ক্লাইভের বাড়ি

ক্লাইভের বাড়ি 

 

আমাদের ভারতবর্ষের ব্রিটিশরা কিন্তু আমাদের কলকাতাকে রাজধানী তৈরি করেছিল এবং অনেক দিন কলকাতাই ছিল ব্রিটিশদের রাজধানী। কিন্তু পরবর্তীতে ব্রিটিশ রাজধানী স্থানান্তর করে। ব্রিটিশরা কলকাতা থাকাকালীন নিজের অনেক বাড়ি তৈরি করেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ক্লাইভের বাড়ি বলা ভালো ক্লাইভ হাউস। রবার্ট ক্লাইভ 1756 সালে কলকাতা আসেন চেন্নাই থেকে জাহাজে করে, তিনি তার জাহাজ থেকে বজবজ নামেন কিন্তু কোন জায়গায় নেমেছিলেন সেটা এখনও জানা যায়নি। সেই সময় বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা সাথে দুরত্ব বাড়তে থাকে ক্লাইভ সাহেবের। এখানে উল্লেখ্য যে সেই সময় ক্লাইভ যেই বাড়িতে থাকতেন সেটা কলকাতার পুরনো বাড়ির মধ্যে একটা। অর্থাৎ ক্লাইভ হাউস, এটি এখনকার দমদমের উঁচু জায়গায় ঢিপির উপর তৈরি হয়েছিল। 

রবার্ট ক্লাইভ 

সিরাজদ্দৌলার বাহিনী যখন কলকাতায় ব্রিটিশদের দমন করে পিছু হটচ্ছিল এবং ব্রিটিশ দমন করে করে শিয়ালদহ তে তার একটি ক্যাম করেছিল সেনাবাহিনীর জন্য। এমনকি সেই সময় আজকে আমরা যাকে ক্লাইভ হাউস বলছি সেটাও সিরাজউদ্দৌলার দখলে ছিল, শুধু তাই নয় ক্লাইভ লক্ষ্য করে ছিলেন যে এই বাড়িটি তার উপযুক্ত এবং এই বাড়িটি তাঁকে সিরাজউদ্দৌলার হাত থেকে বাঁচতে হবে। ক্লাইভ যখন এই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন তখন তিনি আরও একটি তালা তৈরি করেন, অর্থাৎ বাড়িটিকে তিনি দোতলা বাড়ি বানান। অন্যদিকে এই বাড়িটি ছিল রায়চৌধুরীদের তারাই এই বাড়িটি দিয়েছিলেন ক্লাইভ কে থাকার জন্যে। ক্লাইভ এই বাড়িটি তে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলেন, বাড়িটির নিরাপত্তার পাশাপাশি বাড়িটির ভিত্তির স্থায়িত্বও জোরদার করা হয়েছিল। এটিকে একটি খুব আরামদায়ক বাসস্থান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অতিরিক্ত কক্ষও তৈরি করে ছিলেন ক্লাইভ। বাড়ির কাঠামো বৃদ্ধির পাশাপাশি তিনি সম্পত্তির চারপাশে বাগানও তৈরি করেছিলেন। সেই সময় দমদম কিন্তু শহরের সীমানার বাইরে ছিল, কিন্তু এই বাড়িটির পরিবেশ টা পছন্দ হয়েছিল ক্লাইভের তাই এখানে তিনি থেকে জান। শুধু তাই নয় ক্লাইভ দুবার ভারতে এসেছিলেন এবং দুবার তিনি এই বাড়িতে থেকে ছিলেন 1757 থেকে 1760 আর 1765 থেকে 1767. দুবারই ক্লাইভ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তে চাকরি করছিলেন। ক্লাইভ যখন পুরো পুরি বাড়িটা থেকে চলে যান, 1774 ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই বাড়িটি বিক্রি জন্য কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। পরবর্তী কালে দেখা যায় 1880 সাল নাগাদ এই বাড়িটি ব্রিটিশ সরকার মেজিস্টের বাড়ি হিসেবে দেখিয়েছে। এরপর এই বাড়িটি কিনেছিলেন মতি লাল শীল নামের একজন ব্যবসায়ী। সেই সময় ব্যবসায়ী হিসেবে এনার খুব নাম হয়েছিল কলকাতায়, তবে জানা যায় এই বাড়িটি তার বাবা কিনেছিলেন। তবে এই বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন নি। তবে মতিলাল শীল অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন তখনকার কলকাতায়, তিনি কলেজ, স্কুল, স্নান করার জন্য ঘাট তৈরি করেন। পরবর্তী কালে ব্রিটিশরা এই বাড়িটি কে ক্লাইভ হাউস নাম দিয়েছিলেন এবং উপরুক্ত নামের একটি মার্বেল পাথরের ফলক তৈরি হয়েছিল তবে এখন সেটা আর পাওয়া যায় না।

1850 এ ক্লাইভের বাড়ি 


 এরপর দেশ স্বাধীন হয় এবং রিফিউজি ক্যাম্পে তৈরি হয় বিভিন্ন জায়গায়, রিফিউজিরা এই বাড়িতে বসবাস করেছিল এবং কোনো মেরামত হয়নি বাড়িটির যার ফলে উপরতলা ধসে পড়ে, আর কোনো ঘর দেখতে পাওয়া যায় না। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ, বিশেষ করে কলকাতা অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কিছু কাজ কর্ম করেছে, তবে এখন কাজ চলছে বলে জানা যায়। কলকাতা এখন মনে রেখেছে ক্লাইভ এবং তার বাড়িটিকে।

ছবি সূত্র - internet 

তথ্য সূত্র - Clive House | Free Clive House: Calcutta’s oldest structure strangled by encroachment - Telegraph India https://www.telegraphindia.com/amp/west-bengal/kolkata/free-clive-house-calcuttas-oldest-structure-strangled-by-encroachment-prnt/cid/2118111

Comments