুন রাজা হয় হুমায়ুন কিন্তু হুমায়ুন রাজা হিসেবে বেশি বিখ্যাত হতে পারেনি কারণ বেশিরভাগ যুদ্ধই হেরে গেছে, এরপর দিল্লির সিংহাসনে বসেন শেরশাহ, মোগলরা ভারত ছাড়া হয় তবে বাবরের হীরে হুমায়ুন তার সাথেই নিয়ে গেছিল ভারত ছাড়ার সময় ইরানে । আবার পরবর্তী কালে যখন মোগলরা

দিল্লির সিংহাসনে বসে অর্থাৎ আকবরের সময় এই সময় কি মুঘলদের কাছেই হীরা ছিল কিনা তার কোন উল্লেখ নেই তবে শাহজাহানকে কোহিনুর উপহার দিয়েছিল ইরানি ব্যবসায়ী মীর জুমলা ।

ময়ূর সিংহাসন 


শাহজাহান তখন ময়ূর সিংহাসনে এই হীরেটি ( দুটি ময়ূরের মধ্যে একটি ময়ূরের চোখে ) লাগিয়েছিল, তবে অনেকের মতে মোগলরা সাদা হিরের থেকে চুনি পান্নাতে বেশি বিশ্বাস করত ( বিতর্ক আছে )  এবং সেগুলোই ইউজ করত । এরপর আসলো আওরঙ্গজেবের পালা ,  আওরঙ্গজেব নাকি এক জহুরীকে এই হীরে টাকে আরো সুন্দর করে তোলার জন্য বলেছিল কিন্তু সেই জহুরী এতটাই বাজে কাজ করলো আর ওজন কমিয়ে দিয়েছিলে বাবরের হীরেরে । 

যা হয় বাদশাহ কথা অমান্য হয়েছে বাদশাহ তো শাস্তি দেবেই । এরপর মুগলদের হীরে হাতে আসে মহম্মদ শাহ্ রঙ্গিলার কাছে , রঙ্গিলা মোগল সাম্রাজ্য কে ধরে রাখতে পারেনি আস্তে আস্তে অন্যান্য রাজ্যগুলো একে একে স্বাধীন হচ্ছিল এই সময় পর্তুগিজ,  ডাচ্ এবং ইংরেজরা ভারতে আসতে থাকে । এরপর ভারতে উপর নজর পরে নাদির শাহ এর, উদ্দেশ্যে লুটপাট তখনই নজর পরে বাবরের হীরে উপর।

নাদীর সাহ্ 


বাবরের হীরের দেখেই ফার্সিতে যেই কথাগুলি বেরোয় সেগুলি হল "কোহিনুর" মানে আলোর পাহাড় । এরপর কোহীনূর মালিক হয় , সূজা শাহ্ দূরানী । কাশ্মীরের রাজা আতা মহম্মদ  সূজা শাহ্ দূরানী  আটকে রেখেছিল 

মহারাজা রঞ্জিত সিংহ 

মহারাজা রঞ্জিত সিংহের তাকে ছাড়িয়ে আনেন আশ্রয়দেন তার ফল সরুপ সূজা শাহ্ দূরানী  তাকে কোহীনূর দেয় 1813 সালে (দেওয়া ইচ্ছে ছিল না কিন্তু বাধ্য হয়েছিল দিতে ) । কোহিনুর হাতে আসে এবং দূরানীর সাম্রাজ্য পুনঃ উদ্ধার করে "শের এ পাঞ্জাব" রঞ্জিত সিংহ । মনে রাখতে হবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কিন্তু আসতে ভারতে কে নিজের হাতের মূঠোয় করতে শুরু করেছে আর কোহিনুরের উপর নজর ও রাখছে । 

ছবি তে দেখানো হয়েছে 

 রঞ্জিত সিংহ ওনার বাহুবন্দে হীরে টা পরতেন । 1839 রঞ্জিত সিংহ মারা জান। তার ইচ্ছে ছিল কোহিনুর পুরীর মন্দির দান করবেন , কিন্তু যখন

ইংরেজরা এই ব্যাপারে জানতে পারলো তখন ইংরেজ পত্রিকা অনেক কিছু লিখেছিল এবং বলেছিল এখনি কোহিনুরকে নিয়ে নিতে ।

