কলকাতার কেল্লা

 আমাদের কলকাতা ছিল একসময় ভারতের রাজধানী। সেটা করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, তারাই কলকাতাকে ভারতের রাজধানী করেছিল পরে অবশ্য ব্রিটিশ সরকার দিল্লি কে ভারতের রাজধানী করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিন্তু ভারতের কলকাতা তে নিজেদের একটি জায়গা করে তোলে তারা এসেছিল ব্যবসা করতে কিন্তু পরবর্তীতে ভারত কে নিজেদের একটি উপনিবেশিক রাষ্ট্র করে তোলে। কলকাতা কিন্তু আমরা বিশেষ কোনো কেল্লা দেখতে পায়না, কিন্তু বজবজ রয়েছে একটি কেল্লা, সেটা তৈরি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

লাল গোলাকার দাগের মধ্যে ছিল কেল্লা 


 এই ব্রিটিশরা তাদের কোম্পানিকে বাংলা থেকে সারাদেশে ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ব্রিটিশদের প্রতি খুশি ছিল না এমনকি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কার্যকলাপ দেখে অধৈর্য হয়ে উঠেছিলেন। কলকাতা এবং তার আসেপাশের কোম্পানি ব্যবসা করছে যার ফলে তার কর এবং রাজস্ব দুটোই নিচ্ছে এছাড়া নবাব এর কাছ থেকে অনেক আসামী দুরে সরিয়ে রাখছে আর অনেক তো হাতের বায়রে করে দিয়েছে এই কোম্পানি। এর ফলে কলকাতা আক্রমণ করে সিরাজউদ্দৌলা। তিনি ফোর্ট উইলিয়ামের প্রাসাদ ভেঙে দিয়েছিলেন, এবং কলকাতার নতুন নামকরণ করেন আলিনগর। 1756 সালে ব্রিটিশদের বাঁচতে এবং সিরাজউদ্দৌলা কে লেফটেন্যান্ট ক্লাইভ জাহাজে করে ফলতায় আসেন। 

রর্বাট ক্লাইভ 


এই ফলতায় ক্লাইভ মেজর কিলপ্যাট্রিকের সঙ্গে দেখা করেন, সেই সঙ্গে জানতে পারেন কলকাতার পতনের কথা। ফলতায় সিরাজউদ্দৌলা বাহিনী বজবজের কেল্লাকে নিজেদের আয়ত্তে আনেন, একই সঙ্গে এখানে একটি বাহিনী রেখে জান বজবজের কেল্লাকে পাহারা দেওয়ার জন্য কিন্তু ক্লাইভের নেতৃত্বে বজবজের কেল্লাকে নিজেদের করে নেন এবং এটি ছিল কলকাতাকে পুনরুদ্ধার করার প্রথম পদক্ষেপ। এর পর মানে 1757 সালের 1 জানুয়ারি ক্লাইভের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী ফোর্ট মাকওয়া তানা দখল করতে সক্ষম হয় আর নদীর বিপরীত দিকের বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় কারণ নবাবের সেনাবাহিনীর পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল এবং 2 জানুয়ারি ফোর্ট উইলিয়াম দখল করে নেয় ক্লাইভের বাহিনী। দুর্গটি এখনো দেখা যেত, কিন্তু ফোর্ট উইলিয়ামের নির্দেশে এই কেল্লা গুলিকে ভেঙে ফেলা হয়। কেল্লা গুলিকে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল লর্ড কর্ওনয়ালিস ফেব্রুয়ারি মাসের 22 তারিখে আর সাল টা ছিল 1793. তবে ভেঙে ফেলা হলেও হয়তো এখন কিছু কেল্লার অংশ দেখা যায়। কর্ওনয়ালিস কাছে কোনো অর্থ ছিল না এই কেল্লা গুলিকে রেখে দেওয়ার,তাঁর মতে প্রতিরক্ষামূলকভাবে এটি কোনও কাজে আসবে না এবং সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণও কোনও কাজে আসবে না, তাই সম্পত্তিটি রাজস্ব বোর্ডের কাছে হস্তান্তরের পরে বিক্রি করাই ভালো। দেয়াল ভেঙে ফেলা হয় এবং কামান ও বন্দুকগুলি ফোর্ট উইলিয়ামে স্থানান্তরিত করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সরকার জমিটি বেসরকারি পক্ষের কাছে বিক্রি করবে। দুর্গোটি ভেঙে ফেলা হয়েছে কিন্তু তার পরিখা এখন রয়েছে, এই পরিখা গুলি নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এখন কেল্লাটা যেখানে অবস্থান করতো তার পাশে রয়েছে বজবজ জুট মিল। কেল্লাটির একটি ইট দেখা না গেলেও পরিখা গুলি এখন দেখা যায়। এরপর রবার্ট ক্লাইভ ফোর্ট মাকওয়া তানা দখল করে, এটি যখন দখল করা হয় তখন ফোর্ট উইলিয়াম ঠিক আগে নদীর সবচেয়ে সরু অংশে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সাধারণ ভাবে উল্লেখ করা মেটিয়াবুরুজের এটি অংশ ছিল। এখানে এই অঞ্চলের পূর্ববর্তী মুসলিম শাসকদের দ্বারা নির্মিত মাটির দুর্গের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 

রক্সবার্গের বাড়ি 


আরও জানা গেছে যে আজকে বোটানিক্যাল গার্ডেন অবস্থান করছে, সেই বাগানের মাকওয়া তানা অবস্থান করতো যেখানে আজকে দেখাযাচ্ছে অবস্থান করছে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সুপারিনটেনডেন্ট বাংলো। সেই সময়ের বিখ্যাত বোটানিস্ট উইলিয়াম রক্সবার্গের সাহায্যে এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে গড়ে উঠেছে, এমনকি এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে উইলিয়াম রক্সবার্গের বসত বাড়ি তৈরি হয়েছিল।


 তবে এখন সেটা রয়েছে ঐ বোটানিক্যাল গার্ডেনের মধ্যেই আর ঐ মাঠেই মাকওয়া তানা তৈরি হয়েছিল একসময়। জলদস্যুদের আকস্মিক আক্রমণ থামাতে হুগলি নদীর ওপারে দুর্গ মাকওয়া তানা এবং কাদা দুর্গে একটি বড় লোহার শিকল স্থাপন করা হত। তবে এই কেল্লা গুলি আর নেই, কিন্তু এখনো রয়েছে মানুষ মনে রেখেছে এই কেল্লা গুলির কথা।

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - Robert Clive: The nabob general | National Army Museum https://share.google/TCkG9kIO67PnTqwTj

Location of Fort Budge Budge Archives - Indian Vagabond https://share.google/MRFDpKSrWR6JxGRTj

Comments