আমাদের কলকাতা তথা ক্যালকাটা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের স্থানে বিভিন্ন রকমের কাজ বা বলা ভালো কাজ করেছে। তবে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় অনেক ঐতিহাসিক ভবন আছে যা তৈরি করেছিল ব্রিটিশ সরকার। সেইগুলো তে যতটা ভালো আছে সেই গুলো তে এখন সরকারি ভবন বা আধাসরকারি ভবন হিসেবে কাজ করে। আমাদের কলকাতার অন্যতম প্রধান রাস্তা এস এন ব্যানার্জি রোডে দাঁড়িয়ে আছে ফুতানি ভবন রয়েছে, হ্যাঁ ভবন টা খুই বাজে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভবন টি তৈরি হয়েছে 3.125 একর জমির উপর, এখানে ঠিক ভাবে বলা হয় যে সময়ের সাথে বাড়িটির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই জমিটা রানী রাসমনির আয়ত্বে ছিল, কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না যার ফলে জমিটি ব্রিটিশ সরকার নিজের হাতে তুলে নেয়, এবং সেটি হয়ে যায় ব্রিটিশ মিউনিসিপ্যালিটির অন্তগর্ত। এরপর স্বাধীনতা এল ভারতবর্ষ স্বাধীনতা দিবস পালন করলো, জানা যায় ব্রিটিশ শাসিত মিউনিসিপ্যাল কোর্পেরসন এই বিল্ডিং টা বিক্রি করে দেয় তাও আবার নিরান্নবিই বছরের জন্য হিন্দুস্থান ইন্সুরেন্স কোম্পানী কে। এর পর্বতিকালে এই কোম্পানি টি উঠে গিয়ে এখানে তৈরি হয় LIC, অর্থাৎ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি 1956 সালের পয়লা সেপ্টেম্বর। ফুতনানিদের মালিকানাধীন মুরলিমল সান্তরাম অ্যান্ড কোং-কে উপ-ইজারা দেয়। ফুতনানিরা পরবর্তীকালে সম্পত্তিটির নাম পরিবর্তন করে ফুতনানি চেম্বার্স রাখে এবং 120 জন ভাড়াটিয়ার কাছে তা ভাড়া দেয়। সেই 120 জন ভাড়াটিয়ার মধ্যে একজন ছিলেন নিশিকান্ত বসু নামে এক ডাক্তার, যিনি তাঁর স্ত্রী হেমলতা ও ছেলের সঙ্গে সেখানে তিন বছর ছিলেন। অনেক পরে, তাঁর ছেলে জ্যোতি বসু 1977 থেকে 2000 সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেকে ভাবতেই পারিনি এইরকম হয়েছে, শুধু তাই নয় জ্যোতি বসু কে প্রধানমন্ত্রী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তথাকথিত রাজনৈতিক দল গুলি বিশেষ করে জ্যোতি বসু দল তাকে করতে চাননি! সেই বিষয়ে অন্য একদিন আবার কথা বলা যাবে। 1940 থেকে 1950 দশকে ফুতনানি চেম্বার্স ভালোই চলছিল এমনকি এ বাড়িতে তারা একটি হোটেলে খোলেন, যার নাম ছিল রৌনক। কিন্তু সত্তোর এর দশক থেকে এই হোটেলে জৌলুস কমতে থাকে, তবে এই হোটেল একটি গান খুব জমকালো হয়েছিল সেট হলো ড্যাডি মাজদা। এই হোটেল টা ততদিনে নাইট ক্লাবে পরিনত হয়েছিল, এই সময় এর নাম ছিল গোল্ডেন স্লিপার্স, এর পরিচালনা করতেন মাজদা সাহেব, আর ওটা গান নাম ছিল ড্যাডি মাজদা। প্রথমে এটি বার হিসেবে পরিচালিত ছিল, কিন্তু নব্বই এর দশকে এটি ফ্যামেলি রেস্টুরেন্ট হিসেবে পরিচিত হলো। তবে এই বারটার বেশী পরিচিত ছিল এর নামে এর নাম ছিল প্যারিস বার। সেই সময় এটি ছিল বাঙালি রেস্তোরাঁ অন্যতম, এবং সেই সময়ের অন্যতম বার রেস্তোরাঁ। এখন অনেকে দাবি করবেন বার আর রেস্তোরাঁ আলাদা কোথায়, কিন্তু কোন ভাবেই আলাদা করা যায় না এখন সবজায়গায় এই রকম চলছে। তবে 1947 সালের আগস্ট মাসের 15 তারিখে এই জায়গাটি আমিনিয়া হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে এটি হয়ে যায় আমিনিয়ার বিখ্যাত রেস্তোরাঁ। এর পরবর্তী সময়ে এই বাড়িটায় অনেক কিছু হয়েছিল, কারণ এইখানে ঘর ভাড়া পাওয়া যায়, তবে ঘর ভাড়া দেওয়া কোনো প্রতিষ্ঠান কে। যেমন অবিন্দরনাথ ঠাকুরের Indian Society of Oriental Art. এছাড়া এখানে বাটা প্রতিষ্ঠান কাজের ঘর। কিন্তু 2019 সালে এটি ছাড়তে বাধ্য হয় কারণ ভবনটি সম্পুর্ণ ভাবে জরাজীর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো বাড়ি টি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে, এমনকি উপরের দেওয়াল থেকে গাছ কিছু অংশ বেরিয়ে গেছে শুধু তাই নয় বাড়িটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরে গেছে এমনকি কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটির ভাবনা হচ্ছে কোনদিন ফেটে পড়ে মানুষের মাথার উপর, কারণ জায়গাটি মূল রাস্তার উপর। মেট্রো রেল অধিগ্রহণের নোটিশ জারি, স্টিলের ঠেকনা দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঠেকনা দেওয়া, ভিত্তি মজবুত করা, অনিরাপদ বারান্দা ভেঙে ফেলা এবং ছাদের ক্ষতি মেরামত করার মতো পদক্ষেপ নিলেও, তহবিল, ভাড়াটে সংক্রান্ত সমস্যা বা দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট যেকোনো বিলম্ব ফুতনানি চেম্বারসকে একটি ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া থেকে আটকাতে পারবে না। এই ভাবে এখনো কোনো ভাবে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি ।
ছবি সূত্র - internet

Comments