 রঞ্জিত সিংহের ছোট ছেলে দুলিপ সিংহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে একটি লাহোর ট্রিটি করে আর সেখানেই লেখা ছিল কোহিনুর হীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সারেন্ডার করেছে। কিন্তু যদ্ধু যখন হল না তাহলে সেরেন্ভারের কথা আসছে কথা থেকে ? আর তখন সেই ছেলের বয়স দশ বছর, তার আগে অবশ্য দুলিপ সিংহের মা কে অর্থাৎ মহারানী জি্ন্দল কৌর কে ডালহুসি আটকে রাখে । বোঝাই যাচ্ছে ইচ্ছে করেই আটকে রাখা হয়েছিল।

দুলিপ সিংহ 


15 বছরে দুলিপ কে লর্ড ডালহুসি লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছিল এবং দুলিপ কে এক ইংরেজ পরিবার দত্তক নিয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনা ডালহুসির 1854 সালে দুলিপ বাকিংহাম প্যালেসে আবার কোহিনুর দেখার সুযোগ পায় এবং মহারানীকে বলেন '"IT IS TO ME, MA'AM, THE GREATEST PLEASURE TO HAVE THE OPPORTUNITY AS A LOYAL SUBJECT, OF MYSELF TENDERING TO MY SOVEREIGN THE KOH-I-NOOR"

পরে অবশ্য দুলিপ সিংহ ইংরেজ বিরোধী হয়ে ওঠে, জার্মানি সহায্যনিতে চায় কিন্তু সফল হয়না ‌। 55 বয়সে প্যারিসে মারা জান দিলিপ সিংহ । কোহিনুর সাথে কিন্তু অভিশাপ যড়িয়ে ছিল কারণ যার যার হাতে কোহীনূর গেছে সবার অঘটন ঘটে , 

ব্রিটিশরা সেটা জানতো সেই জন্য কোনো ইংরেজ রাজা এই হীরে ব্যাবহার করেনি । 1851 সালে লন্ডনে একটি মেলা হয় সেখানে প্রথম জনসমক্ষে কোহিনুর আনা হয় কিন্তু হীরে কে কেউ পাত্তাই দিল না। 13 June 1851 সালে The Times এ লেখা হয়েছিল 

"After all the work which has been made about that celebrated diamond our readers will be rather surprised to hear that many people find a difficulty in bringing themselves to believe, from its external appearance, that it is anything but a piece of common glass." 

এখানেই হয় সেই মেলা 

সবাই প্রথমবার দেখলো কহীনূর কে 
মেলায় কোহীনূর






প্রিন্স এলর্বাট মনে মনে ভাবল এত দামি হীরেকে কেউ মন দিয়ে দেখল না, তালে কি করা যায় ঠিক করলো  আরো পালিস করেতে হবে হীরেটিকে যার ফলে  আলো  আরো ভালোভাবে বের হয় কিন্তু এজন্য কোহিনূরের ওজন কমে গেল 186 ক্যারেট থেকে হয়ে গেল 105.6 ক্যারেট । 

 

কোহিনুর যা ছিল আর যা হলো 

কোহিনুর অভিশাপের ভয়ে

ব্রিটিশ রাজাদের বদলে রানীর মুকুটে যায়গা পায় কোহিনুর। প্রথম রানী এলেকজ্ন্দ্রা, তারপর রানী মেরী আর এখন রানী এলিজাবেথ মুকুটে আছে কোহিনুর ।

 তবে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর মৃত্যুর পর রাজা জর্জ তৃতীয় পাবে কি কোহিনুর ? নাকি রানী ক্যামেলিয়ার হবে কোহিনুর ! 

ছবি সূত্র - Internet

তথ্য সূত্র - 1 https://amp.theguardian.com/commentisfree/2016/feb/16/koh-i-noor-diamond-britain-illegally-india-pakistan-afghanistan-history-tower

 2 https://www.thenewsminute.com/article/india-and-legacy-kohinoor-diamond-five-things-know-31211?amp

  3 https://www.thehindu.com/features/friday-review/Kohinoor-the-mountain-of-light/article14475983.ece 4 https://www.ft.com/content/0f17f436-5089-11e7-bfb8-997009366969 5 https://www.smithsonianmag.com/history/true-story-koh-i-noor-diamondand-why-british-wont-give-it-back-180964660/

Koh-i-Noor: The History of the World's Most Infamous Diamond

Book by William Dalrymple


 


Comments