![]() |
| হেনরি মার্টিন |
আমাদের ভারতের তথা কলকাতায় ব্রিটিশদের আনাগোনা ছিলই তার সঙ্গে ব্রিটিশদের বিভিন্ন লোক কলকাতা আসে তার মধ্যে শ্রীরামপুর ছিল অন্যতম অংশ। কিন্তু কথা হচ্ছে যে শ্রীরামপুর ছিল তৎকালীন চন্দনগরে অংশ কারণ সেই সময় চন্দনগর ছিল ফরাসিদের। এর জন্য ব্রিটিশদের চন্দনগরে কোনো কাজ করতে হলে ফরাসিদের সাথে কথা বলতে হতো। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের ছিল দুটি রাজত্ব কিন্তু ব্রিটিশদের রাজত্ব ছিল বেশি। তবে এই শ্রীরামপুর ঠিক ভাবে ফরাসিদের না হয়ে ছিল ডেকানদের রাজত্ব। এই রজত্বের নাম ছিল ফ্রেডিকনগর এর নাম হয়েছিল ডেনমার্কের রাজা পাঁচ ফ্রেকডিক, আর এই নাম দেওয়া হয় 1757 সালে। উল্লেখ্য যে তখনো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের শাসন ভার নিতে পারেনি। এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো, এই শ্রীরামপুর অঞ্চলে একটি জায়গা যার নাম ছত্র সেখানে একজনের নাম ছিল রুদ্ররাম তিনি তার মামার সঙ্গে এই খানে আসেন এবং ধ্যানে বসে। সেই ধ্যানের মধ্যে তিনি দেখতে পান রাধাবল্লভ তাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তৎকালীন বাংলার রাজধানী গৌড় গিয়ে তাকে একটি কালো পাথর আনতে হবে আর সেই কালো পাথর রয়েছে তৎকালীন ভাইসরয় এর বাড়িতে। সেই কথা শুনে তৎখনাৎ রুদ্ররাম গৌড়ে পৌছান এবং দেখেন যে কালো পাথর যার হাতে রয়েছে তিনি একজন হিন্দু। হিন্দু ধর্মের কথা উল্লেখ করলাম কারণ সেই ঐ অঞ্চলের বহু মানুষ ছিলেন বিভিন্ন ধর্মের সম্পিকিত, এই কথা বিভিন্ন মানুষের কথা তাই উল্লেখ করলাম। আবার আসল কথায় আসি রুদ্ররাম সেই পাথর নিয়ে আসে এবং ঐ অঞ্চলের কিংবদন্তি অনুযায়ী পাথর টি নদীতে পড়ে যায় এবং সেই অনুযায়ী পাথর টি সরাসরি বল্লভপুর ঘাটে চলে আসে। তবে এখনকার সময়ে দেখতে গেলে দেখা যায় মন্দির টি নাকি মল্লিকদের তৈরি, তারা এখনো পৃষ্ঠা পোষকতা মন্দির টি এখন চলছে এবং মূল মুর্তি রুদ্ররাম ওখানে রয়েছে তবে পুরোনো মন্দির টির এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে, নেই আছে ভালো অবস্থায়।
![]() |
| সেই মন্দির |
কিন্তু তার আগে মন্দির টি এমন ছিল না, আলি বর্ধিত খাঁ ফরমান জারি করেন যে সব ডেনিয়রা শ্রীরামপুর চলে আসবে, তখন সলটা 1755 এরপর তিন বন্ধু শ্রীরামপুর চলে আসেন। এর একটু অন্য কথা বলবো কারণ এখনো এই মার্টিন সাহেব তার কথা জানি না, এখন বলতেই পারে যে এতক্ষণ কী পড়লাম! আসলে এতোক্ষণ ঐ অংশটা বলা হয়নি, এই মার্টিন সাহেব জন্মগ্রহণ করেন 1781 সালের ফেব্রুয়ারি মাসের 18 তারিখে, তিনি ছিলেন একজন অ্যাংলিকান ( সম্ভবত এটি একটি ধর্ম প্রচারের অংশ ) উনি 1806 সালে কলকাতা আসেন তিনি এসেছিলেন ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ থেকে ইউনিয়ন জাহাজে। উল্লেখ্য যে নয় মাস লেগেছিল ভারতে আসতে, ভারত থেকে তিনি কলকাতা পৌঁছান উপরুক্ত সালে, সেই সময় তার পরিচয় হয় উইলিয়াম কেরি ও উইলিয়াম ওয়ার্ড সাথে। এইবার দেখা যাচ্ছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোনো ভাবেই মিশনারিদের ভালো চোখে দেখতে না এমনকি তাদের বিভিন্ন ভয় দেখাতেন যাতে তারা ভারত তথা কলকাতা থেকে চলে যায়। কারণ তাদের ভয় ছিল যদি তারা তথাকথিত কলকাতাবাসীদের শিক্ষিত করেদেয় তাহলে তাদের অসুবিধা হবে আর যদি তারা খ্রিস্টান করে দেয় তাহলে সবর্নাস! তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল স্যার জর্জ বারলোও আশংকা করেছিলেন যে যদি এই উল্লেখ্য ধর্মিয় জ্ঞান যদি আমাদের বাংলা বা সংস্কৃতিক ভাষায় উল্লেখ করা হয় তাহলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসন চলে যাবে শুধু তাই নয় ভবিষ্যতে অসুবিধা প্রচুর হবে। মার্টিন সাহেব কে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পাঠিয়েছিলেন, তাদের সৈন ও ব্রিটিশ মানুষ দের সুখ সবিধা মানে তাদের মধ্যে সুবাচ্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এরপরই হেনরি মার্টিনকে শ্রীরামপুরে যাওয়ার অনুরোধ করেন ডেভিড ব্রাউন আর সেখানে ছিল ব্যাপটিস্ট মিশন অন্যতম ত্রয়ী অর্থাৎ উইলিয়াম কেরি, উইলিয়াম ওয়ার্ড এবং জোশুয়া মার্শম্যানের একটি ঘাঁটি ছিল। তিনি সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করেছিলেন। এর পরবর্তী কালে অক্টোবর মাসে মার্টিন সাহেব একটি বড়ো নৌকা করে হুগলি নদী তে ভাসতেন থাকেন এবং দানাপুর যান, কারণ এখানে অনেক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সৈনিক ছিলেন, এবং সেখানে তারা মার্টিন সাহেব কে আরো ভালো ভাবে কাজকর্মে জন্য উৎসাহিত করেন। কিন্তু তিনি বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য অসুস্থ হয়ে জান এবং 31 বছর বয়সে 1812 সালে 16 অক্টোবর এখনকার তুর্কিতে মৃত্যু বরণ করেন।
![]() |
| ছবিতে সেই সাহেব |
কিন্তু এখন অব্দি তার মন্দির কী হলো সে নিয়ে কথা বলিনি, এবার বলছি শুনুন কলকাতায় আসার পর ডেভিড ব্রাউন সাথে মার্টিন সাহেব আরো ভালো ভাবে আলাপ হয়, একদিন ব্রাউন সাহেব বললেন যে তার বাড়িতে আসার কথা গেলেন ও মার্টিন সাহেব এবং সেখানে তিনি দেখলেন তৎকালীন বাংলার মন্দির মত একটি যায়গা, তিনি ব্রাউন সাহেব কে জিজ্ঞেস করলেন এবং জানতে পারলেন যে অলডিন হাউস নামে একটি বাড়ি আছে। মার্টিন সাহেব জানান তিনি ওখানে থাকতে চান! ব্রাউন সাহেব ও কোনো আপত্তি করেনি, সেই সময় মার্টিন সাহেব ওখানে থাকেন এবং বিভিন্ন রিতী নীতি সম্পর্কে জানতে শুরু করেন, তিনি সতীদাহ প্রথার সাক্ষী হয়ে ছিলেন কিন্তু তিনি বারবার বলেছিলেন এই ঘটনা কোনো ধর্ম সমর্থন করে না! কিন্তু তার কথা তৎকালীন পন্ডিত শোনেনি।
![]() |
| সেই মন্দির যেখানে সাহেব থাকতেন এখন আছে ভালো অবস্থায় |
মার্টিন সাহেব কে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সৈনিকের সুপরামর্শ দেওয়ার কাজের জন্য ডেকে পাঠান। তার যাওয়া আগে তিনি ডেভিড ব্রাউন ও কয়েকজন সাহেব পরামর্শ করেন ঠিক দানাপুর যাওয়ার আগে। এরপর ঐ মন্দির টি এখন রয়েছে বা বলা ভালো আমাদের এই এখনো উইলিয়াম মার্টিন এর বাড়ি বা বলা ভালো মন্দির এখনো রয়েছে। তবে হ্যাঁ এখন ওখানে গেলে দেখতে নতুন রঙ করেছে তবে এখন আর রক্ষনাবেক্ষণ করা হয় না, তবে এটাই ভালো যে এই মন্দির তথা মার্টিন সাহেবর বাড়ি কে ভেঙে দিতে পারেনি।
ছবি সূত্র - internet
তথ্য সূত্র - Henry Martin’s Pagoda – Kinjal Bose https://share.google/Hp5q4VfeyD1HTU0Z8




Comments